আসছে ফেসবুকে XCheck নামে নতুন ফিচার, কিন্তু সমস্যায় পড়তে পারেন বহু ইউজার।

ফেসবুকের (Facebook) এই নতুন নিয়মের ফলে ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্ট হবে আরও সুরক্ষিত। তবে পাশাপাশি, কিছু অসুবিধাতেও পড়তে পারেন তাঁরা।

ফেসবুক (Facebook) নিয়ে আসতে চলেছে এক নতুন নিয়ম, যার পোশাকি নাম XCheck বা Cross Check। এই নতুন নিয়মের ফলে ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্ট হবে আরও সুরক্ষিত। তবে পাশাপাশি, কিছু অসুবিধাতেও পড়তে পারেন তাঁরা। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক নতুন ফিচার এই XCheck কী ভাবে কাজ করবে।

ধরা যাক, জনপ্রিয় ফুটবলার নেইমারের বিরুদ্ধে যে মহিলাটি ধর্ষণের অভিযোগ তুলেছিলেন, নেইমার তাঁদের হোয়াটসঅ্যাপের (WhatsApp) কথোপকথনের স্ক্রিনশট ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামে (Instagram) পোস্ট করে সকলের সঙ্গে শেয়ার করলেন। যেখানে তাঁদের কথোপকথনের চ্যাটের সঙ্গে কিছু ছবিও রয়েছে। এই ধরনের অশালীন ছবি ফেসবুকে পোস্ট হলে, সঙ্গে সঙ্গে কর্তৃপক্ষ সেই পোস্ট ডিলিট করে দেয়। কিন্তু এখন নেইমার যদি এই XCheck-এর আওতায় থাকেন, তাহলে তাঁর সেই পোস্ট আর ডিলিট করা যাবে না। ফেসবুক  সভাপতি (MODERATOR ) ও সেই পোস্ট ডিলিট করতে পারবেন না। সেটা ফেসবুকে থেকে যাবে এবং ৫৬ মিলিয়ন অনলাইন ইউজার তা দেখতে পাবেন।

সর্বোপরি,

পৃথিবীর বিভিন্ন ক্ষমতাশালী বিশিষ্ট ব্যক্তিদের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত রাখতে এই নতুন ফিচারের আবির্ভাব। কিন্তু এই XCheck-এর প্রয়োগের ফলে সামাজিক এই মাধ্যমের শালীনতা কতটা বজায় রাখা যাবে? ফেসবুকের এই নতুন নিয়মের ফলে মডারেটরদের কাজটা আরও কঠিন হয়ে উঠবে। জনপ্রিয় এই সামাজিক মাধ্যমে সমাজের জন্য ক্ষতিকারক অশালীন বিষয়বস্তু পোস্ট হলেও XCheck-এর দৌলতে তা আর ডিলিট করা যাবে না। যার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাব পড়বে সকলের উপরে। ভারতে ফেসবুকের বিভিন্ন ধরনের রাজনৈতিক পোস্ট আগে থেকেই চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। এখন ফেসবুকের এই নতুন নিয়মের ফলে ৫.৮ মিলিয়ন রাজনীতিবিদ ও সেলিব্রিটিদের নানা ধরনের পোস্ট কী প্রভাব ফেলে সেটাই দেখার। ফেসবুকের মতো একটা জনপ্রিয় সামাজিক মাধ্যম, যেখানে সমাজের সব স্তরের মানুষের আনাগোনা রয়েছে, সেখানে XCheck-এর প্রভাব হতে পারে মারাত্মক, এমনটাই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ছাত্রছাত্রীদের জন্য বিনা মূল্যে ও স্বল্পমূল্যে ল্যাপটপ!

কাজটি করার পরিকল্পনা ছিল আরো কয়েক বছর পরে, আরেকটু গুছিয়ে নিয়ে। কিন্তু অসংখ্য ছাত্রছাত্রীর কান্না দেখে কাজটি এখনই হাতে নিতে হলো। অন্তত কাজটা শুরু হোক। যতটা সাহায্য তাদের করা যায়!

শিরোনাম দেখে নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন, আমি কী নিয়ে কথা বলছি। জি, বাংলাদেশের ছাত্রছাত্রীদের হাতে কীভাবে বিনা মূল্যে বা স্বল্পমূল্যে ল্যাপটপ তুলে দেয়া যায়, সেটা নিয়েই লিখতে বসেছি। বিষয়টি অনেক দিন ধরেই মাথায় ছিল। কয়েক বছর আগে একটু শুরু করেছিলাম। কিছু মানুষকে তখন সাহায্য করা গিয়েছিল। এখন আরেকটু ধাক্কা দেয়া যেতে পারে বলেই বিষয়টির অবতারণা করছি।

ছাত্রছাত্রীদের ল্যাপটপ দরকার কেন?

সারা বিশ্বে শিক্ষাব্যবস্থা যেভাবে পাল্টে গেছে, তাতে শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল পদ্ধতি ছাড়া আর উপায় নেই। কেউ কি বর্তমান সময়ে ছাত্রছাত্রীদের লেখাপড়ার অবস্থা দেখেছেন? বেশিভাগই বই কেনে না- বই হয়তো বাজারে পাওয়া যায় না, কিংবা কেনার সামর্থ্য থাকে না। তারা ফটোকপি করে। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আশপাশে যে ফটোকপির দোকান, সেগুলোর দিকে তাকালেই দেখতে পাবেন আমাদের পরের প্রজন্ম কীভাবে ফটোকপি করে তাদের শিক্ষা কার্যক্রম চালাচ্ছে।

বই, ক্লাসনোট, প্রশ্নপত্র, সাজেশন- সবকিছুই ফটোকপি। এবং একটা বর্ষ শেষ, সেই ফটোকপি চলে যাচ্ছে ঝাল-মুড়ি বিক্রেতার কাছে। তাদের কাছে বই থাকছে না। (কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার বইগুলো আমার এখনো আছে। স্কুলের বইও খুঁজলে পাওয়া যেতে পারে।) আমি বর্তমান সময়ের ছাত্রছাত্রীদের জিজ্ঞেস করেছি, তাদের সংগ্রহে বই নেই। বই নাকি তাদের লাগেও না। হবে হয়তো। যেহেতু আমি এখন পড়ছি না, তাই এটা নিয়ে আমার মতামত ঠিক হবে না। বই ছাড়াও যদি বিষয়টি শিখে ফেলা যায়, তাহলে হয়তো বই না-ও লাগতে পারে।

বর্তমান সময়ে বই না লাগলেও একটা ডিভাইস যে লাগবে, সেটা আমি নিশ্চিত। শিক্ষার অসংখ্য ম্যাটেরিয়াল এখন সে চাইলেই ইন্টারনেট থেকে ডাউনলোড করে নিতে পারে, যা আমাদের সময় সম্ভব ছিল না। আমাদের সম্বল ছিল লাইব্রেরি। কিন্তু সেই লাইব্রেরির আবেদন এখন কমে এসেছে। তাই বর্তমান সময়ের ছাত্রছাত্রীদের একটি ডিভাইস হলে তার শিক্ষা কার্যক্রম আরো উন্নত হতে পারে।

সব শিক্ষার্থী কি ডিভাইস এফোর্ড করতে পারবে?

বাংলাদেশ এখনো ধনী দেশ হয়ে ওঠেনি। বাংলাদেশ এইমাত্র উন্নয়নশীল দেশের কাতারে নাম লেখাল। তাই এ দেশের অসংখ্য শিক্ষার্থী ডিজিটাল ডিভাইস পেয়ে যাবে, সেটা সম্ভব নয়। এটা সরকারের পক্ষে দেয়া যেমন সম্ভব নয়, তেমনি ছাত্রছাত্রীদের পক্ষেও কেনা সম্ভব নয়। বেশিভাগ পরিবার তাদের সন্তানদের ট্যাবলেট বা ল্যাপটপ কিনে দিতে পারবে না। এটাই বাস্তবতা। আমি যদি আমার স্কুল/কলেজের কথা মনে করি, আমার মা-বাবা আমাকে একটি ল্যাপটপ কিনে দেয়ার মতো সামর্থ্য রাখতেন না। এমন লাখ লাখ পরিবার পাওয়া যাবে, যাদের পরিবার এটা এফোর্ড করতে পারবে না।

তাহলে উপায়! এই বিশাল জনসংখ্যা তাহলে ডিজিটাল ডিভাইস পাবে না বলে শিক্ষা থেকে পিছিয়ে পড়বে? আসলেই কিন্তু পিছিয়ে পড়বে। এই গ্রহের অন্য দেশের ছেলেমেয়েরা যা শিখবে, আমাদের ছেলেমেয়েরা সেটা পাবে না। যারা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত যেতে পারবে, শুধু তারাই কিছুটা পাবে। কিন্তু সবাই তো আর বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে পারবে না। আবার বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে পারলেই তার যে একটা ল্যাপটপ থাকবে, সেটা না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। আমাদের পরিবারগুলোর তো সেই সক্ষমতা এখনো তৈরি হয়নি। এটা মেনে নিয়েই আমাদের এগোতে হবে।

যেভাবে ল্যাপটপ দেয়া হবে

আমরা একটা ফাউন্ডেশন (নন-প্রফিট) করতে যাচ্ছি, যার মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের ল্যাপটপ দেয়া হবে। কারা এই ল্যাপটপগুলো পাবে, সেটা ধীরে ধীরে ঠিক করব। তবে কীভাবে ল্যাপটপগুলো জোগাড় হবে, সেটা একটু বলা যেতে পারে।

১. আমাদের চারপাশে বিপুল মানুষ আছে, যাদের একাধিক ল্যাপটপ আছে। কিংবা কিছুটা পুরোনো ল্যাপটপ আছে। সেগুলোকে একটু ঠিক করে নিলেই অন্য একজন ব্যবহার করতে পারে। আমরা সেই ল্যাপটপগুলো সংগ্রহ করে, ঠিক করে তারপর ছাত্রছাত্রীদের মাঝে বিতরণ করতে পারি। তাতে রিসাইক্লিন হবে।

২. বিদেশে অনেক ফ্যাক্টরি রিফারবিশড ল্যাপটপ পাওয়া যায়, যেগুলোর মূল্য খুবই কম; কিন্তু গুণগত মান যথেষ্ট ভালো। সেই ল্যাপটপগুলো আমরা বিদেশ থেকে নিয়ে আসতে পারি। সেগুলো পরীক্ষা করে, তারপর ছাত্রছাত্রীদের হাতে তুলে দেয়া যেতে পারে।

৩. যারা কিছু টাকা দিয়ে ল্যাপটপ কেনার সামর্থ্য রাখেন, তাদের একত্র করে বাল্ক ল্যাপটপ অর্ডার করলে খরচ অনেক কম পড়বে। আমরা কিছু কিছু ল্যাপটপ কম মূল্যে তাদের দেব। সে জন্য পুরো প্রোগ্রামটি বিনা মূল্যে ট্যাপটপ নয়, স্বল্পমূল্যেও কেউ কেউ পাবেন।

এভাবে বেশ কিছু ল্যাপটপ জোগাড় করে ফেলা যাবে, যেগুলো ছাত্রছাত্রীদের কাজে লাগতে পারে।

যাদের ল্যাপটপ প্রয়োজন

আমরা একটি ওয়েবসাইট চালু করছি, যার ঠিকানা হলো https://priyo.org (প্রিয়.অর্গ)। যাদের ল্যাপটপ প্রয়োজন, তারা এই ঠিকানায় গিয়ে আবেদন করতে পারেন। এতে তাদের চাহিদা এবং সক্ষমতা জানা যাবে। আবেদন করলেই যে ল্যাপটপ পেয়ে যাবেন, তা কিন্তু নয়। একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করেই ল্যাপটপগুলো দেয়া হবে। কতগুলো ল্যাপটপ কোথা থেকে পাওয়া গেছে এবং কাকে দেয়া হয়েছে, সবকিছুই ওই ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে। ওয়েবসাইটটি কেবলই তৈরি করা হচ্ছে। এখন মাত্র আবেদনটা করা যাবে। শীঘ্রই অন্যান্য তথ্য যুক্ত করা হবে।

তবে আবেদনকারীদের মনে করার কোনো কারণ নেই যে, সবাইকেই পুরোনো ল্যাপটপ ধরিয়ে দেয়া হবে। ল্যাপটপগুলো ব্যবহারযোগ্য হলেই আমরা সেগুলো বিতরণ করব। পাশাপাশি আমরা নতুন ল্যাপটপও দেব, যা কেবল ছাত্রছাত্রীদের জন্য।

যাদের ল্যাপটপ প্রয়োজন, তারা এই ওয়েবসাইটে গিয়ে আগামী ২৬ মার্চের ভেতর আবেদন করতে পারেন।

যারা ল্যাপটপ দান করতে চান

আপনার কাছে যদি পুরোনো ল্যাপটপ থাকে, যা আপনি ‌ব্যবহার করছেন না, তাহলে তার ডেটা মুছে ফেলে ল্যাপটপটি আমাদের ল্যাপটপ ব্যাংকে দান করতে পারেন। আমরা সেই ল্যাপটপটি যদি ব্যবহারের উপযোগী করতে পারি, তাহলে সেটা ঠিক করে কোনো শিক্ষার্থীর হাতে তুলে দিতে পারি। আমাদের ওয়েবসাইটে যোগাযোগের ঠিকানা পেয়ে যাবেন। কুরিয়ারে ল্যাপটপটি পাঠিয়ে দিতে পারেন। নয়তো আমাদের টিমের কেউ একজন গিয়ে আপনার কাছ থেকে ল্যাপটপটি সংগ্রহ করে আনতে পারে।

তবে আপনাদের প্রতি অনুরোধ থাকবে, ঘরে কিংবা অফিসে একটু চোখ বুলিয়ে দেখুন। অনেক ল্যাপটপ হয়তো আশপাশে রয়েছে, যেগুলো বছরের পর বছর এমনিতেই পড়ে থাকবে। কিছুদিন পর ব্যাটারি নষ্ট হয়ে যাবে। আপনি আর ব্যবহার করতেই পারবেন না। অনেক অফিস আছে, যারা নতুন ল্যাপটপ কিনেছে, পুরোনোগুলো কী করবে বুঝতে পারছে না। সেগুলো কিন্তু আমাদের ল্যাপটপ ব্যাংকে দিয়ে দিতে পারেন।

শর্তসমূহ:

এখানে যারা ল্যাপটপ পাবেন, তাদের জন্য একটি শর্ত আছে। আর যারা আমাদের মাধ্যমে অন্যকে ল্যাপটপ দান করতে চান, তাদের জন্য একটি শর্ত রয়েছে।

ক. ছাত্রছাত্রীদের জন্য শর্ত: মিথ্যা তথ্য দেয়া যাবে না। এই একটাই শর্ত। যে মুহূর্তে কেউ মিথ্যা তথ্য দেবে, তাকে সিস্টেম থেকে ব্যান করা হবে। তার কোনো কথাই শোনা হবে না, সে যত ভালো শিক্ষার্থীই হোক না কেন।

খ. ল্যাপটপদানকারীদের জন্য শর্ত: আমরা সবেমাত্র ফাউন্ডেশনের কাজে হাত দিয়েছি। এখনো সবকিছু গোছানো হয়নি। তাই এখনই আপনাদের সব হিসাব-নিকাশ হাতে তুলে দিতে পারছি না। যদি আমাদের বিশ্বাস করেন, তবেই আপনার পুরোনো ল্যাপটপটি আমাদের দিতে পারেন। মনে কোনো রকম সন্দেহ নিয়ে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ না করার পরামর্শ থাকল।

যা দিয়ে শুরু করেছিলাম, সেই প্রসঙ্গটা দিয়ে শেষ করি।

এই প্রকল্পটা আমাদের হাতে ছিল। কিন্তু এখন সামনে নিয়ে এসেছি এ জন্য যে এই করোনাকালে আমাদের অনেক ছাত্রছাত্রী ডিভাইসের জন্য লেখাপড়া করতে পারছে না। স্মার্টফোন দিয়ে হয়তো তাদের কাজ চলছে, কিন্তু স্মার্টফোন আসলে শিক্ষা-উপকরণ নয়। ওই ছোট স্ক্রিনে তার শেখাটা হয় না। তাদের কথা মাথায় রেখেই আমরা আমাদের কিছুটা সময় ওই দিকে দিচ্ছি। যদি আপনারা কেউ আমাদের সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবক হতে চান, তাহলে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। সবাই চেষ্টা করলে অনেক শিক্ষার্থীর জীবনই পাল্টে দেয়া যেতে পারে। প্রয়োজন শুধু সামান্য চেষ্টা।

এ বছর বাংলাদেশ তার পঞ্চাশে পা দিল। দেখি, বাংলাদেশের এই বছরে কতগুলো ছাত্রছাত্রীর হাতে ল্যাপটপ তুলে দিতে পারি!

Internet Bandwidth Theft: ব্য়ান্ডউইথ চুরি করে তা থেকে মোটা টাকা রোজগার করছে জালিয়াতরা। কী ভাবে এই কাজটা সম্পন্ন হচ্ছে?

চুরি হয়ে যাচ্ছে ইন্টারনেট ব্য়ান্ডউইথ (Internet Bandwidth)। অথচ বুঝতেই পারছেন না ব্য়বহারকারী। দিনের পর দিন নিজের টাকা খরচের খাতায় যাচ্ছে। কিন্তু বিষয়টা ঠিক কী?

এত দিন পর্যন্ত জালিয়াতরা বিভিন্ন তথ্য় চুরির জন্য় অন্য়ের ডিভাইজে হানা দিত। এখনও করে। কারও ডিভাইজ থেকে ব্য়ক্তিগত তথ্য় চুরি (internet bandwidth theft) , কারও কাছ থেকে গুপ্তমুদ্রা(cryptocurrency)সংক্রান্ত গোপন তথ্য় হাতিয়ে নেওয়া সহ আরও বিভিন্ন ক্ষেত্রে জাল বিছিয়ে রেখেছে জালিয়াতরা। কিন্তু এবার বিভিন্ন ডিভাইজে হানা দিচ্ছে শুধুমাত্র ব্য়ান্ডউইথ চুরি করতে। সেই ব্য়ান্ডউইথ চুরি করে তা থেকে মোটা টাকা রোজগার করছে জালিয়াতরা (hackers) । কী ভাবে এই কাজটা সম্পন্ন হচ্ছে?

পুরো কাজটির জন্য় একটি প্রক্সিওয়্যার (proxyware) ব্য়বহার করছে জালিয়াত চক্রের পাণ্ডারা। সিসকো ট্য়ালোস (Cisco Talos) ইতিমধ্য়ে ওই বিশেষ প্রক্সিওয়্যারের সন্ধান পেয়েছে। ওই ওয়্যারের মাধ্য়মে বিভিন্ন ডিভাইজকে টার্গেট করা হয়। তবে এক্ষেত্রে সব ডিভাইজকে টার্গেট করতে পারেনা প্রক্সিওয়্যার। মূলত যে সব সিস্টেমে বা ডিভাইজে আগে থেকেই গোপনীয়তা (Malware ) ঢুকে রয়েছে, বেছে বেছে সেই সিস্টেমগুলিতেই হামলা চালায় জালিয়াতরা। ZDNet নামে একটি সংস্থা জানিয়েছে, প্রক্সিওয়্যার কোনও অবৈধ কিছু নয়। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে প্রক্সিওয়্যার ব্য়বহার করা হয়। কিন্তু জালিয়াতরা ওই প্রক্সিওয়্যার ব্যবহার করে খারাপ উদ্দেশ্যে।

এই প্রক্সিওয়্যার টুলটিকেই অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে হ্য়াকাররা। ব্য়বহারকারীর অজান্তেই তাদের কোনও ডিভাইজে প্রক্সিওয়্যার সফ্টওয়্যারটিকে ইনস্টল করে দেওয়া হচ্ছে। এর পরেই সেই ডিভাইজের ব্য়ান্ডউইথ চুরি হয়ে যাচ্ছে এবং তা চলে যাচ্ছে হ্য়াকারদের দখলে। এমনকী দীর্ঘদিন কেটে গেলেও ব্য়বহারকারীরা বুঝতে পারে না তাদের ডিভাইসে এই ধরনের কোনও অ্য়াপ(app) রয়েছে।

কী ভাবে প্রক্সিওয়্যার ইনস্টল করে দেওয়া হচ্ছে?

মূলত কোনও পাইরেটেড(pirated )অ্য়াপের মাধ্য়মে বা কোনও সফটঅয়্যারের মধ্য়মে ওই প্রক্সিওয়্যার ইনস্টল করে দেওয়া হচ্ছে।

কী ভাবে বোঝা সম্ভব কোনও ডিভাইজে প্রক্সিওয়্যার রয়েছে কি না?

১) প্রতিনিয়ত ফোন বা ল্য়াপটপে থাকা অ্য়াপ বা সফ্টওয়্যারের উপর নজর রাখতে হবে। যদি দেখা যায় কোনও অ্য়াপ নিজে থেকে ডাউনলোড করা হয়নি, তাহলে যা দ্রুত ডিলিট করে দিতে হবে।

২) কোনও অ্যাপ ডাউনলোড করার আগে তার source যাচাই করতে হবে। Google Play Store এবং Apple App Store থেকে ডাউনলোড করা-ই ভালো।

৩) ফোনে বিল্ট ইন সিকিউরিটি স্ক্য়ানার থাকলে তা active রাখতে হবে।

৪) অপরিচিত কেউ কোনও link পাঠালে তাতে ক্লিক করা উচিত নয়।

৫) পাইরেটেড অ্য়াপ বা সফ্টওয়্যার কোনও ডিভাইজে ইনস্টল করা সঠিক সিদ্ধান্ত নয়।

রাইজেন প্রো প্রসেসর নিয়ে এসারের নতুন দুই ল্যাপটপ

এএমডির রাইজেন প্রো প্রসেসরসহ বাজারে ট্রাভেলমেট পি২ সিরিজে নতুন দুটি ল্যাপটপ নিয়ে এসেছে তাইওয়ানের বহুজাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এসার। ১৪ ও ১৫ দশমিক ৬ ইঞ্চি ডিসপ্লে নিয়ে এ দুটি মডেল বাজারে উন্মুক্ত করেছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রসেসর ছাড়াও ডিজাইন ও বৈশিষ্ট্যের দিক থেকেও দুটি ল্যাপটপ প্রায় একই।

এসার ট্রাভেলমেট পি২১৪৪১জি২ ১৪ ইঞ্চির ল্যাপটপে এএমডি রাইজেন ৫ প্রো ৫৬৫০ইউ চিপসেট ব্যবহার করা হয়েছে। অন্যদিকে ১৫ দশমিক ৬ ইঞ্চির ট্রাভেলমেট পি ২১৫৪১জি২ ল্যাপটপটি এএমডি রাইজেন ৫ প্রো ৫৬৫০ইউ অথবা রাইজেন ৭ প্রো ৫৮৫০ইউ চিপসেট পাওয়া যাবে।

১৫ দশমিক ৬ ইঞ্চির ট্রাভেলমেট পি২ ল্যাপটপে ১২৯০–১০৮০ পিক্সেলের ফুল এইচডি আইপিএস ডিসপ্লে দেয়া হয়েছে। এর ফিল্ড অব ভিউ ১৭০ ডিগ্রি এবং আসপেক্ট রেশিও ১৬:৯। ১৪ ইঞ্চি ল্যাপটপের ডিসপ্লে সম্পর্কিত কোনো তথ্য জানা যায়নি।

দুটি ল্যাপটপেই ৮ জিবি ডিডিআরফোর র‌্যাম ও ২৫৬ জিবি এসএসডি স্টোরেজ দেয়া হয়েছে। ল্যাপটপগুলোতে ইউএসবি টাইপ এ পোর্টস, একটি ইউএসবি টাইপ সি পোর্ট, একটি এইচডিএমআই পোর্ট, ভিজিএ পোর্ট ও ইথারনেট পোর্ট রয়েছে। ল্যাপটপের সঙ্গে ব্যবহারকারীরা এসডি কার্ড রিডার, ৩ দশমিক ৫ মিলিমিটারের হেডফোন জ্যাকের পাশাপাশি ব্লুটুথ ভার্সন ৫, ওয়াই-ফাই ৮০২.১১ এ/বি/জি/এন/এসি/এএক্স সংযোগ পাবেন।

ট্রাভেলমেট ল্যাপটপগুলোতে ৭২০ পিক্সেলের ভিডিও ক্যামেরা দেয়া হয়েছে। ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য ক্যামেরার সঙ্গে ম্যানুয়াল শাটার দেয়া হয়েছে। উইন্ডোজ হ্যালোর জন্য ল্যাপটপে আইআর ক্যামেরা ও দুটি মাইক্রোফোন দেয়া হয়েছে।

এসারের দাবি একবারের চার্জে ল্যাপটপগুলো ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত ব্যাকআপ দিতে সক্ষম। ৬৫ ওয়াটের চার্জারের মাধ্যমে তাদের থ্রিসেল লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি চার্জ দেয়া যাবে বলেও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ১৫ দশমিক ৬ ইঞ্চি ডিসপ্লের ল্যাপটপটির ওজন ১ কেজি ৮০০ গ্রাম।

বাজারে শুধু কালো রঙেই ল্যাপটপগুলো পাওয়া যাবে। এএমডি রাইজেন ৫ প্রো প্রসেসরসহ ট্রাভেলমেট পি২ ১৫ দশমিক ৬ ইঞ্চি ল্যাপটপের দাম ৬৩ হাজার থেকে ৭০ হাজার টাকার মধ্যে এবং রাইজেন ৭ প্রো প্রসেসর সংবলিত ল্যাপটপের দাম ৭২ হাজার থেকে ৮০ হাজার টাকার মধ্যে হতে পারে

মিডিয়াটেক প্রসেসরসহ রিয়েলমির প্রথম প্যাড উন্মোচন

স্লিম ডিজাইন, কোয়াড স্পিকার ও মিডিয়াটেকের হেলিও প্রসেসর নিয়ে বাজারে নিজেদের প্রথম প্যাড উন্মোচন করল চীনের অন্যতম প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান রিয়েলমি। রিয়েলমি প্যাডে অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে অ্যান্ড্রয়েড ১১ দেয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে ইউজার ইন্টারফেসে প্যাড স্কিনসহ রিয়েলমি ইউআই দেয়া হয়েছে। এ ট্যাবে ১০ দশমিক ৪ ইঞ্চির ডব্লিউইউএক্সজিএ+২০০০X১২০০ পিক্সেলের ডিসপ্লে দেয়া হয়েছে। যার স্ক্রিন টু বডি রেশিও ৮২ দশমিক ৫ শতাংশ। অন্ধকারে চোখের ওপর চাপ কমাতে এ প্যাডে প্রিলোডেড নাইট মোড রয়েছে।

রিয়েলমি প্যাডে মিডিয়াটেকের হেলিও জি৮০ প্রসেসর ব্যবহার করা হয়েছে। মাল্টি টাস্কিং সুবিধার জন্য এতে ৪ জিবি র‍্যাম ও ৬৪ জিবি ইন্টারনাল স্টোরেজ দেয়া হয়েছে। এ প্যাডে ৮ মেগাপিক্সেলের আল্ট্রা ওয়াইড ফ্রন্ট ও রিয়ার ক্যামেরা রয়েছে। প্যাডের ওজন ৪৪০ গ্রাম।

রিয়েলমি প্যাডে চারটি স্পিকার যুক্ত করা হয়েছে। এগুলো ডলবি অ্যাটমস ও হাই রেস অডিও প্রযুক্তি সংকলিত। প্যাডে ৭ হাজার ১০০ মিলি অ্যাম্পিয়ার আওয়ারের ব্যাটারি দেয়া হয়েছে। বাজারে ৩/৩২ জিবি স্টোরেজের ওয়াই-ফাই অনলি ট্যাবের মূল্য ১৬ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকার মধ্যে। ৩/৩২ জিবি ওয়াই-ফাই ও ফোরজি ভ্যারিয়েন্টের মূল্য ১৮ হাজার থেকে ২৩ হাজার টাকার মধ্যে এবং ৪/৬৪ জিবি ওয়াই-ফাই ও ফোরজি ভ্যারিয়েন্টের মূল্য ২০ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকার মধ্যে।

বিশ্বে মোবাইল ইন্টারনেটের গতি বেড়েছে ৬০ শতাংশ, বাংলাদেশে ১৫ শতাংশ

গত এক বছরে বাংলাদেশে মোবাইল ইন্টারনেটের গতি বেড়েছে ১৫ দশমিক ৩৮ শতাংশ। তবে, একই সময়ে বিশ্বব্যাপী মোবাইল ইন্টারনেটের গড় গতি গড়ে বেড়েছে ৫৯ দশমিক ৫ শতাংশ। এ হিসেবে বাংলাদেশে মোবাইল ইন্টারনেটের গতি বৃদ্ধির হার বৈশ্বিক গড়ের প্রায় এক-চতুর্থাংশ।

মোবাইল ইন্টারনেটে বৈশ্বিক গড়ের চেয়ে বাংলাদেশের গড় খারাপ হলেও এগিয়ে আছে ব্রডব্যান্ড সংযোগের গতি। গত বছরের জুলাইয়ের তুলনায় চলতি বছরের জুলাইয়ে বিশ্বে ব্রডব্যান্ডের সংযোগের গতি বেড়েছে গড়ে ৩১ দশমিক ৮৭ শতাংশ।

সম্প্রতি প্রকাশিত ইন্টারনেটের গতি পরীক্ষা ও বিশ্লেষণের প্রতিষ্ঠান ‘ওকলা’র তথ্য বিশ্লেষণ করে এই তথ্য পাওয়া গেছে। প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে বাংলাদেশে মোবাইল ইন্টারনেটের গতি বাড়ার হার ১৫ দশমিক ৩৮ শতাংশ। অথচ এ সময়ে বিশ্বব্যাপী মোবাইল ইন্টারনেটের গতি গড়ে বেড়েছে ৫৯ দশমিক ৫ শতাংশ।

প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ২০২০ সালের জুলাইয়ে বিশ্বে মোবাইল ইন্টারনেটের ডাউনলোডের গড় গতি ছিল সেকেন্ডে ৩৪ দশমিক ৫২ মেগাবাইট (এমবিপিএস)। চলতি বছরের জুলাইয়ে এসে তা বেড়ে হয়েছে ৫৫ দশমিক শূন্য ৭ এমবিপিএস। আর বাংলাদেশে গত বছরের জুলাইয়ে মোবাইল ইন্টারনেটের ডাউনলোডের গড় গতি ছিল ১০ দশমিক ৯২ এমবিপিএস। এক বছরের ব্যবধানে তা হয়েছে ১২ দশমিক ৬ এমবিপিএস।

প্রতিষ্ঠানটির মতে, ২০২১ সালে মোবাইল ইন্টারনেটের গতিতে শীর্ষ ১০ দেশটি দেশ হলো: সংযুক্ত আরব আমিরাত, দক্ষিণ কোরিয়া, কাতার, চীন, সাইপ্রাস, নরওয়ে, সৌদি আরব, কুয়েত, অস্ট্রেলিয়া ও বুলগেরিয়া।

ওকলার মোবাইল ইন্টারনেটের গতির সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান বরাবরই শেষের দিকে। জুনের মতো জুলাইয়েও বাংলাদেশ ছিল ১৩৫ নম্বরে। তবে জুনের প্রতিবেদনে তালিকায় ছিল ১৩৭ দেশ আর জুলাইয়ে ছিল ১৩৯ দেশ।

উইন্ডোজ ১১ এ চলবে না ব্লুস্ট্যাক্স, কী করবেন ইমুলেটর গেমাররা?

উইন্ডোজ ১১ এর ঘোষণা ইতমধ্যেই দিয়ে দিয়েছে মাইক্রোসফট। আর নতুন উইন্ডোজ এ বেশ কিছু ফিচার যুক্ত করা হয়েছে এবং বেশ কিছু ফিচার বাদ দেওয়া হয়েছে। যার অনেকটাই অনেক ক্ষেত্রে ভাল প্রভাব ফেলবে। যেসকল ফিচার বাদ দেওয়া হয়েছে সেগুলোর মধ্যে একটি হলো, ইমুলেটর আর চালানো যাবে না উইন্ডোজ ১১ তে। তবে চলুন জেনে নেই এর কিছু ভাল দিক এবং খারাপ দিক।

সবার আগে চলুন জেনে নেই যে উইন্ডোজ ১১ তে ইমুলেটর ব্যবহার ব্যান করা হয়েছে কেন? এর পেছনে বেশ কিছু কারণ আছে। যেগুলো একে একে আপনাদের সামনে তুলে ধরছি। আমরা যারা ইমুলেটর ব্যবহার করে গেমিং করে থাকি, আমরা গেমিং এর সময় বেশ কিছু সুবিধা পেয়ে থাকি। যেমন আমরা অনেক সময়েই ম্যাক্রো ব্যবহার করে থাকি। আবার আমরা অনেক সময় এক্সটার্নাল ফাইল দিয়ে হ্যাক বা গ্লিচ ফাইল ব্যবহার করে থাকি। যার ফলে যখন আমরা চিট করছি বলে রিপোর্ট করা হয় তখন গেমের কর্পরেশান চেষ্টা করেও আমাদের এই ফাইলগুলো খুজে পায় না। কেননা যখন আমরা ইমুলেটর ব্যবহার করি তখন ইমুলেটর থেকে আমাদের মেইন সিস্টেমের ফাইল দেখা যায় না। যতই সেটা সেই ইমুলেটরের সিস্টেম ফাইল হোক না কেন। আর একারণেই আমাদের ইমুলেটর ব্যবহার করার সুজোগ উইন্ডোজ ১১ তে আর থাকছে না।

যদি আমরা ইমুলেটর ব্যবহার করতে না পারি তাহলে আমাদের সবথেকে বড় সমস্যা যেটা মনে হতে পারে সেটা হলো যে আমরা আর কখনো ফোনের গেম আমাদের কম্পিউটারে খেলতে পারব না। তবে যদি আমরা একটু উইন্ডোজ ১১ এর নতুন ফিচার দেখি তাহলে দেখতে পাব যে আমরা উইন্ডোজ ১১ তে যেকোন অ্যান্ড্রোইড অ্যাপ্লিকেশান ব্যবহার করতে পারব। এতে আমরা বেশ কিছু সুবিধা পাব।

প্রথমত আমাদের ইমুলেটর ব্যবহার করতে হবে না আর আমরা সরাসরি উইন্ডোজ এই গেমগুলো খেলতে পারব তাই এখানে কোন থার্ড পার্টি থাকছে না। তাই আমাদের গেমিং এক্সপেরিয়েন্স ইমুলেটরের চাইতে ভাল হবে কেননা ইমুলেটর অতিরিক্ত মেমরি ও সিপিউ এবং জিপিউ দখল করে থাকে। যখন আমরা ইমুলেটর ব্যবহার করব না তখন ইমুলেটরের দখল করা মেমরি ও কোর আমরা চাইলে আমাদের গেমে বা অন্য কোন অ্যাপ্লিকেশান এ ব্যবহার করতে পারব।

আর সবথেকে বড় যে সুবিধা আমরা পাব সেটা হলো আমরা হয়ত ই-স্পোর্টসে খেলার সুজোগ পেতে পারি। আপনি যদি এই লেখার প্রথম অংশ পড়ে থাকেন তাহলে আপনি জেনেই গেছেন যে আসলে এর কী কী সমস্যা আছে। আর এইসকল খারাপ দিকের কারণে মোবাইল ফোনের যেসকল গেমের ই-স্পোর্টস হয়ে থাকে সেসকল গেম গুলোর ই-স্পোর্টস পিসি প্লেয়ার তথা ইমুলেটর প্লেয়াররা খেলতে পারে না। যখন আমরা সরাসরি অ্যান্ড্রোইডের গেমগুলো আমাদের উইন্ডোজ সিস্টেমে খেলতে পারব তখন আমাদের চিট করার কোন উপায় থাকবে না। তখন হয়ত আমাদেরও ই-স্পোর্ট খেলার সুজোগ থাকবে।

তো এই ছিল ইমুলেটর ব্যান হওয়ার কারণ ও প্রভাব। আপনার যদি লেখাটি ভাল লেগে থাকে তাহলে নিজের ফেসবুক বা অন্য যেকোন সামাজিক প্ল্যাটফর্মে শেয়ার করুন। আর আমাদের সাথেই থাকুন।

গুগল মিটে ফ্রিতে ১ ঘণ্টা মিটিং করা যাবে

গুগল মিটে এখন থেকে বিনা মূল্যে ৬০ মিনিট বা ১ ঘণ্টা পর্যন্ত ভিডিও কলের সুবিধা পাওয়া যাবে।

গুগল বলছে, ভিডিও কলে ৫৫ মিনিট হয়ে যাওয়ার পর অংশগ্রহণকারীদের কাছে একটি নোটিফিকেশন যাবে। ভিডিও কলের সময়সীমা বাড়ানোর জন্য যিনি ভিডিও কলের হোস্ট তাকে জিমেইল অ্যাকাউন্টটি নতুন ভার্সনে আপডেট করতে হবে। তবে যেকোনো ফ্রি এবং পেইড জিমেইল ব্যবহারকারী ওয়ান-অন-ওয়ান ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত গুগল মিটে ভিডিও কলের সুবিধা পাবেন।

স্মার্টফোনের স্ক্রিন প্রটেক্টর: বাঁচায়তো না, উল্টো ক্ষতি করে!

বেশিরভাগ স্মার্টফোন ব্যবহারকারী নিজের ফোনকে সুরক্ষিত রাখতে ফোনের উপর স্ক্রিন গার্ড বা স্ক্রিন প্রটেক্টর লাগান। তবে অনেকেরই জানা নেই, থার্ড পার্টি স্ক্রিন গার্ড ব্যবহার করলে তা ফোনকে সুরক্ষিত রাখাতো দূর, তার ক্ষতিই বেশি করে!

সম্প্রতি প্রকাশিত এক রিপোর্টের বরাতে জেএসনিউজ টাইমস জানায়- স্মার্টফোনের স্ক্রিনের তলায় দুটি সেন্সর থাকে যেগুলোর নাম অ্যাম্বিয়েন্ট লাইট এবং প্রক্সিমিটি। বাইরে গেলে রোদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে স্ক্রিনের ব্রাইটনেস স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাড়ে বা কমে এই অ্যাম্বিয়েন্ট লাইট সেন্সরের সাহায্যে। বেশি রোদে বের হলে স্ক্রিন বেশি উজ্জল হয় যাতে সবকিছু ঠিকভাবে দেখা যায়। কম উজ্জ্বল স্থানে স্ক্রিনের ব্রাইটনেস স্বয়ংক্রিয়ভাবে কমিয়ে দেয় এই সেন্সর। অন্যদিকে, লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, কানে ফোন লাগিয়ে কথা বলার সময় স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্ক্রিনের লাইট নিভে যায়। কানের সঙ্গে দূরত্ব বুঝে এই লাইট জ্বলে বা নেভে। এই কাজটি করে প্রক্সিমিটি সেন্সর।

অ্যাম্বিয়েন্ট লাইট বা প্রক্সিমিটি ফোনের বাইরে থেকে দেখা যায় না।

তবে ফোনের কার্যক্রমে এদের অতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু, স্ক্রিন-গার্ড লাগালে এ দুটি সেন্সর গার্ড হয়ে যায়। যার কারণে অনেক সময় স্ক্রিনের ‘টাচ’ কাজ করে না। তাছাড়া থার্ড পার্টি স্ক্রিন গার্ড ব্যবহারের ফলে অনেক ক্ষেত্রেই ইন-ডিসপ্লে ফিংগারপ্রিন্ট সেন্সরও কাজ করা বন্ধ করে দেয়।

এ কারণে বিশেষজ্ঞদের মত, স্ক্রিন গার্ড যদি একান্তই লাগাতে হয় তাহলে কোনও ব্র্যান্ডেড স্ক্রিন প্রটেক্টর ব্যবহার করা উচিত। সবচেয়ে ভালো হয়, যে কোম্পানির ফোন, সেই কোম্পানির স্ক্রিন গার্ড ব্যবহার করতে পারলে। সেক্ষেত্রে স্ক্রিন গার্ড সেভাবেই তৈরি হয় যাতে সেন্সর কোনভাবে আটকে না যায়। তাতে ফোনেরও ক্ষতি হয় না।

ইভ্যালির সদস্যপদ স্থগিত করছে ই-ক্যাব

ই-ক্যাবের চিঠিতে ই-কমার্স ব্যবসার নামে গ্রাহকদের অর্থ আত্মসাত, মার্চেন্টদের কাছ থেকে পাওয়া বিভিন্ন অভিযোগ, বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন প্রতিবেদনে উল্লেখিত বিভিন্ন অনিয়ম তুলে ধরে ইভ্যালির বিরুদ্ধে সম্ভাবনাময় ই-কমার্সখাতে অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগ আনা হয়েছে।

গ্রাহক ও মার্চেন্টদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে ইভ্যালি ডট কমের সদস্যপদ স্থগিত করার উদ্যোগ নিয়েছে ই-কমার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব)। 

বাংলাদেশ ব্যাংকের ইন্সপেকশন রিপোর্টসহ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, বিভিন্ন ক্রেতা ও মার্চেন্টদের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়ার প্রেক্ষিতে ‘সদস্যপদ কেন স্থগিত করা হবে না’ তার জবাব চেয়ে বুধবার ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাসেলকে চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে জানিয়েছেন ই-ক্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ শাহাব উদ্দিন। 

তিনি বলেন, ‘বুধবার রেজিস্ট্রি ডাকযোগে পাঠানো চিঠি পাঠিয়েছি। চিঠি পাওয়ার সাত কর্মদিবসের মধ্যে ইভ্যালিকে জবাব দিতে বলা হয়েছে। মূলত ইভ্যালির সদস্যপদ স্থগিত করার জন্য ই-ক্যাবের গঠনতন্ত্রের ৯(ডি) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী শোকজ লেটার পাঠানো হয়েছে।’

চিঠিতে ই-কমার্স ব্যবসার নামে গ্রাহকদের অর্থ আত্মসাত, মার্চেন্টদের কাছ থেকে পাওয়া বিভিন্ন অভিযোগ, বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন প্রতিবেদনে উল্লেখিত বিভিন্ন অনিয়ম তুলে ধরে ইভ্যালির বিরুদ্ধে সম্ভাবনাময় ই-কমার্সখাতে অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগ আনা হয়েছে।

ইভ্যালি ছাড়াও গ্লিটার্স আরএসডি ওয়ার্ল্ড, গ্রীন বাংলা ই-কমার্স লিমিটেড, এ্যানেক্স ওয়ার্ল্ড ওয়াইড লিমিটেড, আমার বাজার লিমিটেড, এক্সিলেন্ট ওয়ার্ল্ড এ্যাগ্রো ফুড এন্ড কনজ্যুমারস লিমিটেডকে শোকজ লেটার পাঠিয়েছে ই-ক্যাব।

আরও বেশকিছু কোম্পানিকে শোকজ লেটার পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।

সংগঠনটির গঠনতন্ত্রে সদস্যপদ স্থগিত বা বাতিল করার আগে ব্যাখ্যা চাওয়ার বিধান থাকায় এ চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে জানান ই-ক্যাব কর্মকর্তারা।

সাহাব উদ্দিন জানান, ব্র্যাক ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংক যে ১০টি কোম্পানির সঙ্গে তাদের ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডের লেনদেন স্থগিত করেছে, ওই ১০ কোম্পানির মধ্যে যারা ইক্যাবের সদস্য রয়েছে, তাদের সবাইকে শোকজ লেটার পাঠানো হচ্ছে। মূলত ই-কমার্স সেক্টরের সম্ভাবনা কাজে লাগানো ও গ্রাহক আস্থা বাড়াতেই এমএলএম পদ্ধতিতে পরিচালিত কোম্পানিগুলোর সদস্যপদ স্থগিত করা হবে। 

ই-ক্যাবের ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ‘ইভ্যালিসহ বেশকিছু কোম্পানি যেভাবে নতুন গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে পুরনো গ্রাহকদের পণ্য বা রিফান্ড দিচ্ছে তা কোনমতেই ই-কমার্স বিজনেস নয়।’

তিনি বলেন, ‘ইভ্যালি গ্রাহকদের কাছ থেকে অগ্রিম ২১৫ কোটি টাকা নিয়ে পণ্য দেয়নি, আবার মার্চেন্টদের কাছ থেকে বাকিতে পণ্য এনেছে ১৯০ কোটি টাকার। গ্রাহকদের কাছ থেকে অগ্রিম মূল্য নেওয়ার পরও মার্চেন্টদের কাছে বকেয়া থাকার কথা নয়। এখন তারা গ্রাহক বা মার্চেন্ট কারও পাওনাই পরিশোধে করতে পারছে না। তাহলে এসব অর্থ গেল কোথায়?’

ইভ্যালিসহ বিভিন্ন কোম্পানির এ ধরণের কর্মকান্ডের কারণে সার্বিকভাবে ই-কমার্সখাতের উপর গ্রাহকদের আস্থা কমে গেছে। যারা নিয়ম মেনে ব্যবসা করছেন, তারাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। ই-ক্যাবের অনেক সদস্যও কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে সংগঠনের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের কাছে অভিযোগ জমা দিয়েছেন। তাই এখাতের ভাবমূর্তি রক্ষায় এমএলএম পদ্ধতিতে ব্যবসারত সদস্য কোম্পানিগুলোর সদস্যপদ স্থগিত ও পরে বাতিল করা হবে।

ই-ক্যাবের সদস্য সংখ্যা প্রায় ১১০০, যার মধ্যে ১৪টি বড় কোম্পানি ই-কমার্সের নামে এমএলএম ব্যবসা পরিচালনা করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এর মধ্যে ইভ্যালির ব্যাংক হিসাবের তথ্য রয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে। আরও ১১টি কোম্পানি- আলেশা মার্ট, ধামাকা শপ, সিরাজগঞ্জ শপ, আলাদিনের প্রদীপ, বুম বুম, আদিয়ান মার্ট, নিডস, কিউকম, দালাল প্লাস, ইঅরেঞ্জ এবং বাজাজ কালেকশন এর ব্যাংক হিসাব তলব করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।  

ইভ্যালির উপর বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন প্রতিবেদনের তথ্য নিয়ে গত ২২ জুন দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড সংবাদ প্রকাশের পর ব্র্যাক ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়াসহ বেসরকারিখাতের বিভিন্ন ব্যাংক ইভ্যালি, আলেশা মার্ট, ধামাকা শপ, সিরাজগঞ্জ শপ, আলাদিনের প্রদীপ, বুম বুম, আদিয়ান মার্ট, নিডস, কিউকম ও ইঅরেঞ্জ এর সঙ্গে ডেবিট, ক্রেডিট ও প্রিপেইড কার্ডে লেনদেন স্থগিত করেছে। 

অন্যদিকে, গিফট ভাউচারে পণ্য বিক্রির পর পাওনা টাকা না দেওয়ায় ইভ্যালির গিফট ভাউচার গ্রহণ করা স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে ট্রেন্ডজ, রঙ বাংলাদেশ, আর্টিসান আউটফিটার্স, ফিট এলিগ্যান্স এবং রিও ইন্টারন্যাশনাল সহ বিভিন্ন জনপ্রিয় ব্র্যান্ড। 


Post navigation