গুগল মিটে ফ্রিতে ১ ঘণ্টা মিটিং করা যাবে

গুগল মিটে এখন থেকে বিনা মূল্যে ৬০ মিনিট বা ১ ঘণ্টা পর্যন্ত ভিডিও কলের সুবিধা পাওয়া যাবে।

গুগল বলছে, ভিডিও কলে ৫৫ মিনিট হয়ে যাওয়ার পর অংশগ্রহণকারীদের কাছে একটি নোটিফিকেশন যাবে। ভিডিও কলের সময়সীমা বাড়ানোর জন্য যিনি ভিডিও কলের হোস্ট তাকে জিমেইল অ্যাকাউন্টটি নতুন ভার্সনে আপডেট করতে হবে। তবে যেকোনো ফ্রি এবং পেইড জিমেইল ব্যবহারকারী ওয়ান-অন-ওয়ান ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত গুগল মিটে ভিডিও কলের সুবিধা পাবেন।

স্মার্টফোনের স্ক্রিন প্রটেক্টর: বাঁচায়তো না, উল্টো ক্ষতি করে!

বেশিরভাগ স্মার্টফোন ব্যবহারকারী নিজের ফোনকে সুরক্ষিত রাখতে ফোনের উপর স্ক্রিন গার্ড বা স্ক্রিন প্রটেক্টর লাগান। তবে অনেকেরই জানা নেই, থার্ড পার্টি স্ক্রিন গার্ড ব্যবহার করলে তা ফোনকে সুরক্ষিত রাখাতো দূর, তার ক্ষতিই বেশি করে!

সম্প্রতি প্রকাশিত এক রিপোর্টের বরাতে জেএসনিউজ টাইমস জানায়- স্মার্টফোনের স্ক্রিনের তলায় দুটি সেন্সর থাকে যেগুলোর নাম অ্যাম্বিয়েন্ট লাইট এবং প্রক্সিমিটি। বাইরে গেলে রোদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে স্ক্রিনের ব্রাইটনেস স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাড়ে বা কমে এই অ্যাম্বিয়েন্ট লাইট সেন্সরের সাহায্যে। বেশি রোদে বের হলে স্ক্রিন বেশি উজ্জল হয় যাতে সবকিছু ঠিকভাবে দেখা যায়। কম উজ্জ্বল স্থানে স্ক্রিনের ব্রাইটনেস স্বয়ংক্রিয়ভাবে কমিয়ে দেয় এই সেন্সর। অন্যদিকে, লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, কানে ফোন লাগিয়ে কথা বলার সময় স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্ক্রিনের লাইট নিভে যায়। কানের সঙ্গে দূরত্ব বুঝে এই লাইট জ্বলে বা নেভে। এই কাজটি করে প্রক্সিমিটি সেন্সর।

অ্যাম্বিয়েন্ট লাইট বা প্রক্সিমিটি ফোনের বাইরে থেকে দেখা যায় না।

তবে ফোনের কার্যক্রমে এদের অতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু, স্ক্রিন-গার্ড লাগালে এ দুটি সেন্সর গার্ড হয়ে যায়। যার কারণে অনেক সময় স্ক্রিনের ‘টাচ’ কাজ করে না। তাছাড়া থার্ড পার্টি স্ক্রিন গার্ড ব্যবহারের ফলে অনেক ক্ষেত্রেই ইন-ডিসপ্লে ফিংগারপ্রিন্ট সেন্সরও কাজ করা বন্ধ করে দেয়।

এ কারণে বিশেষজ্ঞদের মত, স্ক্রিন গার্ড যদি একান্তই লাগাতে হয় তাহলে কোনও ব্র্যান্ডেড স্ক্রিন প্রটেক্টর ব্যবহার করা উচিত। সবচেয়ে ভালো হয়, যে কোম্পানির ফোন, সেই কোম্পানির স্ক্রিন গার্ড ব্যবহার করতে পারলে। সেক্ষেত্রে স্ক্রিন গার্ড সেভাবেই তৈরি হয় যাতে সেন্সর কোনভাবে আটকে না যায়। তাতে ফোনেরও ক্ষতি হয় না।

গুগল মিট কী এবং কীভাবে ব্যবহার করতে হয়

ভিডিও কনফারেন্সিং এর ব্যবহার দিনদিন বেড়েই চলেছে। গুগল এর গুগল মিট একটি আদর্শ ভিডিও কনফারেন্স টুল। সাধারণ সব ফিচার এর পাশাপাশি বাড়তি সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে গুগল মিট অন্যসব ভিডিও কনফারেন্সিং অ্যাপ থেকে নিজেকে আলাদা করতে সক্ষম হয়েছে।

চলুন জেনে নেয়া যাক, গুগল মিট কীভাবে ব্যবহার করবেন এবং এটি আপনার ব্যবহারের ভিত্তিতে কার্যকরী সমাধান কি না।

গুগল মিট কী?

গুগল মিট হলো গুগল এর ব্যবসা-ফোকাসড ভিডিও কনফারেন্সিং টুল। গুগল মিট এর পূর্ববর্তী নাম ছিলো গুগল হ্যাংআউটস মিট। গুগল মিট এ গুগল চ্যাট ও গুগল হ্যাংআউটস এর ভিডিও চ্যাট ফিচার এর পাশাপাশি রয়েছে অংসখ্য এন্টারপ্রাইজ লেভেলের ব্যবহারযোগ্য ফিচার।

এসব এন্টারপ্রাইজ ফোকাসড ফিচারগুলো ক্ষুদ্র কিংবা বৃহৎ ব্যবসাগুলোর জন্য আদর্শ সমাধান তবে বর্তমানে গুগল মিট ব্যবসার পাশাপাশি স্কুল এর জন্যও ব্যাপক পরিমাণে ব্যবহৃত হচ্ছে। এছাড়াও জুম অ্যাপকে অনেকেই ট্রাস্টেড মনে করেন না। তাদের জন্য গুগল মিট ভিডিও কনফারেন্সিং টুল হিসেবে প্রথম পছন্দ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গুগল মিট কি ফ্রি?

কিছু লিমিটেশনসহ গুগল মিট যে কেউ বিনামূল্যে ব্যবহার করতে পারে। ফ্রিতে ব্যবহারকারীগণ সর্বোচ্চ ১০০জনকে নিয়ে একটানা ১ঘন্টার মিটিং এ অংশ নিতে পারবেন।

অন্যদিকে গুগল জি-স্যুট ব্যবহারকারীরা এই ক্ষেত্রে পাবেন বিশাল সুবিধা। জি-স্যুট ব্যবহারকারীগণ একটানা ৩০০ঘন্টা ও সর্বোচ্চ ১৫০জনকে নিয়ে একটি মিটিং এ অংশগ্রহণ করতে পারেন। এছাড়াও ডোমেস্টিক ও ইন্টারন্যাশনাল কল-ইনস ও কাস্টমার সার্ভিস সুবিধাও পাবেন জি-স্যুট ব্যবহারকারীগণ।

জি-স্যুট এন্টারপ্রাইজ ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে এই সুবিধার মাত্রা আরো বেশি। জি-স্যুট এন্টারপ্রাইজ ব্যবহারকারীগণ গুগল মিট এ একটানা ৩০০ঘন্টা ও সর্বোচ্চ ২৫০জনকে নিয়ে ভিডিও কনফারেন্সে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। থাকছে অসংখ্য এক্সট্রা ফিচারস, যেমনঃ ইন্টেলিজেন্ট নয়েস ক্যান্সেলেশন, গুগল ড্রাইভে মিটিং এর রেকর্ডিং সংরক্ষণ, সিকিউরিটি ফিচারস, ইত্যাদি।

গুগল মিট ব্যবহারের নিয়ম

গুগল এর অন্য দশটি সার্ভিস এর মত গুগল মিট ব্যবহার করাও অন্তত সহজ। অল্প কিছু সময় ব্যয় করে যে কেউই গুগল মিট সম্পর্কে বেসিক ধারণা অর্জন করতে পারে। চলুন জেনে নেয়া যাক, গুগল মিট কীভাবে ব্যবহার করতে হয়।

গুগল মিট এ মিটিং তৈরী করার নিয়ম

গুগল মিট এ মিটিং তৈরী করা অত্যন্ত সহজ। এইজন্য আপনার দরকার পড়বে একটি গুগল একাউন্ট এবং ইন্টারনেট সংযোগের। 

ব্রাউজার থেকে গুগল মিট এ মিটিং তৈরী করতেঃ

  • https://meet.google.com এ প্রবেশ করুন
  • New Meeting এ ক্লিক করুন এবং প্রদর্শিত নির্দেশনা অনুসরণ করুন
  • এছাড়াও https://meet.new লিংকে প্রবেশ করার মাধ্যমে এক ক্লিকেই নতুন মিটিং তৈরী করা যায়

জিমেইল থেকে গুগল মিট এ মিটিং তৈরী করতেঃ

  • জিমেইলে প্রবেশ করুন
  • বামদিকে থাকা মেন্যু থেকে Start A Meeting অপশনে ক্লিক করলেই নতুন মিটিং চালু হয়ে যাবে

স্মার্টফোন থেকে গুগল মিট এ মিটিং তৈরী করতেঃ

  • প্লে-স্টোর কিংবা অ্যাপ স্টোর থেকে গুগল মিট অ্যাপ ইন্সটল করুন
  • ইন্সটল এর পর অ্যাপ ওপেন করে কাঙ্খিত জিমেইল একাউন্ট দ্বারা লগিন করুন
  • New Meeting এ ক্লিক করলেই নতুন মিটিং চালু হয়ে যাবে

একটি মিটিং তৈরীর পর অটোমেটিক একটি লিংক জেনারেট হয়, যা ব্যবহার করে অন্যান্য পার্টিসিপেন্টরা মিটিং এ জয়েন করতে পারে। গুগল ক্যালেন্ডার বা জিমেইলে শিডিউল থাকা মিটিং এ ইনভাইটেড থাকা ব্যক্তিদের কাছে লিংক স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলে যাবে।

গুগল মিট এ মিটিং জয়েন করার নিয়ম

গুগল মিট এ মিটিং এ জয়েন করা দুনিয়ার সবচেয়ে সহজ কাজগুলোর মধ্যে একটি। গুগল মিট এ মিটিং এ জয়েন করতেঃ

  • অ্যাপ বা ব্রাউজার থেকে গুগল মিট এ প্রবেশ করুন
  • Start A Meeting বা New Meeting এর পাশে থাকা Join Meeting এ ক্লিক করুন
  • মিটিং কোড টাইপ করে এন্টার চাপলেই মিটিং এ জয়েন হয়ে যাবে
  • এছাড়াও হোস্টের পাঠানো মিটিং লিংক ব্যবহার করে এক ক্লিকেই মিটিং এ জয়েন করা যায়

গুগল মিট এর সেটিংস সমূহ

মিটিং তৈরী ও মিটিং এ জয়েন করার পাশাপাশি গুগল মিট এর কিছু গুরুত্বপূর্ণ সেটিংস ও কাস্টমাইজেশন সম্পর্কে জানা সকল ব্যবহারকারীর জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিছু কিছু ফিচার শুধুমাত্র জি-স্যুট ব্যবহারকারীদের জন্য হলেও, অধিকাংশ ফিচারই বিনামুল্যে ব্যবহায়ার সম্ভব।

ভিডিও কনফারেন্স এর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কীভাবে পার্টিসিপ্যান্টদের প্রদর্শিত করা হয়। একটি মিটিং এ ডিফল্টভাবে এটি Auto তে সেট করা থাকে। অর্থাৎ কতজন মিটিং এ পার্টিসিপ্যান্ট বা অংশগ্রহণ করছেন ও কথা বলছেন, তার উপর ভিত্তি করে অটোমেটিক লেআউট তৈরী হয়ে যাবে।

এই ব্যাপারটির সরাসরি কাস্টমাইজেশন করতে চাইলে, তিন ধরনের বিকল্প ব্যবস্থা রয়েছেঃ

  • টাইলডঃ ছোট ছোট টাইলে ১৬জন পার্টিসিপ্যান্টকে দেখানো হয়। বাকিদের মধ্যে কেউ যদি প্রেজেন্ট করে থাকে,তবে সাইডবারে প্রদর্শিত হয়
  • স্পটলাইটঃ শুধুমাত্র প্রেজেন্টেশন বা এক্টিভ স্পিকারকেই স্ক্রিনের দেখানো হউ
  • সাইডবারঃ প্রেজেন্টেশন বা এক্টিভ স্পিকারকে মাঝখানে রেখে পাশে ছোট ছোট টাইলসে অন্যান্য পার্টিসিপ্যান্টদের প্রদর্শিত করা হয়

এছাড়াও পার্টিসিপ্যান্ট পিন করার সুবিধাও থাকছে, যার মাধ্যমে চাইলেই নির্দিষ্ট পার্টিসিপ্যান্টকে স্ক্রিনের মাঝখানে রাখা যায়। মিটিং এর অংশগ্রহণকারী নিজেদের মাইক চাইলে মিউট করতে পারে। এছাড়াও যিনি মিটিং তৈরী করেছেন, তিনিও চাইলে যে মিটিং এ অংশগ্রহণরত যে কাউকে মিউট করতে পারেন।

গুগল মিট এর একটি সবচেয়ে অসাধারণ ফিচার হচ্ছে লাইভ ক্যাপশন। স্ক্রিনের নিচেরদিকে থাকা Turn on captions বাটন চাপলেই স্পিকার এর কথার ক্যাপশন প্রদর্শিত হবে। তবে আপাতত এই ফিচারটি শুধুমাত্র ইংরেজি ভাষাতেই ব্যবহারযোগ্য। 

গুগল মিট এ প্রেজেন্ট করার নিয়ম

ভিডিও মিটিং যোগাযোগের অসাধারণ মাধ্যম, এতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে মিটিং এ মাঝেমধ্যে সব অংশগ্রহনকারীদের কোনোকিছু দেখানোর প্রয়োজন পড়তে পারে। অন্যসব ভিডিও কনফারেন্সিং অ্যাপ এর মত মিটিং চালাকালীন গুগল মিটেও প্রেজেন্টেশন দেখানো সম্ভব। 

আপনার স্ক্রিন শেয়ার করতে স্ক্রিনের নিচের দিকে থাকা Present Now এ ক্লি করুন। চাইলে আপনি আপনার সম্পূর্ণ স্ক্রিন, একটি নির্দিষ্ট উইন্ডো বা ক্রোম ট্যাব প্রেজেন্টেশন হিসাবে দেখাতে পারবেন। আপনি যদি ভিডিও বা এনিমেশন দেখাতে চান, সেক্ষেত্রে ক্রোম ট্যাব সিলেক্ট করার পরামর্শ দেয় গুগল।

পেজের নিচের দিকে থাকা Change Source অপশনটি ব্যবহার করে আপনি অন্য ক্রোম ট্যাব প্রেজেন্ট করতে পারবেন। Stop Presenting এ ক্লিক করলে প্রেজেন্টেশন অফ হয়ে যাবে।

গুগল মিট এ চ্যাট করার নিয়ম

আপনি যদি স্ক্রিন শেয়ারিং বা কথা বলার মাধ্যমে কনফারেন্সে কলে সমস্যার সঞ্চারন না চান, সেক্ষেত্রে আপনি চ্যাট ফিচারটিও ব্যবহার করতে পারেন। উপরে ডানদিকে থাকা ছোট চ্যাট আইকনে ক্লিক করার মাধ্যমে চ্যাট করার অপশন দেখতে পাবেন৷ কোনো রিসোর্স শেয়ারিং কিংবা প্রশ্নোত্তরের ক্ষেত্রে এই চ্যাট ফিচারটি দারুণ কার্যকর।

গুগল মিট টুলস

জি-স্যুট ব্যবহারকারীগণরা গুগল মিট এ অসংখ্য প্রয়োজনীয় ফিচার ব্যবহার করতে পারেন। তবে ফ্রিতে যারা গুগল মিট ব্যবহার করেন, তারা এসব ফিচার থেকে বঞ্চিত হন।

আপনি চাইলে বিভিন্ন ক্রোম এক্সটেনশন ব্যবহার করে গুগল মিট এ বিনামূল্যে অসাধারণ সব ফিচার এড করতে পারবেন। গুগল মিট এর দরকারী ৯টি ফ্রি টুল সম্পর্কে জানুন এই লিংক থেকে।

গুগল মিট সম্পর্কে সাধারণ প্রশ্নসমূহ ও উত্তর

গুগল মিট কি আইফোন ও আইপ্যাডে কাজ করে?

উত্তরঃ হ্যাঁ, গুগল মিট আইফোন ও আইপ্যাডে কাজ করে। অ্যাপ স্টোর থেকে গুগল মিট অ্যাপ ডাউনলোড করে যেকেউ আইফোন ও আইপ্যাডেও গুগল মিট ব্যবহার করতে পারবেন।

গুগল মিট ও গুগল হ্যাংআউটস কি একই? গুগল ডুয়ো এর সাথে সেবা দুটির কোনো সম্পর্ক আছে কি?

উত্তরঃ বর্তমানে গুগল এর তরফ থেকে আসা প্রধান ভিডিও কনফারেন্সিং অ্যাপ হলো গুগল মিট। গুগল হ্যাংআউটস কে ইতিমধ্যেই বাদ করে দিয়েছে গুগল। অন্যদিকে গুগল ডুয়ো হলো মেসেঞ্জার বা হোয়াটসঅ্যাপ এর মতো চ্যাটিং ও ভিডিও কলিং অ্যাপ।

গুগল মিট এর মিটিং কি রেকর্ড করা যায়?

উত্তরঃ শুধুমাত্র জি-স্যুট এন্টারপ্রাইজ ও এন্টারপ্রাইজ ফর এডুকেশন ব্যবহারকারীগণ গুগল মিট এ মিটিং রেকর্ড করতে পারবেন। রেকর্ডিংসমূহ স্বয়ংক্রিয়ভাবে গুগল ড্রাইভে সংরক্ষিত হয়।

গুগল মিট কি নিরাপদ ও সুরক্ষিত?

উত্তরঃ কম্পিউটার ও মোবাইল, উভয় প্ল্যাটফর্মেই গুগল মিট এর মিটিংসমূহ এনক্রিপটেড থাকে। সুতরাং, গুগল মিটকে নিরাপদ ও সুরক্ষিত বলা যায়। মিটিং বোম্বিং এর মত ঘটনা প্রতিরোধে গুগল মিট এর মিটিং এ পাসওয়ার্ড ও সেট করা যায়।

কম্পিউটারে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করবেন যেভাবে

ফোনে মেসেজিং এর মাধ্যম হিসেবে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার সম্বন্ধে জানেন না, এমন মানুষ কমই আছেন। ১ বিলিয়নেরও অধিক ব্যবহারকারী নিয়ে বিশ্বের প্রথম অন্যতম জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপ হোয়াটসঅ্যাপ। ফোনে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করা খুবই সহজ। তবে কম্পিউটারে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার নিয়ে এখনো জটিলতায় ভুগেন অনেক ব্যবহারকারী। চলুন জেনে নেয়া যাক, কীভাবে কম্পিউটারে বা পিসিতে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করবেন।

কম্পিউটারে/পিসিতে হোয়াটসঅ্যাপ ওয়েব ব্যবহারের নিয়ম

কম্পিউটারে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করতে হলে ফোনে হোয়াটসঅ্যাপ থাকতে হবে। আপনি যদি কম্পিউটারে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করতে চান, তবে আগে অবশ্যই আপনার ফোনে হোয়াটসঅ্যাপ একাউন্টে সাইন-ইন করে নিন।

ফোনে হোয়াটসঅ্যাপে সাইন ইন হয়ে গেলে, কম্পিউটারে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করতে নিম্নোক্ত পদ্ধতি অনুসরণ করুনঃ

আপনি যদি এন্ড্রয়েড ফোনে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করেন, তবে নিচের পদ্ধতিটি অনুসরণ করুনঃ

  • আপনার ফোনে হোয়াটসঅ্যাপ ওপেন করুন
  • Chats ট্যাবে যান, ডানদিকের টপ কর্নারে থাকা থ্রি-ডট এ প্রবেশ করলে একটি ড্রপডাউন মেনু দেখতে পাবেন
  • উল্লেখিত মেন্যু হতে WhatsApp Web নির্বাচন করুন
  • কম্পিউটারে যেকোনো একটি ব্রাউজারে প্রবেশ করুন ও web.whatsapp.com সাইটে ঢুকুন
  • এরপর আপনার ফোনে প্রদর্শিত কিউ-আর কোড স্ক্যানার এর মাধ্যমে কম্পিউটারে প্রদর্শিত কোডটি স্ক্যান করুন
  • স্ক্যান সফলভাবে সম্পন্ন হলে, কম্পিউটারে আপনার ফোনে থাকা সকল চ্যাট দেখতে পাবেন। এর পাশাপাশি কম্পিউটার থেকেও ফোনের মতই ডেস্কটপ ব্যবহার করতে পারবেন।

আপনি যদি আইফোনে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করেন, তাহলে নিচের পদ্ধতিটি অনুসরণ করুনঃ

  • আপনার আইফোনে হোয়াটসঅ্যাপ ওপেন করুন
  • Settings ট্যাবে যান
  • WhatsApp Web নির্বাচন করুন
  • কম্পিউটারে যেকোনো একটি ব্রাউজারে প্রবেশ করুন ও web.whatsapp.com সাইটে ঢুকুন
  • এরপর আপনার ফোনে প্রদর্শিত কিউ-আর কোড স্ক্যানার এর মাধ্যমে কম্পিউটারে প্রদর্শিত কোডটি স্ক্যান করুন
  • স্ক্যান সফলভাবে সম্পন্ন হলে, কম্পিউটারে আপনার ফোনে থাকা সকল চ্যাট দেখতে পাবেন। এর পাশাপাশি কম্পিউটার থেকেও ফোনের মতই ডেস্কটপ ব্যবহার করতে পারবেন।

হোয়াটসঅ্যাপ ডেস্কটপ অ্যাপ ব্যবহারের নিয়ম

ডেস্কটপের জন্য হোয়াটসঅ্যাপ এর অ্যাপ বিদ্যমান। হোয়াটসঅ্যাপ ডেস্কটপ অ্যাপ ডাউনলোড করতে এই লিংকে প্রবেশ করুন। হোয়াটসঅ্যাপ ডেস্কটপ অ্যাপটি উল্লিখিত নিয়মেই ব্যবহার করতে পারবেন।

কম্পিউটারে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারের বহুমুখী সুবিধা রয়েছে। এর মধ্যে প্রধান হচ্ছে, কম্পিউটার থেকেও ফাইল শেয়ার করার সুবিধা। এছাড়াও আপনার কম্পিউটারে ওয়েব ক্যাম যুক্ত থাকলে সেটি ব্যববার করে ছবি আদান-প্রদান ও করতে পারবেন। পাঠানো যাবে ভয়েস মেসেজ ও। ফোন পকেটে রেখেই হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার হচ্ছে কম্পিউটারে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারের মূল সুবিধা।

কম্পিউটারে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার এর সুবিধাসমূহ

কম্পিউটারে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার এর অসুবিধাসমূহ

কম্পিউটারে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ওয়েব ভিত্তিক হওয়ায় ইন্টারনেট কানেক্টেড না থাকলে কম্পিউটারের হোয়াটসঅ্যাপে পূর্ববর্তী চ্যাট দেখা সম্ভব নয়। থাকছেনা এড্রেস বুক থেকে কাউকে ইনভাইট করার সুবিধা। কম্পিউটারের হোয়াটসঅ্যাপে ম্যাপ বা লোকেশন শেয়ারিং ও সম্ভব নয়।

জন্ম নিবন্ধন যাচাই, সংশোধন ও অনলাইন কপি ডাউনলোড

চলুন জেনে নেয়া যাক, জন্ম নিবন্ধন যাচাই, সংশোধন ও অনলাইন কপি ডাউনলোড সম্পর্কিত তথ্য।

জন্ম নিবন্ধন কি?

জন্ম নিবন্ধন হলো জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন, ২০০৪ (২০০৪ সনের ২৯ নং আইন) এর আওতায় একজন মানুষের নাম, লিঙ্গ, জন্মের তারিখ ও স্থান, বাবা-মায়ের নাম, তাদের জাতীয়তা এবং স্থায়ী ঠিকানা নির্ধারিত নিবন্ধক কর্তৃক রেজিস্টারে লেখা বা কম্পিউটারে এন্ট্রি প্রদান এবং জন্ম সনদ প্রদান করা।

এক কথায় বলতে গেলে, একটি শিশু জন্মের পর সরকারি খাতায় নাম যুক্ত করাকেই বলা হচ্ছে জন্ম নিবন্ধন। আর জন্ম সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রয়োজনীয় তথ্য থাকে যে সনদে, তাকে বলা হচ্ছে জন্ম সনদ।

জন্ম নিবন্ধন কি কি কাজে লাগে

জন্ম নিবন্ধন এর বহুবিধ ব্যবহার রয়েছে। নিম্নোক্ত ক্ষেত্রে জন্ম নিবন্ধন কাজে লাগেঃ

  • শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি
  • জাতীয় পরিচয়পত্র প্রাপ্তি
  • পাসপোর্ট ইস্যু
  • বিবাহ নিবন্ধন
  • ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যু
  • ভোটার তালিকা প্রণয়ন
  • ব্যাংক হিসাব খোলা
  • সরকারী, বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ
  • জমি রেজিস্ট্রেশন
  • গ্যাস, পানি, টেলিফোন ও বিদ্যুৎ সংযোগ প্রাপ্তি
  • টিআইএন বা ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নাম্বার প্রাপ্তি
  • ঠিকাদারি লাইসেন্স প্রাপ্তি
  • ট্রেড লাইসেন্স প্রাপ্তি
  • বাড়ির নকশা অনুমোদন প্রাপ্তি
  • গাড়ির রেজিষ্ট্রেশন প্রাপ্তি
  • আমদানী ও রপ্তানি লাইসেন্স প্রাপ্তি

জন্ম নিবন্ধন সনদ এর জন্য কি কি লাগে

জন্ম নিবন্ধ সনদ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে কিছু কাগজপত্র প্রয়োজন হয়। জন্ম নিবন্ধন সনদ পেতে হাসপাতাল বা ক্লিনিকে জন্মগ্রহণ করে থাকলে সেখান থেকে প্রদত্ত সার্টিফিকেট বা ছাড়পত্র ব্যবহার করে জন্ম নিবন্ধন সনদ পাওয়া যাবে। এছাড়াও এস.এস.সি সনদ এর ফটোকপি, পাসপোর্টের ফটোকপি, আইডি কার্ডের ফটোকপি বা এলাকার জনপ্রতিনিধি, যেমন- ওয়ার্ড কমিশনার, ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভার চেয়ারম্যান কর্তৃক প্রদত্ত নাগরিকত্ব সনদ এর ফটোকপি ব্যবহার করেও জন্ম নিবন্ধন সনদ নেওয়া যায়।

জন্ম নিবন্ধন অনলাইন কপি ডাউনলোড

জন্ম নিবন্ধন অনলাইন কপি ডাউনলোড কপি ডাউনলোড করতে বা জন্ম নিবন্ধন যাচাই করতে অর্থাৎ প্রদত্ত তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকারের অনলাইন জন্ম নিবন্ধন তথ্য ব্যবস্থা বা Online BRIS ওয়েবসাইটটি ব্যবহার করা যাবে।

জন্ম নিবন্ধন অনলাইন কপি ডাউনলোড বা জন্ম নিবন্ধন অনলাইন কপি চেক করার নিয়ম নিম্নরুপঃ

  • অনলাইন জন্ম নিবন্ধন তথ্য ব্যবস্থা বা Online BRIS ওয়েবসাইটটিতে প্রবেশ করতে এখানে ক্লিক করুন
  • ওয়েবসাইটটিতে প্রবেশের পর এরকম দেখতে একটি ওয়েবপেজ দেখতে পাবেনঃ

জন্ম নিবন্ধন অনলাইন কপি ডাউনলোডঅনলাইন কপি ডাউনলোড কপি ডাউনলোড ওয়েবসাইট

  • জন্ম নিবন্ধন যাচাই করতে প্রথম খালি বক্সে যার জন্ম নিবন্ধন তথ্য যাচাই করতে চান, তার জন্ম নিবন্ধন সনদ এ থাকা ১৭ ডিজিটের জন্ম নিবন্ধন নাম্বার প্রদান করুন
  • এরপর দ্বিতীয় বক্সে যার জন্ম নিবন্ধন তথ্য যাচাই করতে চান, তার জন্ম নিবন্ধন সনদ এ থাকা জন্ম তারিখ প্রদান করুন
  • কারো জন্ম তারিখ যদি ১৯৯০ সালের জানুয়ারীর ১ তারিখ হয়, তবে দ্বিতীয় বক্সটিতে 1990-01-01 এভাবে লিখতে হবে
  • দুইটি বক্সেই সঠিক তথ্য প্রদান করা হয়ে গেলে Verify বাটনে ক্লিক করুন
  • Verify বাটনে ক্লিক করার পর যার জন্ম নিবন্ধন যাচাই করতে চান, তার জন্ম নিবন্ধনে থাকা তথ্যগুলো স্ক্রিনে প্রদর্শিত হবে
  • প্রদর্শিত তথ্যগুলো সঠিক কিনা তা যাচাই করে নিন
  • যদি Verify বাটনে ক্লিক করার পর Matching Birth Records Not Found লেখা আসে, তবে বুঝবেন উল্লিখিত বক্সে দুইটিতে প্রদত্ত জন্ম নিবন্ধন নাম্বার বা জন্ম তারিখ – যেকোনো একটিতে ভূল হয়েছে।

উল্লেখিত পদ্ধতি সঠিকভাবে অনুসরণ করে থাকলে প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী যার জন্ম নিবন্ধন যাচাই করতে চেয়েছিলেন, তার জন্ম নিবন্ধন এর তথ্য পেয়ে যাবেন। জন্ম নিবন্ধন সম্পর্কিত তথ্যসমুহ স্ক্রিনে দেখার পর তা সঠিক কিনা তা নিশ্চিত করা মাধ্যমে জন্ম নিবন্ধন যাচাই করুন।

বোনাসঃ অনলাইনে জাতীয় পরিচয়পত্র ডাউনলোড করার উপায় জানতে এখানে ক্লিক করুন

জন্ম নিবন্ধন সংশোধন

জন্ম নিবন্ধন সংশোধনের জন্য “জন্ম তথ্য সংশোধনের জন্য আবেদন” শিরোনামের একটি ওয়েবসাইট রয়েছে। জন্ম নিবন্ধন সংশোধন এর ওয়েবসাইট এ প্রবেশ করতে এখানে ক্লিক করুন। জন্ম নিবন্ধন সংশোধনের ওয়েবসাইটে প্রবেশের পর দুইটি খালি বক্স দেখতে পাবেন।জন্ম নিবন্ধন সংশোধনজন্ম নিবন্ধন সংশোধন ওয়েবসাইট

প্রথম বক্সে জন্ম সনদে থাকা জন্ম নিবন্ধন নাম্বার ও দ্বিতীয় বক্সে জন্ম সনদে থাকা জন্ম তারিখ প্রদান করুন। সঠিক জন্ম নিবন্ধন নাম্বার ও জন্ম তারিখ প্রদান করতে সার্ভারে থাকা জন্ম সনদ সম্পর্কিত তথ্য দেখতে পাবেন।

জন্ম নিবন্ধন সংশোধন এর উল্লিখিত ওয়েবসাইটে সঠিক তথ্য দেওয়ার পর জন্ম নিবন্ধন সংশোধন সম্পর্কিত তথ্য স্ক্রিনে প্রদর্শিত হবে। প্রদত্ত তথ্য অনুসরণ করে জন্ম নিবন্ধন সংশোধন এর আবেদন করতে পারবেন।

জন্ম তথ্য সংশোধনের শর্ত ও নিয়মাবলি

জন্ম সনদে থাকা তথ্যতে ভূল থাকলে জন্ম সনদ সংশোধন করার প্রয়োজন হয়। জন্ম তথ্য সংশোধনের করার ক্ষেত্রে কিছু শর্ত ও নিয়মাবলি প্রযোজ্য। যেমনঃ

  •  যদি পিতা বা মাতার নাম সংশোধন করার প্রয়োজন পড়ে, সেক্ষেত্রে পিতা বা মাতার জন্ম নিবন্ধন নম্বর থাকলে প্রথমে তাদের জন্ম নিবন্ধন নম্বর দিয়ে জন্ম নিবন্ধন তথ্য সংশোধন এর আবেদন করে তাদের নাম সংশোধন করতে হবে
  • পিতা বা মাতার জন্ম নিবন্ধন নম্বর না থাকলে এবং জন্ম তারিখ ০১/০১/২০০০ এর পূর্বে হলে, জন্ম নিবন্ধন তথ্য সংশোধন আবেদন করার সময় আপনার পিতা বা মাতার নাম সংশোধন করা যাবে। সেক্ষেত্রে পিতা বা মাতা মৃত হলেও তাদের মৃত্যুর কোন প্রমাণপত্র দাখিল করতে হবে না
  • পিতা বা মাতার জন্ম নিবন্ধন নম্বর না থাকলে এবং পিতা বা মাতা মৃত হলে এবং জন্ম তারিখ ০১/০১/২০০ এর পরে হলে, জন্ম নিবন্ধন তথ্য সংশোধন আবেদন করার সময় পিতা বা মাতার নাম সংশোধন করা যাবে। সেক্ষেত্রে পিতা বা মাতার মৃত্যুর প্রমাণপত্র দাখিল করতে হবে।

অনলাইন জন্ম নিবন্ধন আবেদন

অনলাইন জন্ম নিবন্ধন আবেদন করতে এখানে ক্লিক করুন। ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন।অনলাইন জন্ম নিবন্ধন আবেদনঅনলাইন জন্ম নিবন্ধন আবেদন ওয়েবসাইট

জন্ম নিবন্ধন সনদ আপনার কোন ঠিকানার অফিস থেকে সংগ্রহ করতে চান, তা নির্বাচন করুন। জন্মস্থান, স্থায়ী ঠিকানা বা বর্তমান ঠিকানা থেকে জন্ম নিবন্ধন সনদ সংগ্রহ করা যাবে। পরবর্তী ধাপে প্রদর্শিত পেজে দেওয়া সকল তথ্য সাবধানতার সহিত সঠিকভাবে পূরণ করুন। এভাবে অনলাইন জন্ম নিবন্ধন আবেদন করা যাবে।

অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন আবেদন সম্পর্কিত নির্দেশনাঃ

  • অনলাইন জন্ম নিবন্ধন আবেদন ফরম প্রথমে বাংলায় (ইউনিকোড) ও পরবর্তীতে ইংরেজিতে পূরণের পর প্রয়োজনীয় সম্পাদনা করে সংরক্ষণ বাটনে ক্লিক করুন
  • সংরক্ষণ বাটনে ক্লিক করলেই আবেদন পত্রটি সংশ্লিষ্ট নিবন্ধক কার্যালয়ে স্থানান্তিরত হয়ে যাবে, আবেদনকারীর আর কোন সংশোধনের সুযোগ থাকবে না
  • পরবর্তী ধাপে প্রিন্ট বাটনে ক্লিক করলে আবেদন পত্রের মুদ্রিত কপি পাবেন
  • সনদের জন্য ১৫ দিনের মধ্যে উক্ত আবেদন পত্রে নির্দেশিত প্রত্যয়ন সংগ্রহ করে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্রের সত্যায়িত কপিসহ নিবন্ধক অফিসে যোগাযোগ করতে হবে।

জন্ম নিবন্ধন আবেদনের বর্তমান অবস্থা

অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন আবেদনের বর্তমান অবস্থা জানার ওয়েবসাইট এ প্রবেশ করতে এখানে ক্লিক করুন। অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন আবেদনের বর্তমানে অবস্থা জানতে ওয়েবসাইট এ প্রবেশ করে আবেদনের সময় প্রাপ্ত অ্যাপ্লিকেশন আইডি ও জন্মতারিখ প্রদান করে “দেখুন” চাপলে জন্ম নিবন্ধন আবেদনের বর্তমান অবস্থা জানতে পারবেন।

জন্ম নিবন্ধন সনদ ডাউনলোড

জন্ম নিবন্ধন সনদ ডাউনলোড pdf আকারে ডাউনলোড করতে এখানে ক্লিক করুন।

জন্ম নিবন্ধন ফরম কোথায় পাওয়া যাবে

সংশ্লিষ্ট নিবন্ধকের কার্যালয়ে বা br.lgd.gov.bd ওয়েব সাইটে প্রবেশ করে জন্ম নিবন্ধন ফরম ডাউনলোড করা যাবে। জন্ম নিবন্ধন ফরম ডাউনলোড pdf আকারে ডাউনলোড করতে এখানে ক্লিক করুন।

জন্ম নিবন্ধন ফি

জন্ম নিবন্ধন সংশোধন এর ক্ষেত্রে কিছু নির্দিষ্ট ফি প্রযোজ্য। জন্ম নিবন্ধন ফি সমুহ নিম্নরুপঃ

বিষয়ফিসের হার
দেশেবিদেশে
জন্ম বা মৃত্যুর ৪৫ (পঁয়তাল্লিশ) দিন পর্যন্ত কোন ব্যক্তির জন্ম বা মৃত্যু নিবন্ধন ফ্রি ফ্রি
জন্ম বা মৃত্যুর ৪৫ (পঁয়তাল্লিশ) দিন পর হইতে ৫ (পাঁচ) বৎসর পর্যন্ত কোন ব্যক্তির জন্ম বা মৃত্যু নিবন্ধন (সাকুল্যে) ২৫/- টাকা ১ মার্কিন ডলার
জন্ম বা মৃত্যুর ৫ (পাঁচ) বৎসর পর কোন ব্যক্তির জন্ম বা মৃত্যু নিবন্ধন (সাকুল্যে) ৫০/- টাকা ১ মার্কিন ডলার
জন্ম তারিখ সংশোধনের জন্য আবেদন ফি ১০০/- টাকা ২ মার্কিন ডলার
জন্ম তারিখ ব্যতীত নাম, পিতার নাম, মাতার নাম, ঠিকানা ইত্যাদি অন্যান্য তথ্য সংশোধনের জন্য আবেদন ফি ৫০/- টাকা ১ মার্কিন ডলার
বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষায় মূল সনদ বা তথ্য সংশোধনের পর সনদের কপি সরবরাহ ফ্রি ফ্রি
বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষায় সনদের নকল সরবরাহ ৫০/- টাকা ১ মার্কিন ডলার

এক নিমিষে বন্ধ হবে মোবাইলে ‘বিরক্তিকর’ বার্তা

এ ধরনের বার্তা বন্ধ করতে একটি উপায় জানিয়েছে বিটিআরসি

মোবাইল অপারেটরগুলো গ্রাহকদের নতুন নতুন প্যাকেজ ও সেবা সম্পর্কে জানাতে খুদে বার্তা পাঠিয়ে থাকে। ঘন ঘন এমন বার্তায় বিরক্তিতে পড়েন অনেকেই। তবে এবার এ ধরনের বার্তা বন্ধ করতে একটি উপায় জানিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।

শনিবার (২৪ এপ্রিল) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ ধরনের খুদে বার্তা বন্ধের উপায় জানায় বিটিআরসি।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, খুদে বার্তা বন্ধ করতে “ডু নট ডিস্টার্ব বা ডিএনডি” সেবা চালু হয়েছে। প্রচারমূলক খুদে বার্তা না পেতে চাইলে ইউএসডিডি কোড ডায়াল করে চালু করা যাবে এ সেবা।

বিটিআরসি আরও জানায়, মোবাইল অপারেটরদের নিত্যনতুন সেবা সম্পর্কে জানতে বাণিজ্যিক প্রচারণামূলক খুদে বার্তা সহায়ক ভূমিকা পালন করে। তবে ক্ষেত্রবিশেষে গ্রাহকদের কাছে এ ধরনের খুদে বার্তা প্রাপ্তি বিরক্তিকর বলে প্রতীয়মান হয়।

যেভাবে বন্ধ হবে খুদে বার্তা

গ্রামীণফোনে *১২১ * ১১০১#, বাংলালিংকে *১২১*৮*৬#, এবং রবি ও এয়ারটেলের ক্ষেত্রে *৭# ডায়াল করলে বাণিজ্যিক প্রচারণামূলক খুদে বার্তা বন্ধ হয়ে যাবে। 

ইউটিউবে যেভাবে বাফারিং এড়াবেন

অনলাইনে ভিডিও দেখার জনপ্রিয় প্ল‍্যাটফর্ম ইউটিউব।

বিনোদনের জন্য অনেকেই প্ল্যাটফর্মটিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটিয়ে দেন।  তবে ভিডিওগুলো ধীরগতিতে চললে তা উল্টো বিরক্তির সৃষ্টি করে।

কিছু পদক্ষেপ নিয়ে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক বাফারিং এড়ানোর উপায়।

রেজুলেশন কমানো
এইচডি (৭২০ পি) ও ফুল এইচডি (১০৮০ পি) মানের ভিডিও স্ট্রিমিংয়ের জন্য দ্রুত গতির ইন্টারনেট থাকতে হবে। কিন্তু অনেকের ইন্টারনেটের গতি কম থাকে। এক্ষেত্রে ইউটিউব ভিডিওর রেজুলেশন কমিয়ে বাফারিং এড়ানো সম্ভব। গতি অনুযায়ী এই রেজুলেশন নির্বাচন করতে হবে।
এজন্য ব্রাউজার কিংবা অ্যাপ হতে ভিডিও দেখার সময় ভিডিওর সেটিংস আইকনে ক্লিক করে রেজুলেশন কমিয়ে নিতে হবে।

ব্রাউজার যাচাই
পিসিতে ব্রাউজার ব্যবহার করে ইউটিউব দেখার সময় ইন্টারনেটের গতি ঠিক থাকা সত্ত্বেও অনেক সময় বাফারিং হয়। এটি সমাধানে ব্রাউজারের ডেটা ও ক্যাশ ফাইল ক্লিয়ার করতে হবে। অপশনটি ব্রাউজারের সেটিংসে পাওয়া যাবে।
এছাড়া, ইন্টারনেট ব্রাউজারটিকে সবসময় হালনাগাদ সংস্করণে ব্যবহার করতে হবে।

মোবাইল অ্যাপের ডেটা মুছে ফেলা
অ্যান্ড্রয়েডে ইউটিউব অ্যাপ দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে সেটি অনেক ডেটা জমা করে ফেলে। এর দরুন ইউটিউব ভিডিও চলতে ধীরগতি হতে পারে। এই সমস্যা সমাধানে ইউটিউব অ্যাপের ডেটা মুছে ফেলতে হবে কিংবা অ্যাপটিকে একবার আন-ইন্সটল করে পুনরায় নতুন  করে ইন্সটল করে নিলে সমস্যা সমাধান হবে।

ইন্টারনেটের গতি যাচাই
বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ধীরগতির ইন্টারনেটের কারণে ইউটিউব ভিডিও ঠিকঠাক চলে না কিংবা চলতে চলতে থেমে যায় (বাফারিং)। সেক্ষেত্রে ইন্টারনেটের গতি বাড়িয়ে সমস্যাটি সমাধান করা যেতে পারে। এ জন্য উচ্চগতির ইন্টারনেট সার্ভিস নিতে হবে। গতি ঠিক থাকা সত্ত্বেও ওয়াইফাইতে স্পিড কমে গেলে তা সমাধান করে নিতে হবে।

উইন্ডোজ-১০ ফ্যাক্টরি রিসেট করার পদ্ধতি

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : সফটওয়্যার জনিত নানা সমস্যার কারণে হুট করে কম্পিউটার স্লো হয়ে গেলে আমরা নতুন করে উইন্ডোজ ইনস্টল করে থাকি।

এই ঝামেলা এড়াতে  উইন্ডোজ-১০ অপারেটিং সিস্টেমে ফ্যাক্টরি রিসেট ফিচার যুক্ত করেছে মাইক্রোসফট।

স্মার্টফোনের মতো ফ্যাক্টরি রিসেট করেই স্লো কিংবা হ্যাং হয়ে যাবার মত সমস্যার সমাধান মিলবে উইন্ডোজ-১০ অপারেটিং সিস্টেম চালিত পিসিতেও।

চলুন দেখে নেয়া যাক কীভাবে এই কাজটি করা যায়।

এই প্রক্রিয়ায় কম্পিউটারের যে ড্রাইভে উইন্ডোজ ইনস্টল থাকে সেটির সকল ডেটা মুছে যেতে পারে। তাই গুরুত্বপূর্ণ ফাইল অন্য জায়গায় কপি করে রাখতে হবে।

এরপর প্রথমেই উইন্ডোজের সেটিংস পেইজে যেতে হবে। সেখান থেকে ‘আপডেট অ্যান্ড সিকিউরিটি’ সেটিংস এ যেতে হবে। সেখানে বাম দিকে থাকা ‘রিকোভারি’ নামক অপশনে ক্লিক করলে নতুন একটি উইন্ডো আসবে। সেখানে ‘Reset This PC’ নামে অপশন প্রদর্শিত হবে।

সেখানে ‘Get Started’ এ ক্লিক করলে আরেকটি উইন্ডো আসবে। সেখানে ‘Keep My Files’ ও ‘Remove Everything’ নামে দুটি আলাদা অপশন দেখাবে। প্রথমটি নির্বাচন করলে শুধুমাত্র অ্যাপ ও সেটিংস মুছে যাবে আর দ্বিতীয়টি  নির্বাচন করলে সি ড্রাইভের সবকিছু মুছে যাবে।

প্রয়োজন অনুযায়ী যেকোনটি নির্বাচন করতে হবে। তবে ভালো ফল পেতে ‘Remove Everything’ নির্বাচন করতে হবে।

এরপর পরবর্তী ধাপে গেলে সতর্কতা বার্তা প্রদর্শিত হবে। সম্মতি দিলে পিসি রিসেট প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং এরপর কোনো নির্দেশনা প্রদর্শিত হলে প্রয়োজন মোতাবেক তাতে সম্মতি দিতে হবে।

এই প্রক্রিয়া পুরোপুরি শেষ হতে বেশ খানিকটা সময় প্রয়োজন হবে। এই প্রক্তিয়া চলাকালীন নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সংযোগ কিংবা ল্যাপটপের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত চার্জ নিশ্চিত করতে হবে যাতে রিসেট প্রক্রিয়া চলাকালীন পিসি বন্ধ না হয়। সব প্রক্রিয়া ঠিকমত হলে রিসেট শেষে পুনরায় কম্পিউটার চালু হবে।

উইন্ডোজ-১০ এ আপডেট বন্ধ করবেন যেভাবে

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : অপারেটিং সিস্টেমগুলো নিয়মিত আপডেট প্রদান করে থাকে। নানান ধরনের ত্রুটি কাটাতে কিংবা ব্যবহারকারীদেরকে ম্যালওয়্যার কিংবা ভাইরাসের আক্রমণ হতে সুরক্ষা দিতে নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন সময়ে আপডেট অবমুক্ত করে। তাই নিয়মিত অপারেটিং সিস্টেম হালনাগাদ রাখা ভালো।

অন্যান্য অপারেটিং সিস্টেমের মত উইন্ডোজ-১০ ও নিয়মিত হালনাগাদ হয়।
কিন্তু এই আপডেট প্রক্রিয়া অনেক সময় বিরক্তির কারন হয়ে দাঁড়ায়। যেমন, ধরুন কোনো পিসিতে কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজ করছেন বা এই মুহূর্তে আপনার ব্রন্ডব্যান্ড ইন্টারনেটের সংযোগ নেই!

কেননা আপডেট প্রক্রিয়ায় বেশ খানিকটা ইন্টারনেট ডেটা ব্যবহার হয়, এছাড়া আপডেট চলাকালীন কম্পিউটারের গতিও কমে যায় খানিকটা। এমন পরিস্থিতে আপডেট বন্ধ রাখতে পারাটাই ব্যবহারকারীর জন্য ভালো। এটি দুইটি প্রক্রিয়ায় করা যেতে পারে।

• নির্দিষ্ট ইন্টারনেট সংযোগে আপডেট বন্ধ রাখা
অনেক ব্যবহারকারীই সীমাবদ্ধ ইন্টারনেট প্যাকেজ ব্যবহার করেন। ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের মত তাদের সীমাহীন ইন্টারনেট থাকে না। তাই তারা আপডেট প্রক্রিয়ার ইন্টারনেট খরচ করতে চান না। তাদের ক্ষেত্রে আপডেট বন্ধ করতে চাইলে পিসির নেটওয়ার্ক সেটিংস এ যেতে হবে। সেখানে সংযুক্ত ইন্টারনেট সংযোগের নাম প্রদর্শিত হবে। কাঙ্খিত নামের উপর ক্লিক করে ‘Properties’ এ যেতে হবে। সেখান থেকে ‘Set as Metered Connection’ নির্বাচন করে দিলে উক্ত ইন্টারনেট চলাকালীন আপডেট প্রক্রিয়া স্থগত থাকবে।

• সাময়িক সময়ের জন্য আপডেট প্রক্রিয়া স্থগিত রাখা


এজন্য কম্পিউটারের সেটিংস থেকে ‘Updates & Security’ এ গিয়ে ‘Windows Update’ এ ক্লিক করতে হবে। সেখানে একটি নতুন উইন্ডো প্রদর্শিত হবে। সেখানে Pause Updates for 7 Days নির্বাচন করলে পরবর্তী ৭ দিন আপডেট প্রক্রিয়া স্থগিত থাকবে।

উইন্ডোজ ১০ ওএস পেনড্রাইভে বুটেবল করবেন যেভাবে

pendrive_techshohor

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : কম্পিউটারে উইন্ডোজ ১০ ইন্সটল করতে পারবেন নিজেই। এ জন্য অন্য কারও কাছে যেতে হবে না। কিভাবে কাজটি করা হবে তা থাকছে টেকশহরডটকমের তিন পর্বের ধারাবাহিকে।

এটি দ্বিতীয় পর্ব। প্রথম পর্বে তুলে ধরা হয়েছিল যেভাবে উইন্ডোজ ১০-এর আইওএস ফাইলটি ডাউনলোড করতে হয়। এখানে থাকছে বুটেবল পেনড্রাইভ তৈরির কৌশল।

প্রথমে এ ঠিকানা থেকে ‘rufus’ সফটওয়্যারটি ডাউনলোড করতে হবে।

এরপর যে পেনড্রাইভে ওএস বুটেবল করবেন সেটি কম্পিউটারে যুক্ত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে পেনড্রাইভের স্টোরেজ মিনিমাম ৮ গিগাবাইট হতে হবে।

পেনড্রাইভে কোনো গুরুত্বপূর্ণ ফাইল থাকলে তা ব্যাকআপ রাখুন। কেননা বুটেবল করার সময় পেনড্রাইভটি ফরম্যাট দিতে হবে। এতে আগের তথ্য হারিয়ে যাওয়ার আশংকা শতভাগ।

এরপর ‘ ‘rufus’ সফটওয়্যারটি চালু করে ‘device’ অপশন থেকে পেনড্রাইভটি নির্বাচন করে দিতে হবে।

তারপর ‘Boot selection’ অপশন থেকে উইন্ডোজ ১০ অপারেটিং সিস্টেমের আইওএস ফাইলটি নির্বাচন করতে হবে।

পরের ধাপে ‘Start’ বাটনে ক্লিক করলে পপআপে একটা সর্তক বার্তা আসবে সেখান থেকে ‘ok’ বাটনে ক্লিক করতে হবে। এরপর ৪-৫ মিনিট সময় লাগবে পেনড্রাইভটি বুটেবল হতে। প্রক্রিয়াতে শেষ হলে ‘rufus’ সফটওয়্যারের নিচে ‘DONE’ লেখা দেখা যাবে।

এভাবে উইন্ডোজ ১০ অপারেটিং সিস্টেম সেটআপ দেয়ার জন্য বুটেবল পেনড্রাইভ তৈরি করা যায়। এ পেনড্রাইভ থেকে পরে উইন্ডােজ সেটআপ দেওয়া যায়।

আগামী পর্বে তুলে ধরা হবে যেভাবে বুটবেল পেনড্রাইভ ব্যবহার করে কম্পিউটারে উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম সেটআপ করবেন।


Post navigation