গুগল ফটোসের নতুন নীতিমালায় কী আছে

নির্ভাবনায় যারা গুগল ফটোসে ছবি রাখেন, তাদেরকে অনেক আগেই দুঃসংবাদ দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। কারণ ১ জুন থেকে গুগল ফটোসে আনলিমিটেড স্টোরেজ সুবিধা থাকছে না। ওই দিনটি থেকে ছবি ও ভিডিও রাখার জন্য শুধু ১৫ গিগাবাইট স্টোরেজ বিনামূল্যে পাওয়া যাবে।
সম্প্রতি গ্রাহকদের নোটিফিকেশনের মাধ্যমে পুনরায় মনে করিয়ে দিয়েছে গুগল। এও জানিয়েছে যে, নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি স্টোরিজ ব্যবহার করতে চাইলে বাড়তি ফি গুনতে হবে।

গুগল ফটোজের নতুন নীতিমালায় স্টোরেজ ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত তথ্যগুলো জেনে নেয়া যায়-

* যেসব গ্রাহক জুনের আগেই উচ্চমানের ছবি-ভিডিও ব্যাকআপ নিয়ে রেখেছেন, সেগুলো নতুন নীতিমালার আওতামুক্ত থাকবে।

* ১ জুন থেকে নতুন করে আপলোড দিলে বা ব্যাকআপ নিতে গেলে স্টোরেজ সীমার নীতি প্রযোজ্য হবে।

* আপনি একটা নির্দিষ্ট সময়ে কী পরিমান ছবি-ভিডিও ব্যাকআপ রাখেন, তা জানে গুগল। সেক্ষেত্রে আপনার ৮০ শতাংশ স্টোরেজ পূর্ণ হতে কেমন সময় লাগবে, তা জানা যাবে গুগল ফটোজে।

* আপনার গুগল ফটোসে যখন শুধুমাত্র ২০ শতাংশ স্টোরেজ খালি থাকবে, তখন থেকে নোটিফিকেশন ও জিমেইলে বার্তা পাঠিয়ে জানিয়ে দেয়া হবে।

* গুগল ফটোসকে নতুন ভাবে সাজিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। বড় সাইজ ও অস্পষ্ট ছবিগুলোকে আলাদা করে দেখতে পারবেন এবং প্রয়োজনে মুছেও ফেলা যাবে।

* স্টোরেজ অপশন ব্যবহারকারীদের জন্য সহজ করে দেয়া হয়েছে। ছবির মান ঠিক রেখে ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণ আগের চেয়েও কার্যকর করা হয়েছে।

এক নিমিষে বন্ধ হবে মোবাইলে ‘বিরক্তিকর’ বার্তা

এ ধরনের বার্তা বন্ধ করতে একটি উপায় জানিয়েছে বিটিআরসি

মোবাইল অপারেটরগুলো গ্রাহকদের নতুন নতুন প্যাকেজ ও সেবা সম্পর্কে জানাতে খুদে বার্তা পাঠিয়ে থাকে। ঘন ঘন এমন বার্তায় বিরক্তিতে পড়েন অনেকেই। তবে এবার এ ধরনের বার্তা বন্ধ করতে একটি উপায় জানিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।

শনিবার (২৪ এপ্রিল) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ ধরনের খুদে বার্তা বন্ধের উপায় জানায় বিটিআরসি।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, খুদে বার্তা বন্ধ করতে “ডু নট ডিস্টার্ব বা ডিএনডি” সেবা চালু হয়েছে। প্রচারমূলক খুদে বার্তা না পেতে চাইলে ইউএসডিডি কোড ডায়াল করে চালু করা যাবে এ সেবা।

বিটিআরসি আরও জানায়, মোবাইল অপারেটরদের নিত্যনতুন সেবা সম্পর্কে জানতে বাণিজ্যিক প্রচারণামূলক খুদে বার্তা সহায়ক ভূমিকা পালন করে। তবে ক্ষেত্রবিশেষে গ্রাহকদের কাছে এ ধরনের খুদে বার্তা প্রাপ্তি বিরক্তিকর বলে প্রতীয়মান হয়।

যেভাবে বন্ধ হবে খুদে বার্তা

গ্রামীণফোনে *১২১ * ১১০১#, বাংলালিংকে *১২১*৮*৬#, এবং রবি ও এয়ারটেলের ক্ষেত্রে *৭# ডায়াল করলে বাণিজ্যিক প্রচারণামূলক খুদে বার্তা বন্ধ হয়ে যাবে। 

৩৮ লাখ বাংলাদেশির ফেসবুক তথ্য ফাঁস

ফেসবুক জানিয়েছে, ফাঁস হওয়া এসব তথ্যের মাধ্যমে বিপদে পড়তে পারেন ব্যবহারকারীরা

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ফেসবুকের ৩৮ লাখের বেশি ব্যবহারকারীর তথ্য ফাঁস হয়েছে। শুধু বাংলাদেশই নয় বিশ্বের অন্তত ১০০টি দেশের প্রায় ৫৩ কোটি ৩০ লাখেরও বেশি গ্রাহকের ফেসবুক তথ্য বেহাত হয়েছে। 

সংবাদমাধ্যম বিজনেস ইনসাইডারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বের ১০৬টি দেশের ফেসবুক ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হয়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ৩ কোটি ২০ লাখ, যুক্তরাজ্যের ১ কোটি ১০ লাখ এবং ভারতের ৬০ লাখেরও বেশি ফেসবুক ব্যবহারকারী তথ্য ফাঁসের তালিকায় রয়েছে।

অপরদিকে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আফগানিস্তানের ৫ লাখ ৫০ হাজার, অস্ট্রেলিয়ার ১২ লাখ, বাংলাদেশের ৩৮ লাখ, ব্রাজিলের ৮০ লাখ এবং ভারতের ৬১ লাখ ফেসবুক ব্যবহারকারীর তথ্য ফাঁস হয়েছে।

তথ্যগুলো ফাঁস করা হয়েছে একটি নিম্নমানের সাইবার নিরাপত্তা সংক্রান্ত ফোরামে। তথ্যের মধ্যে আছে ব্যবহারকারীর ফোন নম্বর, ফেসবুক আইডি, পুরো নাম, অবস্থান, জন্মতারিখ এবং জীবনবৃত্তান্ত। এমনকি ব্যবহারকারীদের ই-মেইল আইডি ফাঁস হওয়ার প্রমাণও মিলেছে।  

ফেসবুকের স্বীকারোক্তি, বিবৃতি

এদিকে, বিষয়ে সোমবার (৫ এপ্রিল) এ বিষয়ে একটি বিবৃতিও দিয়েছে ফেসবুক। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, ২০১৯ সালে তারা সমস্যাটি শনাক্ত করেছিল এবং তখনই তা সমাধান করা হয়েছে। 

বিবৃতিতে ফেসবুকের একজন মুখপাত্র বলেন, “এটি পুরানো তথ্য, এ সম্পর্কে ২০১৯ সালেই একটি প্রতিবেদন করা হয়েছিল। আমরা ২০১৯ সালের আগস্ট মাসে সমস্যাটি শনাক্ত করেছি এবং সেটি ঠিকও করেছি”, বলেন ফেসবুকের মুখপাত্র।

@dhakatribune.com

দারাজের নামে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে ম্যালওয়্যার

ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম দারাজের নাম ব্যবহার করে বেশ কয়েকটি মেসেঞ্জার অ্যাপ্লিকেশন জুড়ে বিভ্রান্তি তৈরি করছে “দারেজ” (Darez) নামের “ম্যালওয়্যার” বা ভাইরাসযুক্ত একটি সফটওয়্যার

জনপ্রিয় ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম দারাজের নাম ব্যবহার করে বেশ কয়েকটি মেসেঞ্জার অ্যাপ্লিকেশন জুড়ে বিভ্রান্তি তৈরি করছে “দারেজ” (Darez) নামের “ম্যালওয়্যার” বা ভাইরাসযুক্ত একটিসফটওয়্যার। 

“গিভিং গিফটস টু দারাজ সাপোর্টারস- ফ্রি গিফট ফর এভরিওয়ান” বা “দারেজ সমর্থকদের জন্য বিনামূল্যে উপহার” শিরোনামসহ একটি বিভ্রান্তিকর লিঙ্ক দারাজের প্রকৃত গ্রাহকদের ফেসবুক, ম্যাসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ, ভাইবারসহ অন্যান্য মেসেজিং অ্যাপগুলোর মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

লিঙ্কটিতে একবার ক্লিক করলেই তা সরাসরি হ্যাকারদের ওই ব্যক্তির ডিভাইসে অনুপ্রবেশ করতে এবং তার ছবি, পরিচিতি এবং ব্যক্তিগত সকল গোপনীয় তথ্য হাতিয়ে নিতে সাহায্য করছে। আর এই পুরো ঘটনাটি ঘটছে “দারাজ” এর পরিবর্তে “দারেজ” ব্র্যান্ডের পরিবর্তিত নাম ব্যবহার করে।

খালিদ আরাফাত নামে একজন হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারী শুক্রবার (১৬ এপ্রিল) ব্র্যান্ডের নাম বা শিরোনামের ভালোভাবে লক্ষ্য না করেই লিঙ্কটিতে ক্লিক করে ফেলেন।

“আমি ভেবেছিলাম এটা দারজের পাঠানো। কিন্তু লিঙ্কটি যখন স্বয়ংক্রিয়ভাবে আমার অন্যান্য পরিচিতি মানুষের ইনবক্সে চলে যায় তখন বুঝতে পারি আমি হ্যাকারদের আমার ফোনে অ্যাক্সেস দিয়ে দিয়েছি।”

ব্যবহারকারীরা কোনো সন্দেহ ছাড়া সঠিক বানান লক্ষ্য না করেই হ্যাকাররা সুযোগ করে দিয়েছে। কারণ গ্রাহকদের বিভ্রান্ত করার জন্য দারাজের বানানের সাথে একটু পরিবর্তন ছাড়া হুবুহু একই লোগো এবং ইউআরএল ব্যবহার করা হয়েছে। 

“ম্যালওয়্যার ভাইরাস” সাধারণত কম্পিউটার বা মোবাইল ফোনের স্বাভাবিক কার্যকলাপ ব্যাহত করতে, গোপনীয় তথ্য সংগ্রহ করতে, সুরক্ষিত কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সিস্টেমে অননুমোদিত অনুপ্রবেশ ঘটাতে বা অযাচিত বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করতে ব্যবহৃত হয়।

এছাড়াও ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করতে বা ব্যবহারকারীর উপর নজর রাখার উদ্দেশ্যেও গোপনে পরিচালনা করা হয় এই ভাইরাসটি।

লিঙ্কটিতে ক্লিক করলেই আইফোন-১২ জিতেছেন বলে জানানো হয় এবং পুরস্কার পাবার জন্য কয়েকটি ধাপ অনুসরণ করতে বলা হয়।

জাহাঙ্গীর আলন নামে একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী জানান, তিনি আইফোন-১২ জেতার পর প্রতিটি ধাপ অনুসরণ করেন। পরবর্তীতে দেখতে পান তার ফোন ব্যালেন্স ২০০ টাকার পরিবর্তে শূন্য হয়ে আছে।

আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট গেটওয়ে (আইআইজি) কর্মকর্তাদের তথ্যানুযায়ী, দেশে প্রায় সাড়ে তিন কোটিরও বেশি হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারী এবং প্রায় ২ কোটি ভাইবার ব্যবহারকারী রয়েছে।

এখন অবধি ম্যালওয়্যারটি কেবল ম্যাসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ এবং ভাইবারে ছড়ানো হয়েছে। ভাইরাসটি মোবাইল ফোনের পরিচিতি তালিকা, আইপি (ইন্টারনেট প্রোটোকল) ঠিকানা, অবস্থান, ছবি ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ করে যে কোনও ধরণের ক্ষতি করতে পারে বলে জানিয়েছে আইআইজি কর্মকর্তারা।

আইআইজি ফোরামের সভাপতি সরোয়ার আলম সিকদার ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, এ ধরণের লিঙ্ক সর্বদা হ্যাকারদের মাধ্যমে বিভিন্ন ওটিটি প্ল্যাটফর্মে আসে। যা পরবর্তীতে ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করে ব্ল্যাকমেল করার জন্য ব্যবহার করা হয়।

তিনি আরও বলেন, মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীদের এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে, কেননা একবার হ্যাক করে ফেললে এ বিষয়ে আর কোনো প্রতিকার করা সম্ভব নয়।  

 এ বিষয়ে দারাজ বাংলাদেশ  কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে জানা যায়, তারা ইতোমধ্যে তাদের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে এই ম্যালওয়্যার ভাইরাস সম্পর্কে গ্রাহকদের সতর্ক করেছে।

এদিকে দারাজ কর্তৃপক্ষ ঘোষণা দিয়েছে, যদি দারাজের নাম ব্যবহার করে এভাবে আরও গ্রাহককে হয়রানি করা হয় তাহলে ম্যালওয়্যার তৈরির জন্য দায়ী হ্যাকার গ্রুপের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেবে তারা।

@bangla.dhakatribune.com

ইন্টারনেট জগত সম্পর্কে ১০ টি আশ্চর্য সত্য

ছবি – Shutter Stock

আজকে আপনাদের সাথে শেয়ার করবো ইন্টারনেট জগত সম্পর্কে ১০ টি আশ্চর্য সত্য যা শুনলে হয়তো আপনি থমকে যাবেন। আমি নিজেও অবাক হয়ে গিয়েছিলাম কথা গুলো শুনে।

১) ইন্টারনেট ব্যবহারকারির সংখ্যাঃ

আমরা অনেকেই ইন্টারনেট ব্যবহার করি এবং জানি যে এটার গুরুত্ব অনেক। কিন্তু কেউ কি জানেন ইন্টারনেট ব্যবহারকারির সংখ্যা কি হারে বাড়ছে?

২০০২ সালে ইন্টারনেট ব্যবহারকারির সংখ্যা ছিল মাত্র ৬০০ মিলিয়ন আর এখন সেটা এসে দাঁড়িয়েছে ২.২ বিলিয়নে। এক দশকে প্রায় ৩৬৭% বেড়েছে।

ভবিষ্যতে কত হবে সেটা ভাবতে পারছেন? এমন একদিন হয়তো আসবে যখন ইন্টারনেট যে ব্যবহার না করবে তাকে পাগল বলবে মানুষ। 😛

২) ফেসবুক সম্পর্কে একটি আশ্চর্য সত্যঃ

আমরা সবাই ফেসবুকে ছবিতে, স্ট্যাটাসে লাইক দেই কিন্তু আমরা কি জানি প্রতিদিন কতটা লাইক হচ্ছে? বর্তমানে ফেসবুকের অ্যাক্টিভ ব্যবহারকারির সংখ্যা হচ্ছে ১.২১ বিলিয়ন। সবাই প্রতিনিয়ত ছবি ভিডিও আপলোড করছে। এখন চলুন সেই আশ্চর্য সত্যটা জানি,

ফেসবুকে প্রতিদিন ৫০০ টেরাবাইট ডাটা আদান প্রদান হয়, প্রতিদিন প্রায় ২.৭ বিলিয়ন লাইক হয় এবং ৩০০ মিলিয়ন ছবি আপলোড হয়।

১০২৪ গিগাবাইটে হয় ১ টেরাবাইট,  প্রতিদিন ৫০০ টেরাবাইট ডাটা আদান প্রদান কি বাড়ির কাছে? আমি নিজেই প্রতিদিন অন্তত ১ এমবি আপলোড করি 😛 (Proud)

৩) স্প্যামিং সম্পর্কে একটি তথ্যঃ

স্প্যামাররা অনেক সচেতন! 😀 সোশাল মিডিয়াতে আমরা যেসব লিঙ্ক দেখি তার অনেক গুলোই স্প্যাম যেখানে ক্লিক করলে আপনার অনেক ক্ষতি হয়ে যেতে পারে।

আমরা ফেসবুক টুইটার সহ অন্যান্য সোশাল মিডিয়াতে যেসব অ্যাকাউন্ট দেখি তার শতকরা ৪০ ভাগ অ্যাকাউন্ট স্প্যামারদের খোলা। সকল মেসেজের মধ্যে শতকরা ৮ ভাগ মেসেজ পাঠানো হয় স্প্যামারদের দ্বারা।

আমি কয়েকদিন পর পর মেসেজ পাই, আফ্রিকান কোন মেয়ের ছবি দেওয়া প্রোফাইল থেকে পাঠায়, এমন সুন্দর করে কথা বলে যেন আমি তার হাজার বছরের পরিচিত। এদের একটা লক্ষন হল আপনার সাথে ফেসবুকে কথা বলবে না বরং মেইল চাইবে। এরকম দেখলেই সাবধান হয়ে যাবেন, অনেকেই আছেন এমনকি একসময় আমি নিজেও এমনটা করতাম, যেকোনো মেয়ে দেখলেই চ্যাট করতে ইচ্ছা করতো 😛 তবে এখন থেকে সতর্ক থাকবেন, বাংলাদেশি মেয়েদের (হয়তো আপনার ভাই-ব্রাদার :D) সাথে চ্যাট করেন কিন্তু আফ্রিকান মেয়েদের সাথে কইরেন না।

৪) গুগল সার্চ সম্পর্কে একটি সত্যঃ

হেহেহেহে! মামার কথা আর কি বলবো, কদিন পর পর শুনি এই কম্পানিকে গুগল কিনে নিয়েছে ঐ কম্পানিকে গুগল কিনে নিয়েছে। সে শুধু বড় হচ্ছেই, এখন পর্যন্ত প্রায় ১৪৫ টার মতো কম্পানি গুগল কিনেছে/মার্জ করেছে। এই গুগল যে একদিন কত বড় হবে তা ভাবলেই আমার মাথা ঘুরে। 😀

প্রতি মাসে গুগল ১০০ বিলিয়ন সার্চ করে তার মানে হল প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৪০, ০০০ সার্চ রেসাল্ট আমাদেরকে দেয়।

যেদিন শুনেছিলাম যে পৃথিবীর প্রথম মোবাইল ফোন তৈরিকারী কম্পানি মটোরোলাকে কিনে নিয়েছে গুগল সেদিন আসলেই অবাক হয়েছিলাম। এত বড় একটা কম্পানি যেটা কিনতে গুগলকে গুনতে হয়েছে ১২.৫ বিলিয়ন ইউএস ডলার। তাছাড়া ব্লগার, অ্যান্ড্রয়েড, ইউটিউব, প্লিঙ্ক, ওয়েয, পিকাসা এসব তো আছেই।

৫) ওয়েবকেম সম্পর্কে একটি মজার তথ্যঃ

প্রযুক্তির যত সব নতুন নতুন আবিষ্কার দেখি তার সবগুলোই কোন না কোন প্রয়োজনবোধ থেকে এসেছে। ওয়েবকেম নিঃসন্দেহে একটি আশ্চর্য আবিষ্কার যদিও এখন আমাদের কাছে তেমন আশ্চর্য মনে হয় না।

কেমব্রীজ ইউনিভার্সিটির কয়েকজন অলস ছাত্ররা ওয়েবকেম আবিষ্কার করেছে, তাদের উদ্দেশ্য ছিল নিজের রোমে বসে কফি রোমের খবর রাখা।

Trojan Room coffee pot একটি কফি রাখার পাত্র ছিল কেমব্রীজ ইউনিভার্সিটিতে। ওয়েবকেমটা বানানো হয়েছিল যেন সেই পাত্রের কফি শেষ হয়ে যাচ্ছে কিনা তা দেখার জন্য যেন বার বার ঐ রোমে না যেতে হয়। ওদের মতো অলস হতে পারলেও ভালো 😛 অলসতার বহিঃপ্রকাশ হল আজকের নিরাপত্তা ব্যাবস্থায় ব্যাবহৃত শক্তিশালী ক্যামেরা।

Dr. Quentin Stafford-Fraser এবং Paul Jardetzky এই দুজন হলেন প্রথম ওয়েবকেমের নির্মাতা।

৬) প্রথম ওয়েবসাইটঃ

স্যার টিম বার্নাস লী লন্ডনে জন্ম নেওয়া একজন পদার্থবিধ। তিনি চিন্তা করেছিলেন এমন একটি হাইপারলিঙ্কের কথা যার দ্বারা পৃথিবীর সবাই যুক্ত থাকবে। সেই মহৎ ব্যক্তির অসাধারন আবিষ্কারকে মানুষ উন্নতির চরম পর্যায়ে নিয়ে গেছে।

info.cern.ch হল বিশ্বের প্রথম ডোমেইন/ওয়েব সার্ভার। ১৯৯১ সালের আগস্ট মাসের ৬ তারিখে এটি পাবলিশ করা হয়।

আপনারা ইচ্ছা করলে এখনি সেই ওয়েবসাইট থেকে ঘুরে আসতে পারেন (নাহ এখন না, টিউনটা শেষ করে নিন :P) সাইটটা এখনো আগের মতোই আছে, সাদামাটা করে রেখে দেওয়া হয়েছে যেন ইতিহাসটা অক্ষুন্ন থাকে।

৭) সবচেয়ে দামি ডোমেইনঃ

সহজ এবং সুন্দর নামের ডোমেইন সবার কাছেই পরিচিত। আমি নিজে Yahoo তেমন ব্যবহার না করলেও Yahoo নামের ডোমেইনটা আমার প্রিয়। এই সুন্দর এবং সহজে মনে রাখার মতো ডোমেইন গুলো বিক্রি হয় অনেক দামে। আসুন দেখি এখন পর্যন্ত পৃথিবীর সবচেয়ে দামি ডোমেইনের নাম গুলো।

সবচেয়ে দামি ডোমেইনের নাম হল insure.com দাম, ১৬ মিলিয়ন ডলার। দ্বিতীয় দামি ডোমেইনের নাম হল sex.com যার দাম ১৪ মিলিয়ন ডলার।

অনেকেই ভাবছেন তাহলে গুগল বা ফেসবুকের ডোমেইনের দাম কত? এখানে যে নাম দুইটা দিলাম সেগুল কোন কম্পানি না, শুধু একটা ওয়েবসাইট অ্যাড্রেস। দ্বিতীয় ডোমেইনটার দাম কেন যে এত বেশি হল সেটা হয়তো সবাই বুঝতে পেরেছেন। প্রথমটার কারন আমি নিজেও বুঝি নাই (insurance একটি ভালো বিজনেস এটা বুঝি :D)

৮) দেশভিত্তিক ইন্টারনেট ব্যবহারকারির সংখ্যাঃ

অন্যান্য দেশের কথা জানার আগে আসুন দেখে নেই আমাদের দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারির সংখ্যা কত।

  • ২০০৫ সালে বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারির হার ছিল ০.২%
  • ২০০৬ সালে ১%
  • ২০০৭ সালে ১.৮%
  • ২০০৮ সালে ২.৫%
  • ২০০৯ সালে ৩.১%
  • ২০১০ সালে ৩.৭%
  • ২০১১ সালে ৫%
  • ২০১২ সালে ৬.৩%

ভারতে ২০১২ সালে ইন্টারনেট ব্যবহারকারির হার ছিল ১২.৬% এবং একই সালে পাকিস্তানে ছিল ১০%।

এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ইন্টারনেট ব্যবহারকারির সংখ্যা রয়েছে Iceland-এ ৯৭.৮% ইউএসএ তে ৭৮.৩% চিনে ৩৮.৪% এবং সবচেয়ে কম ইন্টারনেট ব্যবহারকারী দেশ হল উত্তর কোরিয়া যেখানে ০% মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করে।

আমি সবচেয়ে বেশি আশ্চর্য হয়েছিলাম এই তথ্যটা জেনে,  Iceland ছোট একটা দেশ অনেকে হয়তো এই দেশের নাম শুনেননি অথচ তারাই ইন্টারনেট ব্যবহারে এগিয়ে আছে। সমস্যা নেই আমারাও এগিয়ে জাচ্ছি, আমি তো ফেসবুকের নাম শুনেছিলাম কলেজে এসে কিন্তু এখন ক্লাস সিক্সের পলাপাইনও জানে এবং ফেসবুক ব্যবহার করে। 😀

৯) সবচেয়ে বেশি বই লেখকঃ

Philip M. Parker হলেন INSEAD নামের একটি বিজনেস স্কুলের একজন প্রফেসর। আমরা জানি বই লিখতে একটি টাইটেল লাগে, কি কি টপিক থাকবে তা লাগে,  একটা একক ISBN (International Standard Book Number) লাগে, কভার পেজ লাগে, বেক কভার লাগে আর কি! সবচেয়ে বড় কথা হল বই লিখতে জ্ঞান লাগে।

Philip M. Parker এখন পর্যন্ত প্রায় ২০০০০০ টি বই লিখেছেন। তিনি হলেন পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি বইয়ের লেখক।

এই বেক্তির এত কঠিন কাজকে সহজ করেছে কম্পিউটার এবং ইন্টারনেট। ভদ্রলোক গণিত, জীববিজ্ঞান এবং অর্থনীতিতে অনার্স করেছেন (আমারতো একটা নিয়েই টানাটানি :P) বই লিখা সহজ কোন কাজ না, বই হল মানুষের দিক নির্দেশনা আর সেটা যদি ভুল দিকে যায় তাহলে সব শেষ!

১০) ইন্টারনেটের ওজনঃ

ইন্টারনেটেরও আবার ওজন আছে? শুনলে মাথা ঘুরবে না তো কি করবে? তবে কথাটা সত্যি, এই ইন্টারনেট জগতের একটা সত্যিকারের ওজন আছে। আর সেই ইন্টারনেটের ওজনের পরিমাণ শুনলে তো আপনার মাথা আরো ঘুরবে 😛

ইন্টারনেটে যেসব তথ্য আছে তার ওজন 2.0 × 10-7 ounces

গনিতবিদ কোন ভাই থাকলে একটু সাড়া দেন, আমার মাথা লাঠিমের মতো ঘুরতাসে 😛 যাই হোক এই ওজনটা সম্পর্কে একটু ধারনা আমি দিয়ে দেই ১ আউন্স=২৮.৩৪৯৫ গ্রাম। আমার মতো এবারো অনেকেই ওজনের পরিমাণটা বুঝবেন না 😀 আমার মতো অংকে কাচা ব্যক্তিবর্গের জন্য বাংলা হিসাব দিলাম 😛

একটা ক্ষুদ্রতম বালির কণার ওজন যতটুকু হবে ততটুকু ওজন হল ইন্টারনেট নামের এই দৈত্যটার।

উপসংহারঃ

অনেকগুলো আশ্চর্য তথ্য দিলাম, এবার বোনাস হিসেবে আরেকটি আশ্চর্য এবং খুবী দুঃখের খবর জানাতে চাই।

ইন্টারনেটে যেসব সার্চ হয় তার তিন ভাগের একভাগ হল খারাপ ভিডিও/ছবি নিয়ে :(ধারনা করা হয়েছে, ইন্টারনেটে যত ছবি আছে তার ৮০ ভাগ হল উলঙ্গ মেয়েদের ছবি। :'(

@https://www.techtunes.io/tuner/mad-singer-sohag

যে সকল মহান ব্যক্তিদের কারনে আমরা পেয়েছি আজকের এই ফটোশপ এবং ফটোশপ এর ইতিহাস সহ পেছনের কিছু গল্প

গ্রাফিক ডিজাইনারগন মুলত তিনটি প্রোগ্রামেই তাদের ডিজাইন কাজটি করে থাকেন। তার মধ্যে এডবি ফটোশপ হলো ইমেজ এডিটিং এর জন্য পৃথিবীর সেরা প্রোগ্রাম। অন্যদিকে এডবি ইলাষ্ট্রেটর ভেক্টর ভিত্তিক ডিজাইনের জন্য, এডবি ইনডিজাইন প্রিন্টিং ও প্রেসের প্রজেক্টগুলোর কাজে খুব বেশি পরিমানে ব্যবহৃত হয়।

ছবি – Shutter Stock

আজ শুধুই এডবি ফটোশপের আলোচনা। ফটোশপকে আমরা সবাই অনেক ভালোবাসি কারন পেশাদার ডিজাইনার থেকে শুরু করে ফটোগ্রাফার এমনকি শখের বসে যারা ফটো এডিটিং করেন তারাও ফটোশপ দিয়েই তাদের কাজ করেন। ফটোশপের ব্যবহার অনেক সহজ, টুলস গুলো সুন্দরভাবে সাজানো এমনকি একটি ডিজাইনকে চমকপ্রদ করে তুলতে যা যা করা লাগে প্রায় সবকিছুই ফটোশপে রয়েছে। তাই ফটোশপ ডিজাইনার, ফটোগ্রাফারদের কাছে এত জনপ্রিয়।

কিন্তু বলতে কিছুটা খারাপ লাগলেও এটাই সত্য যে আমরা অনেকেই ফটোশপের উৎপত্তি থেকে শুরু করে আজকের অবস্থানে আসার ইতিহাস, কোন কোন মহান ব্যক্তিদের পরিশ্রমের ফসল হিসেবে ফটোশপ পেয়েছি তা জানিনা। আর এই অজানা বিষয়কে জানার জন্য আজকের লেখা। আলোচনার বিষয়টিকে আমরা ঘুরিয়ে এভাবেও বলতে পারি

“যে সকল মহান ব্যক্তিদের কারনে ফটোশপ পেয়েছি আমরা তাদের সম্মন্ধে বিস্তারিত জানব আমরা আজই”

কারা সেই মহান ব্যক্তি আসুন জেনে নেইঃ

Thomas knoll পেশায় একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। জন্ম আমেরিকার Michigan, গ্রেজুয়েশান শেষ করেন University of Michigan  থেকে। তার ভাই Jhon knoll যিনি পেশায় Visual effects supervisor. তাদের বাবা Glen knoll ছিলেন University of Michigan  এর একজন প্রফেসর।

সময়টা ১৯৮৭ সাল। তখন Thomas knoll একজন Phd student.  তিনি Macintosh Plus  এর জন্য একটি গ্রাফিক এপ্লিকেশন ডেভলপ করেন। এই এপ্লিকেশনটি এক কালারের পর্দায় সাদা-কালো ছবি শো করতে ব্যবহার হত। Knoll  এটির নাম দিয়েছিলেন Display. মূলত এই display এপ্লিকেশনটিকে Father of photoshop বলা যায়্।

Thomas knoll এর ভাই Jhon knoll প্রোগ্রামটি দেখলেন। Jhon knoll ফটোর প্রতি অতিমাত্রায় আগ্রহী ছিলেন। Jhon  তার ভাই Tom কে একটি ফটো এডিটিং প্রোগ্রাম বানানোর জন্য রাজি করালেন। তখন Thomas knoll তার চলমান শিক্ষা জীবন থেকে ৬ মাসের বিরতি নিয়ে তৈরি করেন ফটো এডিটিং প্রোগ্রাম যেটির নাম দিতে চেয়েছিলেন Image pro. কিন্তু কপিরাইট সংক্রান্ত জটিলতার কারনে সে নামের বদলে আমরা পেয়ে যাই ফটোশপের প্রথম ভার্সন ফটোশপ ০.৭। দুই ভাইকে একটু দেখে নেই-

Thomas Knoll

Jhon Knoll

ফটোশপের শুরু দিকের ভার্সনগুলোঃ

ফটোশপ ১.০

সেপ্টেম্বর ১৯৮৯ এডবি কর্পরেশন ফটোশপ প্রোগ্রামটি কিনে নেওয়ার পর এর ফিচার এ ব্যাপক পরিবর্তন আসে। ১ ফেব্রুয়ারী ১৯৯০ ডিজিটাল কালার এডিটিং ও ইমেজ রিটাচিং সহ ফটোশপ ১.০ ভার্সন রিলিজ হয়। SciTex এর মত উচ্চমানের ফ্ল্যাটফরমে ব্যবহারের জন্য এটি চালু হয় এবং সাধারন মানের একটি Photo retouching এর জন্য ৩০০ ডলার ব্যয় করতে হত তখন।

ফটোশপ ২.০

জুন ১, ১৯৯০ আর নতুন ফিচার যুক্ত করে ফটোশপ ভার্সন ২.০ রিলিজ করে। এই ভার্সনে যুক্ত করা হয় adding Paths, CMYK color and the Pen tool এর মত গুরুত্বপূর্ন ফিচারগুলো।

১৯৯০ সালের নভেম্বর মাসে সর্বপ্রথম উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমে চালানোর উপযোগী করে ফটোশপ ২.৫ রিলিজ করা হয়। এই ভার্সনেই ফটোশপে প্যালেট যুক্ত করা হয়।

১৯৯৪ সালে ফটোশপ ৩.০ রিলিজ হয়। এই ভার্সনে ফটোশপের লেয়ার প্যানেল যুক্ত করা হয়। এই লেয়ার যুক্ত হওয়ার ফলে ডিজাইনারদের কাজ অনেক সহজ হয়ে যায়। অনেক জটিল বিষয় সহজ হয়ে যায়। আসলে সবই সম্ভব হয়েছে Thomas Knoll এর জন্য।

ফটোশপ ৪.০

প্রায় দুই বছর পর ফটোশপের পরবর্তী ভার্সন ফটোশপ ৪.০ রিলিজ হয়। এই ভার্সনে যুক্ত করা হয় Adjustment layer ও  macro ফিচারদুটি। এছাড়াও ফটোশপের user interface  যুক্ত করা হয় এই ভার্সনে। একটু ভেবে দেখুন ডেভেলপারদের অক্লান্ত পরিশ্রম না থাকলে এ্কটি ইমেজে ওয়াটারমার্ক দিতে আমাদেরকে কতইনা কষ্ট করতে হত আজও।

ফটোশপ ৫.০

১ মে ১৯৯৮ ফটোশপের ভার্সন ৫.০ রিলিজ করা হয়। Editing type, Undo command, History panel, Magnetic lasso tool প্রভৃতি ফিচার চালু করা হয় এই ভার্সনে। ইমেজ এডিটিং এ কিছু বিষয় কত সহজ হয়ে গিয়েছে এই ভার্সনটি রিলিজ হওয়ার পর। এরপর মাত্র ১ বছর পর ফটোশপ ৫.৫ রিলিজ করা হয়। এই ভার্সনে Save for web  ফিচারটি যুক্ত করা হয়। আর এর সাথে সাথে PNG ফরমেট এ ইমেজ এক্সপোর্ট করার ব্যবস্থাও পেয়ে যায়।

ফটোশপ ৬.০

বিংশ শতাব্দীর একেবারে শেষপ্রান্তে ফটোশপ ৬.০ রিলিজ হয়। ভেক্টর শেপ, টাইপ টুল, ব্লেনডিং অপশান প্রভৃতি ফিচার যুক্ত করা হয় এই ভার্সনে। এই ভার্সনে টাইপ টুল হয়েছে আরও সহজ। চোখ ধাধাঁনো এফেক্ট দেওয়ার জন্য ব্লেনডিং মোড এই ভার্সনেই পরিপূর্নতা পায়।

ফটোশপ ৭.০

ফটোশপ ৬.০ রিলিজ হওয়ার ঠিক ২ বছর পর এ যাবত কালের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও বহুল ব্যবহৃত ভার্সন ফটোশপ ৭.০ রিলিজ হয়। খুব সহজে ফাইল ও ফোল্ডার ব্রাউজ করার জন্য ফাইল ব্রাউজার, ব্রাশ ও প্যাচ টুল যুক্ত হয় এই ভার্সনেই। ফটোশপের পূর্ন রুপ বলতে আমরা এই ভার্সনকেই বুঝি। আজও অনেক বড় বড় বিখ্যাত ডিজাইনগন ফটোশপ ৭.০ তে কাজ করেন।

ফটোশপ ‍ক্রিয়েটিভ স্টুডিও (সিএস ৮.০)

যেহেতু ফটোশপের ডেভলপমেন্ট একটি চলমান প্রক্রিয়া হিসেবে চলছে। ডেভেলপারগন অক্লান্ত পরিশ্রম করছে নিত্যনতুন ফিচার যোগ করার কাজে। ২০০৩ সালে ডিজাইনারদের প্রয়োজনীয় সবকিছু, গ্রাফিক ডিজাইনে লে-আউট ফিচার, ফটোগ্রাফির সবকিছু যুক্ত করে ফটোশপ রিলিজ করে ফটোশপ ৮.০ (সিএস)। Script, language, grouping of layer  প্রভৃতি ফিচার যুক্ত করা হয় এতে। যা কিনা এই প্রোগ্রামটির অন্য এক উচ্চতায় নিয়ে যায়।

ফটোশপ সিএস ২

২০০৫ সালে ফটোশপ সিএস ২ ভার্সন রিলিজ হয়। Red-eye removal tool, Vanishing point tool, Smart object এর মত ফিচার নিয়ে আসে এই ভার্সনে যার সাহায্যে ফটোশপের এডিটিং হয়ে উঠে কোন ধরনের Quality লস করা ছাড়াই। সত্যিই ধন্যবাদ দিতে হয় ডেভেলপার টিমের প্রত্যেকটি সদস্যকে।

ফটোশপ সিএস ৩.০

২০০৭ সালে ফটোশপ সিএস ৩.০ রিলিজ হওয়ার পর এই সফটাও্য়্যারে আমরা বৈপ্লবিক পরিবর্ফতন দেখতে পাই। টূলস এ ব্যাপক পরিবর্তন আসে। এর নেভিগেশান প্রক্রিয়া ফটোশপে কাজ করাকে আর দ্রুততর করে তোলে। ক্যামেরা র ও কুইক সিলেকশান টুলের মত চমতকার বিষয়গুলো যুক্ত হয় এই ভার্সনে।

ফটোশপ সিএস ৪

২০০৮ সালে ফটোশপের নতুন ভার্সন সিএস ৪ আসে। Panning, Zooming, Masking, Adjustment panel ফিচারগুলোকে আধুনিক করে ডিজাইনার কাজকে আরও দ্রুতগতির ও আর চমকপ্রদ করার বিভিন্ন কমান্ড আসে এই ভার্সনে।

ফটোশপ সিএস ৫

২০১০ সালে ফটোশপ সিএস ৫ রিলিজ হয়। এই ভার্সনে যুক্ত হয় Puppet Warp Tool, Bristle tips, Mixer Brush and Automatic Lens correction প্রভৃতি ফিচারগুলো। Masking ফিচারটিকে আরও আধুনিক করা হয় এই ভার্সনে।

ফটোশপ সিএস ৬

মে ৭, ২০১২ বহুল প্রতিক্ষিত ফটোশপ সিএস ৬ রিলিজ হয়। এই ভার্সনে সম্পূর্ন নতুন একটি ইউজার ইন্টারফেস আমরা পেলাম। যাতে নিজেদের সুবিধা মত কালার এডজাস্ট করা সম্ভব। Auto saving, patch tool, move tool, blur gallery, vector shape with dash and dotted stroke প্রভৃতি নতুনভাবে সংযোজন করা হয়েছে। অর্থাৎ ফটোশপকে পরিপূর্ন করার যা প্রয়োজন সবই করা হয়েছে এই ভার্সনে। ভিডিও, এনিমেশন তৈরি করা অনেক সহজ হয়েছে এই ভার্সন আসার পর।

ফটোশপ Creative Cloud (সিসি)

ফটোশপ সিএস ৬ এর মজা পুরোপুরি নিতে পারলামনা। ঝড়ের বেগে রিলিজ হয়ে গেল ফটোশপের একেবারে লেটেস্ট ভার্সন Photoshop creative cloud (CC). এটি মূলত আসে সফটওয়্যার পাইরেসি কমানোর লক্ষ্যে যাতে করে এডবি কোম্পানি তাদের খরছটা কমাতে পারে। যে কারনে তারা ব্যবহারকারীদের জন্য কিছু অর্থ এর বিনিময়ে এটি এডবি থেকে ব্যবহার করার সুযোগ/সেবাটি রেখেছে।

Smart sharpen ও Camera sharp reduction এর মত অবিস্বাশ্য কিছু ফিচার যোগ করা হয়েছে এই ভার্সনে।

উপরের আলোচনা থেকে আমরা যদি একটু পিছন ফিরে তাকাই তাহলে দেখব Thomas Knoll ও Jhon Knoll ভাইদ্বয়ের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় Display দিয়ে যা শুরু হয়েছিল তার আধুনিক সংস্করন হলো বর্তমান ফটোশপ সিসি। বর্তমান ভার্সনটি দিয়েই গ্রাফিক ডিজাইন, ওয়েব ডিজাইনের প্রয়োজনীয় কাজ, ভিডিও এডিটিং, সীমিত এনিমেশন প্রভৃতি খুব সহজেই করা সম্ভব। এডবি কোম্পানির ডেভেলপার গন যে ভ্রত নিয়ে  সামনে এগিয়ে যাচ্ছে তাতে আমরা ভবিষ্যতে ফটোশপকে অন্য ভুমিকায় আর অত্যাধুনিক চেহারায় দেখলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবেনা। আমরা সবাই সে অপেক্ষায় থাকি এবং বর্তমান পর্যায়ে যতটুকু পেয়েছি তার সুধা পান করি।

“আমরা সবাই ফটোশপ ভালোবাসি”

আপনার জন্য অনলাইন ফটো এডিটর

আমার মনে হয় সেই দিন আর বেশি দুরে না যখন বেশিরভাগ মানুষই ওয়েব বেসড্ অ্যাপ্লিকেশনের (Web Based Application) ফ্যান হয়ে পরবে। ওয়েব বেসড্ অ্যাপ্লিকেশনের সবচেয়ে বড় সুবিধা হল আপনি যে কোন পিসি থেকে রান করতে পারবেন (সাধারনত ব্রাউজারে)। আর বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আপনি আপনার কাজ অনলাইনেও সেভ করতে পারবেন। এড়াতে পারবেন ডেস্কটপ বেসড্ অ্যাপ্লিকেশানের ইন্সটল করার মত ঝামেলাকে এড়াতে পারবেন এবং আবার ওয়েব সার্ভিসের সাথেও ইন্টারকানেক্টেড থাকতে পারবেন। নিচে আপনাদের কাছে কয়েকটি জনপ্রিয় ইমেজ এডিটর কে তুলে ধরালাম –

পিক্সএলআর

এটি খুবই জনপ্রিয় ফ্ল্যাশবেসড্ ইমেজ এডিটর যার জিআইইউ অনেকটা অ্যাডোবির ফটোশপের মতই। Pixlr API যার ডেভেলপিং এখনও চলছে, এর মাধ্যমে আপনার ব্লগের, ওয়েবসাইট অথবা ওয়েব অ্যাপ্লিকেশানের সাথে পিক্সএলআরের এর একটি ইন্টারকানেকশান তৈরী করতে পারবেন। এর স্মার্ট ওয়্যান্ড টুলের সাহায্যে আপনি সহজেই সদৃশ্যমান এবং বৈশাদৃশ্যমান পিক্সেলকে অটোম্যাটিকালি সিলেক্ট করতে পারবেন (ঠিক ফটোশপের ম্যাজিক ওয়্যান্ড টুলের মত)।

pixer.us

আপনি যদি সিম্পল কোন ওয়েব বেসড্ ইমেজ এডটিং টুলের সন্ধানে থেকে থাকেন তাহলে এই টুলটি আপনার জন্যে সুইটেবল হতে পারে। এর ইন্টারফসটি খুবই সিম্পল এবং এতে আছে ইউজফুল ফটো এডিটিং ফিচার যেমন – ক্রপিং, রিসাইজিং এবং রোটেটিং। এর আরো আছে কালার অ্যাডজাস্টমেন্ট অপশন  – স্যাচিউরেশন, ব্রাইটনেস এবং কন্ট্রাস্ট অ্যাডজাষ্টমেন্ট। আপনি চাইলে আপনার কাজ PNG, JPG, GIF, অথবা BMP ফরম্যাটে সেভ করতে পারবেন।

ফটোফ্লেক্সার

ফটোফ্লেক্সার এর ফিচারের ছড়াছড়ি থাকলেও এটা ব্যবহার করা কিন্তু খুবই সিম্পল। আপনি চাইলে ফটোফ্লেক্সার এর ডেমো পজেটি দেখতে পারেন। এতে আপনি ইন্সট্যান্টলি কিছুটা হলেও এই টুলের ব্যাপারে অনেকটা আইডিয়া পাবেন। এতেও আপনি পাচ্ছেন সকল কমন ফটো এডিটিং ফিচার। এটিও ফ্লিকার, পিকাসা, ফটোবাকেট, ফেসবুক, মাইস্পেস এর সাথেও ইন্টিগ্রটেড।

স্যুমো পেইন্ট

এটি আপনাকে ইমেজ ক্রিয়েট এবং এডিটিং এর এনভাইরোমেন্ট করে দিয়েছে। ইউনিক শেপ ড্র করার জন্যে আছে এর শেপ ড্রয়িং টুল। হাই কোয়ালিটির ব্রাশের সেট, স্কেল সেট করার জন্যে ট্রান্সফর্ম টুল এবং আরো কয়েকটি ফিচার।
আশা করি আপনাদের ভালো লাগবে।