আসছে ফেসবুকে XCheck নামে নতুন ফিচার, কিন্তু সমস্যায় পড়তে পারেন বহু ইউজার।

ফেসবুকের (Facebook) এই নতুন নিয়মের ফলে ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্ট হবে আরও সুরক্ষিত। তবে পাশাপাশি, কিছু অসুবিধাতেও পড়তে পারেন তাঁরা।

ফেসবুক (Facebook) নিয়ে আসতে চলেছে এক নতুন নিয়ম, যার পোশাকি নাম XCheck বা Cross Check। এই নতুন নিয়মের ফলে ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্ট হবে আরও সুরক্ষিত। তবে পাশাপাশি, কিছু অসুবিধাতেও পড়তে পারেন তাঁরা। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক নতুন ফিচার এই XCheck কী ভাবে কাজ করবে।

ধরা যাক, জনপ্রিয় ফুটবলার নেইমারের বিরুদ্ধে যে মহিলাটি ধর্ষণের অভিযোগ তুলেছিলেন, নেইমার তাঁদের হোয়াটসঅ্যাপের (WhatsApp) কথোপকথনের স্ক্রিনশট ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামে (Instagram) পোস্ট করে সকলের সঙ্গে শেয়ার করলেন। যেখানে তাঁদের কথোপকথনের চ্যাটের সঙ্গে কিছু ছবিও রয়েছে। এই ধরনের অশালীন ছবি ফেসবুকে পোস্ট হলে, সঙ্গে সঙ্গে কর্তৃপক্ষ সেই পোস্ট ডিলিট করে দেয়। কিন্তু এখন নেইমার যদি এই XCheck-এর আওতায় থাকেন, তাহলে তাঁর সেই পোস্ট আর ডিলিট করা যাবে না। ফেসবুক  সভাপতি (MODERATOR ) ও সেই পোস্ট ডিলিট করতে পারবেন না। সেটা ফেসবুকে থেকে যাবে এবং ৫৬ মিলিয়ন অনলাইন ইউজার তা দেখতে পাবেন।

সর্বোপরি,

পৃথিবীর বিভিন্ন ক্ষমতাশালী বিশিষ্ট ব্যক্তিদের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত রাখতে এই নতুন ফিচারের আবির্ভাব। কিন্তু এই XCheck-এর প্রয়োগের ফলে সামাজিক এই মাধ্যমের শালীনতা কতটা বজায় রাখা যাবে? ফেসবুকের এই নতুন নিয়মের ফলে মডারেটরদের কাজটা আরও কঠিন হয়ে উঠবে। জনপ্রিয় এই সামাজিক মাধ্যমে সমাজের জন্য ক্ষতিকারক অশালীন বিষয়বস্তু পোস্ট হলেও XCheck-এর দৌলতে তা আর ডিলিট করা যাবে না। যার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাব পড়বে সকলের উপরে। ভারতে ফেসবুকের বিভিন্ন ধরনের রাজনৈতিক পোস্ট আগে থেকেই চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। এখন ফেসবুকের এই নতুন নিয়মের ফলে ৫.৮ মিলিয়ন রাজনীতিবিদ ও সেলিব্রিটিদের নানা ধরনের পোস্ট কী প্রভাব ফেলে সেটাই দেখার। ফেসবুকের মতো একটা জনপ্রিয় সামাজিক মাধ্যম, যেখানে সমাজের সব স্তরের মানুষের আনাগোনা রয়েছে, সেখানে XCheck-এর প্রভাব হতে পারে মারাত্মক, এমনটাই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Internet Bandwidth Theft: ব্য়ান্ডউইথ চুরি করে তা থেকে মোটা টাকা রোজগার করছে জালিয়াতরা। কী ভাবে এই কাজটা সম্পন্ন হচ্ছে?

চুরি হয়ে যাচ্ছে ইন্টারনেট ব্য়ান্ডউইথ (Internet Bandwidth)। অথচ বুঝতেই পারছেন না ব্য়বহারকারী। দিনের পর দিন নিজের টাকা খরচের খাতায় যাচ্ছে। কিন্তু বিষয়টা ঠিক কী?

এত দিন পর্যন্ত জালিয়াতরা বিভিন্ন তথ্য় চুরির জন্য় অন্য়ের ডিভাইজে হানা দিত। এখনও করে। কারও ডিভাইজ থেকে ব্য়ক্তিগত তথ্য় চুরি (internet bandwidth theft) , কারও কাছ থেকে গুপ্তমুদ্রা(cryptocurrency)সংক্রান্ত গোপন তথ্য় হাতিয়ে নেওয়া সহ আরও বিভিন্ন ক্ষেত্রে জাল বিছিয়ে রেখেছে জালিয়াতরা। কিন্তু এবার বিভিন্ন ডিভাইজে হানা দিচ্ছে শুধুমাত্র ব্য়ান্ডউইথ চুরি করতে। সেই ব্য়ান্ডউইথ চুরি করে তা থেকে মোটা টাকা রোজগার করছে জালিয়াতরা (hackers) । কী ভাবে এই কাজটা সম্পন্ন হচ্ছে?

পুরো কাজটির জন্য় একটি প্রক্সিওয়্যার (proxyware) ব্য়বহার করছে জালিয়াত চক্রের পাণ্ডারা। সিসকো ট্য়ালোস (Cisco Talos) ইতিমধ্য়ে ওই বিশেষ প্রক্সিওয়্যারের সন্ধান পেয়েছে। ওই ওয়্যারের মাধ্য়মে বিভিন্ন ডিভাইজকে টার্গেট করা হয়। তবে এক্ষেত্রে সব ডিভাইজকে টার্গেট করতে পারেনা প্রক্সিওয়্যার। মূলত যে সব সিস্টেমে বা ডিভাইজে আগে থেকেই গোপনীয়তা (Malware ) ঢুকে রয়েছে, বেছে বেছে সেই সিস্টেমগুলিতেই হামলা চালায় জালিয়াতরা। ZDNet নামে একটি সংস্থা জানিয়েছে, প্রক্সিওয়্যার কোনও অবৈধ কিছু নয়। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে প্রক্সিওয়্যার ব্য়বহার করা হয়। কিন্তু জালিয়াতরা ওই প্রক্সিওয়্যার ব্যবহার করে খারাপ উদ্দেশ্যে।

এই প্রক্সিওয়্যার টুলটিকেই অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে হ্য়াকাররা। ব্য়বহারকারীর অজান্তেই তাদের কোনও ডিভাইজে প্রক্সিওয়্যার সফ্টওয়্যারটিকে ইনস্টল করে দেওয়া হচ্ছে। এর পরেই সেই ডিভাইজের ব্য়ান্ডউইথ চুরি হয়ে যাচ্ছে এবং তা চলে যাচ্ছে হ্য়াকারদের দখলে। এমনকী দীর্ঘদিন কেটে গেলেও ব্য়বহারকারীরা বুঝতে পারে না তাদের ডিভাইসে এই ধরনের কোনও অ্য়াপ(app) রয়েছে।

কী ভাবে প্রক্সিওয়্যার ইনস্টল করে দেওয়া হচ্ছে?

মূলত কোনও পাইরেটেড(pirated )অ্য়াপের মাধ্য়মে বা কোনও সফটঅয়্যারের মধ্য়মে ওই প্রক্সিওয়্যার ইনস্টল করে দেওয়া হচ্ছে।

কী ভাবে বোঝা সম্ভব কোনও ডিভাইজে প্রক্সিওয়্যার রয়েছে কি না?

১) প্রতিনিয়ত ফোন বা ল্য়াপটপে থাকা অ্য়াপ বা সফ্টওয়্যারের উপর নজর রাখতে হবে। যদি দেখা যায় কোনও অ্য়াপ নিজে থেকে ডাউনলোড করা হয়নি, তাহলে যা দ্রুত ডিলিট করে দিতে হবে।

২) কোনও অ্যাপ ডাউনলোড করার আগে তার source যাচাই করতে হবে। Google Play Store এবং Apple App Store থেকে ডাউনলোড করা-ই ভালো।

৩) ফোনে বিল্ট ইন সিকিউরিটি স্ক্য়ানার থাকলে তা active রাখতে হবে।

৪) অপরিচিত কেউ কোনও link পাঠালে তাতে ক্লিক করা উচিত নয়।

৫) পাইরেটেড অ্য়াপ বা সফ্টওয়্যার কোনও ডিভাইজে ইনস্টল করা সঠিক সিদ্ধান্ত নয়।