আসছে ফেসবুকে XCheck নামে নতুন ফিচার, কিন্তু সমস্যায় পড়তে পারেন বহু ইউজার।

ফেসবুকের (Facebook) এই নতুন নিয়মের ফলে ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্ট হবে আরও সুরক্ষিত। তবে পাশাপাশি, কিছু অসুবিধাতেও পড়তে পারেন তাঁরা।

ফেসবুক (Facebook) নিয়ে আসতে চলেছে এক নতুন নিয়ম, যার পোশাকি নাম XCheck বা Cross Check। এই নতুন নিয়মের ফলে ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্ট হবে আরও সুরক্ষিত। তবে পাশাপাশি, কিছু অসুবিধাতেও পড়তে পারেন তাঁরা। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক নতুন ফিচার এই XCheck কী ভাবে কাজ করবে।

ধরা যাক, জনপ্রিয় ফুটবলার নেইমারের বিরুদ্ধে যে মহিলাটি ধর্ষণের অভিযোগ তুলেছিলেন, নেইমার তাঁদের হোয়াটসঅ্যাপের (WhatsApp) কথোপকথনের স্ক্রিনশট ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামে (Instagram) পোস্ট করে সকলের সঙ্গে শেয়ার করলেন। যেখানে তাঁদের কথোপকথনের চ্যাটের সঙ্গে কিছু ছবিও রয়েছে। এই ধরনের অশালীন ছবি ফেসবুকে পোস্ট হলে, সঙ্গে সঙ্গে কর্তৃপক্ষ সেই পোস্ট ডিলিট করে দেয়। কিন্তু এখন নেইমার যদি এই XCheck-এর আওতায় থাকেন, তাহলে তাঁর সেই পোস্ট আর ডিলিট করা যাবে না। ফেসবুক  সভাপতি (MODERATOR ) ও সেই পোস্ট ডিলিট করতে পারবেন না। সেটা ফেসবুকে থেকে যাবে এবং ৫৬ মিলিয়ন অনলাইন ইউজার তা দেখতে পাবেন।

সর্বোপরি,

পৃথিবীর বিভিন্ন ক্ষমতাশালী বিশিষ্ট ব্যক্তিদের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত রাখতে এই নতুন ফিচারের আবির্ভাব। কিন্তু এই XCheck-এর প্রয়োগের ফলে সামাজিক এই মাধ্যমের শালীনতা কতটা বজায় রাখা যাবে? ফেসবুকের এই নতুন নিয়মের ফলে মডারেটরদের কাজটা আরও কঠিন হয়ে উঠবে। জনপ্রিয় এই সামাজিক মাধ্যমে সমাজের জন্য ক্ষতিকারক অশালীন বিষয়বস্তু পোস্ট হলেও XCheck-এর দৌলতে তা আর ডিলিট করা যাবে না। যার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাব পড়বে সকলের উপরে। ভারতে ফেসবুকের বিভিন্ন ধরনের রাজনৈতিক পোস্ট আগে থেকেই চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। এখন ফেসবুকের এই নতুন নিয়মের ফলে ৫.৮ মিলিয়ন রাজনীতিবিদ ও সেলিব্রিটিদের নানা ধরনের পোস্ট কী প্রভাব ফেলে সেটাই দেখার। ফেসবুকের মতো একটা জনপ্রিয় সামাজিক মাধ্যম, যেখানে সমাজের সব স্তরের মানুষের আনাগোনা রয়েছে, সেখানে XCheck-এর প্রভাব হতে পারে মারাত্মক, এমনটাই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ছাত্রছাত্রীদের জন্য বিনা মূল্যে ও স্বল্পমূল্যে ল্যাপটপ!

কাজটি করার পরিকল্পনা ছিল আরো কয়েক বছর পরে, আরেকটু গুছিয়ে নিয়ে। কিন্তু অসংখ্য ছাত্রছাত্রীর কান্না দেখে কাজটি এখনই হাতে নিতে হলো। অন্তত কাজটা শুরু হোক। যতটা সাহায্য তাদের করা যায়!

শিরোনাম দেখে নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন, আমি কী নিয়ে কথা বলছি। জি, বাংলাদেশের ছাত্রছাত্রীদের হাতে কীভাবে বিনা মূল্যে বা স্বল্পমূল্যে ল্যাপটপ তুলে দেয়া যায়, সেটা নিয়েই লিখতে বসেছি। বিষয়টি অনেক দিন ধরেই মাথায় ছিল। কয়েক বছর আগে একটু শুরু করেছিলাম। কিছু মানুষকে তখন সাহায্য করা গিয়েছিল। এখন আরেকটু ধাক্কা দেয়া যেতে পারে বলেই বিষয়টির অবতারণা করছি।

ছাত্রছাত্রীদের ল্যাপটপ দরকার কেন?

সারা বিশ্বে শিক্ষাব্যবস্থা যেভাবে পাল্টে গেছে, তাতে শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল পদ্ধতি ছাড়া আর উপায় নেই। কেউ কি বর্তমান সময়ে ছাত্রছাত্রীদের লেখাপড়ার অবস্থা দেখেছেন? বেশিভাগই বই কেনে না- বই হয়তো বাজারে পাওয়া যায় না, কিংবা কেনার সামর্থ্য থাকে না। তারা ফটোকপি করে। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আশপাশে যে ফটোকপির দোকান, সেগুলোর দিকে তাকালেই দেখতে পাবেন আমাদের পরের প্রজন্ম কীভাবে ফটোকপি করে তাদের শিক্ষা কার্যক্রম চালাচ্ছে।

বই, ক্লাসনোট, প্রশ্নপত্র, সাজেশন- সবকিছুই ফটোকপি। এবং একটা বর্ষ শেষ, সেই ফটোকপি চলে যাচ্ছে ঝাল-মুড়ি বিক্রেতার কাছে। তাদের কাছে বই থাকছে না। (কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার বইগুলো আমার এখনো আছে। স্কুলের বইও খুঁজলে পাওয়া যেতে পারে।) আমি বর্তমান সময়ের ছাত্রছাত্রীদের জিজ্ঞেস করেছি, তাদের সংগ্রহে বই নেই। বই নাকি তাদের লাগেও না। হবে হয়তো। যেহেতু আমি এখন পড়ছি না, তাই এটা নিয়ে আমার মতামত ঠিক হবে না। বই ছাড়াও যদি বিষয়টি শিখে ফেলা যায়, তাহলে হয়তো বই না-ও লাগতে পারে।

বর্তমান সময়ে বই না লাগলেও একটা ডিভাইস যে লাগবে, সেটা আমি নিশ্চিত। শিক্ষার অসংখ্য ম্যাটেরিয়াল এখন সে চাইলেই ইন্টারনেট থেকে ডাউনলোড করে নিতে পারে, যা আমাদের সময় সম্ভব ছিল না। আমাদের সম্বল ছিল লাইব্রেরি। কিন্তু সেই লাইব্রেরির আবেদন এখন কমে এসেছে। তাই বর্তমান সময়ের ছাত্রছাত্রীদের একটি ডিভাইস হলে তার শিক্ষা কার্যক্রম আরো উন্নত হতে পারে।

সব শিক্ষার্থী কি ডিভাইস এফোর্ড করতে পারবে?

বাংলাদেশ এখনো ধনী দেশ হয়ে ওঠেনি। বাংলাদেশ এইমাত্র উন্নয়নশীল দেশের কাতারে নাম লেখাল। তাই এ দেশের অসংখ্য শিক্ষার্থী ডিজিটাল ডিভাইস পেয়ে যাবে, সেটা সম্ভব নয়। এটা সরকারের পক্ষে দেয়া যেমন সম্ভব নয়, তেমনি ছাত্রছাত্রীদের পক্ষেও কেনা সম্ভব নয়। বেশিভাগ পরিবার তাদের সন্তানদের ট্যাবলেট বা ল্যাপটপ কিনে দিতে পারবে না। এটাই বাস্তবতা। আমি যদি আমার স্কুল/কলেজের কথা মনে করি, আমার মা-বাবা আমাকে একটি ল্যাপটপ কিনে দেয়ার মতো সামর্থ্য রাখতেন না। এমন লাখ লাখ পরিবার পাওয়া যাবে, যাদের পরিবার এটা এফোর্ড করতে পারবে না।

তাহলে উপায়! এই বিশাল জনসংখ্যা তাহলে ডিজিটাল ডিভাইস পাবে না বলে শিক্ষা থেকে পিছিয়ে পড়বে? আসলেই কিন্তু পিছিয়ে পড়বে। এই গ্রহের অন্য দেশের ছেলেমেয়েরা যা শিখবে, আমাদের ছেলেমেয়েরা সেটা পাবে না। যারা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত যেতে পারবে, শুধু তারাই কিছুটা পাবে। কিন্তু সবাই তো আর বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে পারবে না। আবার বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে পারলেই তার যে একটা ল্যাপটপ থাকবে, সেটা না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। আমাদের পরিবারগুলোর তো সেই সক্ষমতা এখনো তৈরি হয়নি। এটা মেনে নিয়েই আমাদের এগোতে হবে।

যেভাবে ল্যাপটপ দেয়া হবে

আমরা একটা ফাউন্ডেশন (নন-প্রফিট) করতে যাচ্ছি, যার মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের ল্যাপটপ দেয়া হবে। কারা এই ল্যাপটপগুলো পাবে, সেটা ধীরে ধীরে ঠিক করব। তবে কীভাবে ল্যাপটপগুলো জোগাড় হবে, সেটা একটু বলা যেতে পারে।

১. আমাদের চারপাশে বিপুল মানুষ আছে, যাদের একাধিক ল্যাপটপ আছে। কিংবা কিছুটা পুরোনো ল্যাপটপ আছে। সেগুলোকে একটু ঠিক করে নিলেই অন্য একজন ব্যবহার করতে পারে। আমরা সেই ল্যাপটপগুলো সংগ্রহ করে, ঠিক করে তারপর ছাত্রছাত্রীদের মাঝে বিতরণ করতে পারি। তাতে রিসাইক্লিন হবে।

২. বিদেশে অনেক ফ্যাক্টরি রিফারবিশড ল্যাপটপ পাওয়া যায়, যেগুলোর মূল্য খুবই কম; কিন্তু গুণগত মান যথেষ্ট ভালো। সেই ল্যাপটপগুলো আমরা বিদেশ থেকে নিয়ে আসতে পারি। সেগুলো পরীক্ষা করে, তারপর ছাত্রছাত্রীদের হাতে তুলে দেয়া যেতে পারে।

৩. যারা কিছু টাকা দিয়ে ল্যাপটপ কেনার সামর্থ্য রাখেন, তাদের একত্র করে বাল্ক ল্যাপটপ অর্ডার করলে খরচ অনেক কম পড়বে। আমরা কিছু কিছু ল্যাপটপ কম মূল্যে তাদের দেব। সে জন্য পুরো প্রোগ্রামটি বিনা মূল্যে ট্যাপটপ নয়, স্বল্পমূল্যেও কেউ কেউ পাবেন।

এভাবে বেশ কিছু ল্যাপটপ জোগাড় করে ফেলা যাবে, যেগুলো ছাত্রছাত্রীদের কাজে লাগতে পারে।

যাদের ল্যাপটপ প্রয়োজন

আমরা একটি ওয়েবসাইট চালু করছি, যার ঠিকানা হলো https://priyo.org (প্রিয়.অর্গ)। যাদের ল্যাপটপ প্রয়োজন, তারা এই ঠিকানায় গিয়ে আবেদন করতে পারেন। এতে তাদের চাহিদা এবং সক্ষমতা জানা যাবে। আবেদন করলেই যে ল্যাপটপ পেয়ে যাবেন, তা কিন্তু নয়। একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করেই ল্যাপটপগুলো দেয়া হবে। কতগুলো ল্যাপটপ কোথা থেকে পাওয়া গেছে এবং কাকে দেয়া হয়েছে, সবকিছুই ওই ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে। ওয়েবসাইটটি কেবলই তৈরি করা হচ্ছে। এখন মাত্র আবেদনটা করা যাবে। শীঘ্রই অন্যান্য তথ্য যুক্ত করা হবে।

তবে আবেদনকারীদের মনে করার কোনো কারণ নেই যে, সবাইকেই পুরোনো ল্যাপটপ ধরিয়ে দেয়া হবে। ল্যাপটপগুলো ব্যবহারযোগ্য হলেই আমরা সেগুলো বিতরণ করব। পাশাপাশি আমরা নতুন ল্যাপটপও দেব, যা কেবল ছাত্রছাত্রীদের জন্য।

যাদের ল্যাপটপ প্রয়োজন, তারা এই ওয়েবসাইটে গিয়ে আগামী ২৬ মার্চের ভেতর আবেদন করতে পারেন।

যারা ল্যাপটপ দান করতে চান

আপনার কাছে যদি পুরোনো ল্যাপটপ থাকে, যা আপনি ‌ব্যবহার করছেন না, তাহলে তার ডেটা মুছে ফেলে ল্যাপটপটি আমাদের ল্যাপটপ ব্যাংকে দান করতে পারেন। আমরা সেই ল্যাপটপটি যদি ব্যবহারের উপযোগী করতে পারি, তাহলে সেটা ঠিক করে কোনো শিক্ষার্থীর হাতে তুলে দিতে পারি। আমাদের ওয়েবসাইটে যোগাযোগের ঠিকানা পেয়ে যাবেন। কুরিয়ারে ল্যাপটপটি পাঠিয়ে দিতে পারেন। নয়তো আমাদের টিমের কেউ একজন গিয়ে আপনার কাছ থেকে ল্যাপটপটি সংগ্রহ করে আনতে পারে।

তবে আপনাদের প্রতি অনুরোধ থাকবে, ঘরে কিংবা অফিসে একটু চোখ বুলিয়ে দেখুন। অনেক ল্যাপটপ হয়তো আশপাশে রয়েছে, যেগুলো বছরের পর বছর এমনিতেই পড়ে থাকবে। কিছুদিন পর ব্যাটারি নষ্ট হয়ে যাবে। আপনি আর ব্যবহার করতেই পারবেন না। অনেক অফিস আছে, যারা নতুন ল্যাপটপ কিনেছে, পুরোনোগুলো কী করবে বুঝতে পারছে না। সেগুলো কিন্তু আমাদের ল্যাপটপ ব্যাংকে দিয়ে দিতে পারেন।

শর্তসমূহ:

এখানে যারা ল্যাপটপ পাবেন, তাদের জন্য একটি শর্ত আছে। আর যারা আমাদের মাধ্যমে অন্যকে ল্যাপটপ দান করতে চান, তাদের জন্য একটি শর্ত রয়েছে।

ক. ছাত্রছাত্রীদের জন্য শর্ত: মিথ্যা তথ্য দেয়া যাবে না। এই একটাই শর্ত। যে মুহূর্তে কেউ মিথ্যা তথ্য দেবে, তাকে সিস্টেম থেকে ব্যান করা হবে। তার কোনো কথাই শোনা হবে না, সে যত ভালো শিক্ষার্থীই হোক না কেন।

খ. ল্যাপটপদানকারীদের জন্য শর্ত: আমরা সবেমাত্র ফাউন্ডেশনের কাজে হাত দিয়েছি। এখনো সবকিছু গোছানো হয়নি। তাই এখনই আপনাদের সব হিসাব-নিকাশ হাতে তুলে দিতে পারছি না। যদি আমাদের বিশ্বাস করেন, তবেই আপনার পুরোনো ল্যাপটপটি আমাদের দিতে পারেন। মনে কোনো রকম সন্দেহ নিয়ে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ না করার পরামর্শ থাকল।

যা দিয়ে শুরু করেছিলাম, সেই প্রসঙ্গটা দিয়ে শেষ করি।

এই প্রকল্পটা আমাদের হাতে ছিল। কিন্তু এখন সামনে নিয়ে এসেছি এ জন্য যে এই করোনাকালে আমাদের অনেক ছাত্রছাত্রী ডিভাইসের জন্য লেখাপড়া করতে পারছে না। স্মার্টফোন দিয়ে হয়তো তাদের কাজ চলছে, কিন্তু স্মার্টফোন আসলে শিক্ষা-উপকরণ নয়। ওই ছোট স্ক্রিনে তার শেখাটা হয় না। তাদের কথা মাথায় রেখেই আমরা আমাদের কিছুটা সময় ওই দিকে দিচ্ছি। যদি আপনারা কেউ আমাদের সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবক হতে চান, তাহলে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। সবাই চেষ্টা করলে অনেক শিক্ষার্থীর জীবনই পাল্টে দেয়া যেতে পারে। প্রয়োজন শুধু সামান্য চেষ্টা।

এ বছর বাংলাদেশ তার পঞ্চাশে পা দিল। দেখি, বাংলাদেশের এই বছরে কতগুলো ছাত্রছাত্রীর হাতে ল্যাপটপ তুলে দিতে পারি!

Internet Bandwidth Theft: ব্য়ান্ডউইথ চুরি করে তা থেকে মোটা টাকা রোজগার করছে জালিয়াতরা। কী ভাবে এই কাজটা সম্পন্ন হচ্ছে?

চুরি হয়ে যাচ্ছে ইন্টারনেট ব্য়ান্ডউইথ (Internet Bandwidth)। অথচ বুঝতেই পারছেন না ব্য়বহারকারী। দিনের পর দিন নিজের টাকা খরচের খাতায় যাচ্ছে। কিন্তু বিষয়টা ঠিক কী?

এত দিন পর্যন্ত জালিয়াতরা বিভিন্ন তথ্য় চুরির জন্য় অন্য়ের ডিভাইজে হানা দিত। এখনও করে। কারও ডিভাইজ থেকে ব্য়ক্তিগত তথ্য় চুরি (internet bandwidth theft) , কারও কাছ থেকে গুপ্তমুদ্রা(cryptocurrency)সংক্রান্ত গোপন তথ্য় হাতিয়ে নেওয়া সহ আরও বিভিন্ন ক্ষেত্রে জাল বিছিয়ে রেখেছে জালিয়াতরা। কিন্তু এবার বিভিন্ন ডিভাইজে হানা দিচ্ছে শুধুমাত্র ব্য়ান্ডউইথ চুরি করতে। সেই ব্য়ান্ডউইথ চুরি করে তা থেকে মোটা টাকা রোজগার করছে জালিয়াতরা (hackers) । কী ভাবে এই কাজটা সম্পন্ন হচ্ছে?

পুরো কাজটির জন্য় একটি প্রক্সিওয়্যার (proxyware) ব্য়বহার করছে জালিয়াত চক্রের পাণ্ডারা। সিসকো ট্য়ালোস (Cisco Talos) ইতিমধ্য়ে ওই বিশেষ প্রক্সিওয়্যারের সন্ধান পেয়েছে। ওই ওয়্যারের মাধ্য়মে বিভিন্ন ডিভাইজকে টার্গেট করা হয়। তবে এক্ষেত্রে সব ডিভাইজকে টার্গেট করতে পারেনা প্রক্সিওয়্যার। মূলত যে সব সিস্টেমে বা ডিভাইজে আগে থেকেই গোপনীয়তা (Malware ) ঢুকে রয়েছে, বেছে বেছে সেই সিস্টেমগুলিতেই হামলা চালায় জালিয়াতরা। ZDNet নামে একটি সংস্থা জানিয়েছে, প্রক্সিওয়্যার কোনও অবৈধ কিছু নয়। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে প্রক্সিওয়্যার ব্য়বহার করা হয়। কিন্তু জালিয়াতরা ওই প্রক্সিওয়্যার ব্যবহার করে খারাপ উদ্দেশ্যে।

এই প্রক্সিওয়্যার টুলটিকেই অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে হ্য়াকাররা। ব্য়বহারকারীর অজান্তেই তাদের কোনও ডিভাইজে প্রক্সিওয়্যার সফ্টওয়্যারটিকে ইনস্টল করে দেওয়া হচ্ছে। এর পরেই সেই ডিভাইজের ব্য়ান্ডউইথ চুরি হয়ে যাচ্ছে এবং তা চলে যাচ্ছে হ্য়াকারদের দখলে। এমনকী দীর্ঘদিন কেটে গেলেও ব্য়বহারকারীরা বুঝতে পারে না তাদের ডিভাইসে এই ধরনের কোনও অ্য়াপ(app) রয়েছে।

কী ভাবে প্রক্সিওয়্যার ইনস্টল করে দেওয়া হচ্ছে?

মূলত কোনও পাইরেটেড(pirated )অ্য়াপের মাধ্য়মে বা কোনও সফটঅয়্যারের মধ্য়মে ওই প্রক্সিওয়্যার ইনস্টল করে দেওয়া হচ্ছে।

কী ভাবে বোঝা সম্ভব কোনও ডিভাইজে প্রক্সিওয়্যার রয়েছে কি না?

১) প্রতিনিয়ত ফোন বা ল্য়াপটপে থাকা অ্য়াপ বা সফ্টওয়্যারের উপর নজর রাখতে হবে। যদি দেখা যায় কোনও অ্য়াপ নিজে থেকে ডাউনলোড করা হয়নি, তাহলে যা দ্রুত ডিলিট করে দিতে হবে।

২) কোনও অ্যাপ ডাউনলোড করার আগে তার source যাচাই করতে হবে। Google Play Store এবং Apple App Store থেকে ডাউনলোড করা-ই ভালো।

৩) ফোনে বিল্ট ইন সিকিউরিটি স্ক্য়ানার থাকলে তা active রাখতে হবে।

৪) অপরিচিত কেউ কোনও link পাঠালে তাতে ক্লিক করা উচিত নয়।

৫) পাইরেটেড অ্য়াপ বা সফ্টওয়্যার কোনও ডিভাইজে ইনস্টল করা সঠিক সিদ্ধান্ত নয়।

রাইজেন প্রো প্রসেসর নিয়ে এসারের নতুন দুই ল্যাপটপ

এএমডির রাইজেন প্রো প্রসেসরসহ বাজারে ট্রাভেলমেট পি২ সিরিজে নতুন দুটি ল্যাপটপ নিয়ে এসেছে তাইওয়ানের বহুজাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এসার। ১৪ ও ১৫ দশমিক ৬ ইঞ্চি ডিসপ্লে নিয়ে এ দুটি মডেল বাজারে উন্মুক্ত করেছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রসেসর ছাড়াও ডিজাইন ও বৈশিষ্ট্যের দিক থেকেও দুটি ল্যাপটপ প্রায় একই।

এসার ট্রাভেলমেট পি২১৪৪১জি২ ১৪ ইঞ্চির ল্যাপটপে এএমডি রাইজেন ৫ প্রো ৫৬৫০ইউ চিপসেট ব্যবহার করা হয়েছে। অন্যদিকে ১৫ দশমিক ৬ ইঞ্চির ট্রাভেলমেট পি ২১৫৪১জি২ ল্যাপটপটি এএমডি রাইজেন ৫ প্রো ৫৬৫০ইউ অথবা রাইজেন ৭ প্রো ৫৮৫০ইউ চিপসেট পাওয়া যাবে।

১৫ দশমিক ৬ ইঞ্চির ট্রাভেলমেট পি২ ল্যাপটপে ১২৯০–১০৮০ পিক্সেলের ফুল এইচডি আইপিএস ডিসপ্লে দেয়া হয়েছে। এর ফিল্ড অব ভিউ ১৭০ ডিগ্রি এবং আসপেক্ট রেশিও ১৬:৯। ১৪ ইঞ্চি ল্যাপটপের ডিসপ্লে সম্পর্কিত কোনো তথ্য জানা যায়নি।

দুটি ল্যাপটপেই ৮ জিবি ডিডিআরফোর র‌্যাম ও ২৫৬ জিবি এসএসডি স্টোরেজ দেয়া হয়েছে। ল্যাপটপগুলোতে ইউএসবি টাইপ এ পোর্টস, একটি ইউএসবি টাইপ সি পোর্ট, একটি এইচডিএমআই পোর্ট, ভিজিএ পোর্ট ও ইথারনেট পোর্ট রয়েছে। ল্যাপটপের সঙ্গে ব্যবহারকারীরা এসডি কার্ড রিডার, ৩ দশমিক ৫ মিলিমিটারের হেডফোন জ্যাকের পাশাপাশি ব্লুটুথ ভার্সন ৫, ওয়াই-ফাই ৮০২.১১ এ/বি/জি/এন/এসি/এএক্স সংযোগ পাবেন।

ট্রাভেলমেট ল্যাপটপগুলোতে ৭২০ পিক্সেলের ভিডিও ক্যামেরা দেয়া হয়েছে। ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য ক্যামেরার সঙ্গে ম্যানুয়াল শাটার দেয়া হয়েছে। উইন্ডোজ হ্যালোর জন্য ল্যাপটপে আইআর ক্যামেরা ও দুটি মাইক্রোফোন দেয়া হয়েছে।

এসারের দাবি একবারের চার্জে ল্যাপটপগুলো ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত ব্যাকআপ দিতে সক্ষম। ৬৫ ওয়াটের চার্জারের মাধ্যমে তাদের থ্রিসেল লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি চার্জ দেয়া যাবে বলেও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ১৫ দশমিক ৬ ইঞ্চি ডিসপ্লের ল্যাপটপটির ওজন ১ কেজি ৮০০ গ্রাম।

বাজারে শুধু কালো রঙেই ল্যাপটপগুলো পাওয়া যাবে। এএমডি রাইজেন ৫ প্রো প্রসেসরসহ ট্রাভেলমেট পি২ ১৫ দশমিক ৬ ইঞ্চি ল্যাপটপের দাম ৬৩ হাজার থেকে ৭০ হাজার টাকার মধ্যে এবং রাইজেন ৭ প্রো প্রসেসর সংবলিত ল্যাপটপের দাম ৭২ হাজার থেকে ৮০ হাজার টাকার মধ্যে হতে পারে

মিডিয়াটেক প্রসেসরসহ রিয়েলমির প্রথম প্যাড উন্মোচন

স্লিম ডিজাইন, কোয়াড স্পিকার ও মিডিয়াটেকের হেলিও প্রসেসর নিয়ে বাজারে নিজেদের প্রথম প্যাড উন্মোচন করল চীনের অন্যতম প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান রিয়েলমি। রিয়েলমি প্যাডে অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে অ্যান্ড্রয়েড ১১ দেয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে ইউজার ইন্টারফেসে প্যাড স্কিনসহ রিয়েলমি ইউআই দেয়া হয়েছে। এ ট্যাবে ১০ দশমিক ৪ ইঞ্চির ডব্লিউইউএক্সজিএ+২০০০X১২০০ পিক্সেলের ডিসপ্লে দেয়া হয়েছে। যার স্ক্রিন টু বডি রেশিও ৮২ দশমিক ৫ শতাংশ। অন্ধকারে চোখের ওপর চাপ কমাতে এ প্যাডে প্রিলোডেড নাইট মোড রয়েছে।

রিয়েলমি প্যাডে মিডিয়াটেকের হেলিও জি৮০ প্রসেসর ব্যবহার করা হয়েছে। মাল্টি টাস্কিং সুবিধার জন্য এতে ৪ জিবি র‍্যাম ও ৬৪ জিবি ইন্টারনাল স্টোরেজ দেয়া হয়েছে। এ প্যাডে ৮ মেগাপিক্সেলের আল্ট্রা ওয়াইড ফ্রন্ট ও রিয়ার ক্যামেরা রয়েছে। প্যাডের ওজন ৪৪০ গ্রাম।

রিয়েলমি প্যাডে চারটি স্পিকার যুক্ত করা হয়েছে। এগুলো ডলবি অ্যাটমস ও হাই রেস অডিও প্রযুক্তি সংকলিত। প্যাডে ৭ হাজার ১০০ মিলি অ্যাম্পিয়ার আওয়ারের ব্যাটারি দেয়া হয়েছে। বাজারে ৩/৩২ জিবি স্টোরেজের ওয়াই-ফাই অনলি ট্যাবের মূল্য ১৬ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকার মধ্যে। ৩/৩২ জিবি ওয়াই-ফাই ও ফোরজি ভ্যারিয়েন্টের মূল্য ১৮ হাজার থেকে ২৩ হাজার টাকার মধ্যে এবং ৪/৬৪ জিবি ওয়াই-ফাই ও ফোরজি ভ্যারিয়েন্টের মূল্য ২০ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকার মধ্যে।

বিশ্বে মোবাইল ইন্টারনেটের গতি বেড়েছে ৬০ শতাংশ, বাংলাদেশে ১৫ শতাংশ

গত এক বছরে বাংলাদেশে মোবাইল ইন্টারনেটের গতি বেড়েছে ১৫ দশমিক ৩৮ শতাংশ। তবে, একই সময়ে বিশ্বব্যাপী মোবাইল ইন্টারনেটের গড় গতি গড়ে বেড়েছে ৫৯ দশমিক ৫ শতাংশ। এ হিসেবে বাংলাদেশে মোবাইল ইন্টারনেটের গতি বৃদ্ধির হার বৈশ্বিক গড়ের প্রায় এক-চতুর্থাংশ।

মোবাইল ইন্টারনেটে বৈশ্বিক গড়ের চেয়ে বাংলাদেশের গড় খারাপ হলেও এগিয়ে আছে ব্রডব্যান্ড সংযোগের গতি। গত বছরের জুলাইয়ের তুলনায় চলতি বছরের জুলাইয়ে বিশ্বে ব্রডব্যান্ডের সংযোগের গতি বেড়েছে গড়ে ৩১ দশমিক ৮৭ শতাংশ।

সম্প্রতি প্রকাশিত ইন্টারনেটের গতি পরীক্ষা ও বিশ্লেষণের প্রতিষ্ঠান ‘ওকলা’র তথ্য বিশ্লেষণ করে এই তথ্য পাওয়া গেছে। প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে বাংলাদেশে মোবাইল ইন্টারনেটের গতি বাড়ার হার ১৫ দশমিক ৩৮ শতাংশ। অথচ এ সময়ে বিশ্বব্যাপী মোবাইল ইন্টারনেটের গতি গড়ে বেড়েছে ৫৯ দশমিক ৫ শতাংশ।

প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ২০২০ সালের জুলাইয়ে বিশ্বে মোবাইল ইন্টারনেটের ডাউনলোডের গড় গতি ছিল সেকেন্ডে ৩৪ দশমিক ৫২ মেগাবাইট (এমবিপিএস)। চলতি বছরের জুলাইয়ে এসে তা বেড়ে হয়েছে ৫৫ দশমিক শূন্য ৭ এমবিপিএস। আর বাংলাদেশে গত বছরের জুলাইয়ে মোবাইল ইন্টারনেটের ডাউনলোডের গড় গতি ছিল ১০ দশমিক ৯২ এমবিপিএস। এক বছরের ব্যবধানে তা হয়েছে ১২ দশমিক ৬ এমবিপিএস।

প্রতিষ্ঠানটির মতে, ২০২১ সালে মোবাইল ইন্টারনেটের গতিতে শীর্ষ ১০ দেশটি দেশ হলো: সংযুক্ত আরব আমিরাত, দক্ষিণ কোরিয়া, কাতার, চীন, সাইপ্রাস, নরওয়ে, সৌদি আরব, কুয়েত, অস্ট্রেলিয়া ও বুলগেরিয়া।

ওকলার মোবাইল ইন্টারনেটের গতির সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান বরাবরই শেষের দিকে। জুনের মতো জুলাইয়েও বাংলাদেশ ছিল ১৩৫ নম্বরে। তবে জুনের প্রতিবেদনে তালিকায় ছিল ১৩৭ দেশ আর জুলাইয়ে ছিল ১৩৯ দেশ।

বিকাশ প্রিয় নাম্বার সেট করার নিয়ম

বিকাশে সেন্ড মানি ফি প্রযোজ্য হবেনা ৫ টি প্রিয় বিকাশ নাম্বারের ক্ষেত্রে। অর্থাৎ বিকাশ প্রিয় নাম্বার সেট করলে সম্পূর্ণ  বিনামূল্যে বিকাশে সেন্ড মানি করা যাবে। চলুন জেনে নিই, কিভাবে বিকাশ প্রিয় নাম্বার সেট করতে হয়, বিকাশে প্রিয় নাম্বার সেট করার সুবিধা ও শর্তসমুহ।

বিকাশ প্রিয় নাম্বার এর সুবিধা

৫টি বিকাশ প্রিয় নাম্বারে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত সেন্ড মানি বিনামূল্যে করা যাবে। প্রিয় নাম্বারে বিনামূল্যে সেন্ড মানি এর শর্তসমুহ হলোঃ

  • প্রিয় নাম্বারগুলোতে প্রতি ক্যালেন্ডার মাসে ২৫,০০০ টাকা পর্যন্ত সেন্ড মানি করতে কোনো চার্জ প্রযোজ্য হবে না
  • প্রতি মাসে ২৫,০০০.০১ টাকা থেকে ৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত প্রিয় নাম্বারে লেনদেনের ক্ষেত্রে ৫ টাকা চার্জ প্রযোজ্য হবে
  • প্রিয় নাম্বারে মাসিক লেনদেন ৫০,০০০ টাকার বেশি হলে, প্রতি লেনদেনের ক্ষেত্রে  ১০ টাকা চার্জ প্রযোজ্য হবে

অ্যাপ ব্যবহার করে বিকাশ প্রিয় নাম্বার সেট – bKash Priyo Number Add using App

বিকাশ অ্যাপ ব্যবহার করে বিকাশ প্রিয় নাম্বার সেট করতেঃ

  • বিকাশ অ্যাপে প্রবেশ করুন
  • পিন দিয়ে লগিন করুন
  • “সেন্ড মানি” লেখায় ক্লিক করুন
  • “প্রিয় নাম্বারের তালিকা দেখুন” লেখায় ক্লিক করুন
  • প্রদর্শিত পেজে আপনার প্রিয় নাম্বারের তালিকা (যদি থাকে) দেখতে পাবেন
  • বিকাশ প্রিয় নাম্বার সেট করতে নিচের দিকে থাকা “যোগ করুন” এ ক্লিক করুন
  • এরপর যে নাম্বারটি বিকাশ প্রিয় নাম্বার হিসেবে সেট করতে চান, সেটি লিখুন বা সিলেক্ট করুন
  • এরপর বিকাশ একাউন্টের পিন দিয়ে সাবমিট করলেই উক্ত নাম্বার বিকাশ প্রিয় নাম্বার হিসেবে সেট হয়ে যাবে।

ইউএসএসডি ব্যবহার করে বিকাশ প্রিয় নাম্বার সেট – bKash Priyo Number Add using USSD

*২৪৭# ডায়াল করেও বিকাশ প্রিয় নাম্বার সেট করা যাবে। *২৪৭# ডায়াল করে বিকাশ প্রিয় নাম্বার সেট করতেঃ

সর্বশেষ প্রযুক্তি বিষয়ক তথ্য সরাসরি আপনার ইমেইলে পেতে ফ্রি সাবস্ক্রাইব করুন!

সাবস্ক্রাইব

  • *247# ডায়াল করুন
  • My Bkash এ প্রবেশ করতে 8 লিখে রিপ্লাই দিন
  • 4 লিখে রিপ্লাই দিয়ে Priyo Numbers মেন্যুতে প্রবেশ করুন
  • 1 লিখে রিপ্লাই করুন
  • প্রিয় নাম্বার এড করতে 1 লিখে রিপ্লাই করুন
  • এরপর যে নাম্বারটি প্রিয় নাম্বার হিসেবে সেট করতে চান
  • এরপর উক্ত প্রিয় নাম্বারের যে নাম দিতে চান, তা লিখুন
  • এরপর আপনার বিকাশ পিন লিখে রিপ্লাই করলেই প্রিয় নাম্বার এড হয়ে যাবে।

ইন্টারনেট জগত সম্পর্কে ১০ টি আশ্চর্য সত্য

ছবি – Shutter Stock

আজকে আপনাদের সাথে শেয়ার করবো ইন্টারনেট জগত সম্পর্কে ১০ টি আশ্চর্য সত্য যা শুনলে হয়তো আপনি থমকে যাবেন। আমি নিজেও অবাক হয়ে গিয়েছিলাম কথা গুলো শুনে।

১) ইন্টারনেট ব্যবহারকারির সংখ্যাঃ

আমরা অনেকেই ইন্টারনেট ব্যবহার করি এবং জানি যে এটার গুরুত্ব অনেক। কিন্তু কেউ কি জানেন ইন্টারনেট ব্যবহারকারির সংখ্যা কি হারে বাড়ছে?

২০০২ সালে ইন্টারনেট ব্যবহারকারির সংখ্যা ছিল মাত্র ৬০০ মিলিয়ন আর এখন সেটা এসে দাঁড়িয়েছে ২.২ বিলিয়নে। এক দশকে প্রায় ৩৬৭% বেড়েছে।

ভবিষ্যতে কত হবে সেটা ভাবতে পারছেন? এমন একদিন হয়তো আসবে যখন ইন্টারনেট যে ব্যবহার না করবে তাকে পাগল বলবে মানুষ। 😛

২) ফেসবুক সম্পর্কে একটি আশ্চর্য সত্যঃ

আমরা সবাই ফেসবুকে ছবিতে, স্ট্যাটাসে লাইক দেই কিন্তু আমরা কি জানি প্রতিদিন কতটা লাইক হচ্ছে? বর্তমানে ফেসবুকের অ্যাক্টিভ ব্যবহারকারির সংখ্যা হচ্ছে ১.২১ বিলিয়ন। সবাই প্রতিনিয়ত ছবি ভিডিও আপলোড করছে। এখন চলুন সেই আশ্চর্য সত্যটা জানি,

ফেসবুকে প্রতিদিন ৫০০ টেরাবাইট ডাটা আদান প্রদান হয়, প্রতিদিন প্রায় ২.৭ বিলিয়ন লাইক হয় এবং ৩০০ মিলিয়ন ছবি আপলোড হয়।

১০২৪ গিগাবাইটে হয় ১ টেরাবাইট,  প্রতিদিন ৫০০ টেরাবাইট ডাটা আদান প্রদান কি বাড়ির কাছে? আমি নিজেই প্রতিদিন অন্তত ১ এমবি আপলোড করি 😛 (Proud)

৩) স্প্যামিং সম্পর্কে একটি তথ্যঃ

স্প্যামাররা অনেক সচেতন! 😀 সোশাল মিডিয়াতে আমরা যেসব লিঙ্ক দেখি তার অনেক গুলোই স্প্যাম যেখানে ক্লিক করলে আপনার অনেক ক্ষতি হয়ে যেতে পারে।

আমরা ফেসবুক টুইটার সহ অন্যান্য সোশাল মিডিয়াতে যেসব অ্যাকাউন্ট দেখি তার শতকরা ৪০ ভাগ অ্যাকাউন্ট স্প্যামারদের খোলা। সকল মেসেজের মধ্যে শতকরা ৮ ভাগ মেসেজ পাঠানো হয় স্প্যামারদের দ্বারা।

আমি কয়েকদিন পর পর মেসেজ পাই, আফ্রিকান কোন মেয়ের ছবি দেওয়া প্রোফাইল থেকে পাঠায়, এমন সুন্দর করে কথা বলে যেন আমি তার হাজার বছরের পরিচিত। এদের একটা লক্ষন হল আপনার সাথে ফেসবুকে কথা বলবে না বরং মেইল চাইবে। এরকম দেখলেই সাবধান হয়ে যাবেন, অনেকেই আছেন এমনকি একসময় আমি নিজেও এমনটা করতাম, যেকোনো মেয়ে দেখলেই চ্যাট করতে ইচ্ছা করতো 😛 তবে এখন থেকে সতর্ক থাকবেন, বাংলাদেশি মেয়েদের (হয়তো আপনার ভাই-ব্রাদার :D) সাথে চ্যাট করেন কিন্তু আফ্রিকান মেয়েদের সাথে কইরেন না।

৪) গুগল সার্চ সম্পর্কে একটি সত্যঃ

হেহেহেহে! মামার কথা আর কি বলবো, কদিন পর পর শুনি এই কম্পানিকে গুগল কিনে নিয়েছে ঐ কম্পানিকে গুগল কিনে নিয়েছে। সে শুধু বড় হচ্ছেই, এখন পর্যন্ত প্রায় ১৪৫ টার মতো কম্পানি গুগল কিনেছে/মার্জ করেছে। এই গুগল যে একদিন কত বড় হবে তা ভাবলেই আমার মাথা ঘুরে। 😀

প্রতি মাসে গুগল ১০০ বিলিয়ন সার্চ করে তার মানে হল প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৪০, ০০০ সার্চ রেসাল্ট আমাদেরকে দেয়।

যেদিন শুনেছিলাম যে পৃথিবীর প্রথম মোবাইল ফোন তৈরিকারী কম্পানি মটোরোলাকে কিনে নিয়েছে গুগল সেদিন আসলেই অবাক হয়েছিলাম। এত বড় একটা কম্পানি যেটা কিনতে গুগলকে গুনতে হয়েছে ১২.৫ বিলিয়ন ইউএস ডলার। তাছাড়া ব্লগার, অ্যান্ড্রয়েড, ইউটিউব, প্লিঙ্ক, ওয়েয, পিকাসা এসব তো আছেই।

৫) ওয়েবকেম সম্পর্কে একটি মজার তথ্যঃ

প্রযুক্তির যত সব নতুন নতুন আবিষ্কার দেখি তার সবগুলোই কোন না কোন প্রয়োজনবোধ থেকে এসেছে। ওয়েবকেম নিঃসন্দেহে একটি আশ্চর্য আবিষ্কার যদিও এখন আমাদের কাছে তেমন আশ্চর্য মনে হয় না।

কেমব্রীজ ইউনিভার্সিটির কয়েকজন অলস ছাত্ররা ওয়েবকেম আবিষ্কার করেছে, তাদের উদ্দেশ্য ছিল নিজের রোমে বসে কফি রোমের খবর রাখা।

Trojan Room coffee pot একটি কফি রাখার পাত্র ছিল কেমব্রীজ ইউনিভার্সিটিতে। ওয়েবকেমটা বানানো হয়েছিল যেন সেই পাত্রের কফি শেষ হয়ে যাচ্ছে কিনা তা দেখার জন্য যেন বার বার ঐ রোমে না যেতে হয়। ওদের মতো অলস হতে পারলেও ভালো 😛 অলসতার বহিঃপ্রকাশ হল আজকের নিরাপত্তা ব্যাবস্থায় ব্যাবহৃত শক্তিশালী ক্যামেরা।

Dr. Quentin Stafford-Fraser এবং Paul Jardetzky এই দুজন হলেন প্রথম ওয়েবকেমের নির্মাতা।

৬) প্রথম ওয়েবসাইটঃ

স্যার টিম বার্নাস লী লন্ডনে জন্ম নেওয়া একজন পদার্থবিধ। তিনি চিন্তা করেছিলেন এমন একটি হাইপারলিঙ্কের কথা যার দ্বারা পৃথিবীর সবাই যুক্ত থাকবে। সেই মহৎ ব্যক্তির অসাধারন আবিষ্কারকে মানুষ উন্নতির চরম পর্যায়ে নিয়ে গেছে।

info.cern.ch হল বিশ্বের প্রথম ডোমেইন/ওয়েব সার্ভার। ১৯৯১ সালের আগস্ট মাসের ৬ তারিখে এটি পাবলিশ করা হয়।

আপনারা ইচ্ছা করলে এখনি সেই ওয়েবসাইট থেকে ঘুরে আসতে পারেন (নাহ এখন না, টিউনটা শেষ করে নিন :P) সাইটটা এখনো আগের মতোই আছে, সাদামাটা করে রেখে দেওয়া হয়েছে যেন ইতিহাসটা অক্ষুন্ন থাকে।

৭) সবচেয়ে দামি ডোমেইনঃ

সহজ এবং সুন্দর নামের ডোমেইন সবার কাছেই পরিচিত। আমি নিজে Yahoo তেমন ব্যবহার না করলেও Yahoo নামের ডোমেইনটা আমার প্রিয়। এই সুন্দর এবং সহজে মনে রাখার মতো ডোমেইন গুলো বিক্রি হয় অনেক দামে। আসুন দেখি এখন পর্যন্ত পৃথিবীর সবচেয়ে দামি ডোমেইনের নাম গুলো।

সবচেয়ে দামি ডোমেইনের নাম হল insure.com দাম, ১৬ মিলিয়ন ডলার। দ্বিতীয় দামি ডোমেইনের নাম হল sex.com যার দাম ১৪ মিলিয়ন ডলার।

অনেকেই ভাবছেন তাহলে গুগল বা ফেসবুকের ডোমেইনের দাম কত? এখানে যে নাম দুইটা দিলাম সেগুল কোন কম্পানি না, শুধু একটা ওয়েবসাইট অ্যাড্রেস। দ্বিতীয় ডোমেইনটার দাম কেন যে এত বেশি হল সেটা হয়তো সবাই বুঝতে পেরেছেন। প্রথমটার কারন আমি নিজেও বুঝি নাই (insurance একটি ভালো বিজনেস এটা বুঝি :D)

৮) দেশভিত্তিক ইন্টারনেট ব্যবহারকারির সংখ্যাঃ

অন্যান্য দেশের কথা জানার আগে আসুন দেখে নেই আমাদের দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারির সংখ্যা কত।

  • ২০০৫ সালে বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারির হার ছিল ০.২%
  • ২০০৬ সালে ১%
  • ২০০৭ সালে ১.৮%
  • ২০০৮ সালে ২.৫%
  • ২০০৯ সালে ৩.১%
  • ২০১০ সালে ৩.৭%
  • ২০১১ সালে ৫%
  • ২০১২ সালে ৬.৩%

ভারতে ২০১২ সালে ইন্টারনেট ব্যবহারকারির হার ছিল ১২.৬% এবং একই সালে পাকিস্তানে ছিল ১০%।

এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ইন্টারনেট ব্যবহারকারির সংখ্যা রয়েছে Iceland-এ ৯৭.৮% ইউএসএ তে ৭৮.৩% চিনে ৩৮.৪% এবং সবচেয়ে কম ইন্টারনেট ব্যবহারকারী দেশ হল উত্তর কোরিয়া যেখানে ০% মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করে।

আমি সবচেয়ে বেশি আশ্চর্য হয়েছিলাম এই তথ্যটা জেনে,  Iceland ছোট একটা দেশ অনেকে হয়তো এই দেশের নাম শুনেননি অথচ তারাই ইন্টারনেট ব্যবহারে এগিয়ে আছে। সমস্যা নেই আমারাও এগিয়ে জাচ্ছি, আমি তো ফেসবুকের নাম শুনেছিলাম কলেজে এসে কিন্তু এখন ক্লাস সিক্সের পলাপাইনও জানে এবং ফেসবুক ব্যবহার করে। 😀

৯) সবচেয়ে বেশি বই লেখকঃ

Philip M. Parker হলেন INSEAD নামের একটি বিজনেস স্কুলের একজন প্রফেসর। আমরা জানি বই লিখতে একটি টাইটেল লাগে, কি কি টপিক থাকবে তা লাগে,  একটা একক ISBN (International Standard Book Number) লাগে, কভার পেজ লাগে, বেক কভার লাগে আর কি! সবচেয়ে বড় কথা হল বই লিখতে জ্ঞান লাগে।

Philip M. Parker এখন পর্যন্ত প্রায় ২০০০০০ টি বই লিখেছেন। তিনি হলেন পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি বইয়ের লেখক।

এই বেক্তির এত কঠিন কাজকে সহজ করেছে কম্পিউটার এবং ইন্টারনেট। ভদ্রলোক গণিত, জীববিজ্ঞান এবং অর্থনীতিতে অনার্স করেছেন (আমারতো একটা নিয়েই টানাটানি :P) বই লিখা সহজ কোন কাজ না, বই হল মানুষের দিক নির্দেশনা আর সেটা যদি ভুল দিকে যায় তাহলে সব শেষ!

১০) ইন্টারনেটের ওজনঃ

ইন্টারনেটেরও আবার ওজন আছে? শুনলে মাথা ঘুরবে না তো কি করবে? তবে কথাটা সত্যি, এই ইন্টারনেট জগতের একটা সত্যিকারের ওজন আছে। আর সেই ইন্টারনেটের ওজনের পরিমাণ শুনলে তো আপনার মাথা আরো ঘুরবে 😛

ইন্টারনেটে যেসব তথ্য আছে তার ওজন 2.0 × 10-7 ounces

গনিতবিদ কোন ভাই থাকলে একটু সাড়া দেন, আমার মাথা লাঠিমের মতো ঘুরতাসে 😛 যাই হোক এই ওজনটা সম্পর্কে একটু ধারনা আমি দিয়ে দেই ১ আউন্স=২৮.৩৪৯৫ গ্রাম। আমার মতো এবারো অনেকেই ওজনের পরিমাণটা বুঝবেন না 😀 আমার মতো অংকে কাচা ব্যক্তিবর্গের জন্য বাংলা হিসাব দিলাম 😛

একটা ক্ষুদ্রতম বালির কণার ওজন যতটুকু হবে ততটুকু ওজন হল ইন্টারনেট নামের এই দৈত্যটার।

উপসংহারঃ

অনেকগুলো আশ্চর্য তথ্য দিলাম, এবার বোনাস হিসেবে আরেকটি আশ্চর্য এবং খুবী দুঃখের খবর জানাতে চাই।

ইন্টারনেটে যেসব সার্চ হয় তার তিন ভাগের একভাগ হল খারাপ ভিডিও/ছবি নিয়ে :(ধারনা করা হয়েছে, ইন্টারনেটে যত ছবি আছে তার ৮০ ভাগ হল উলঙ্গ মেয়েদের ছবি। :'(

@https://www.techtunes.io/tuner/mad-singer-sohag

যে সকল মহান ব্যক্তিদের কারনে আমরা পেয়েছি আজকের এই ফটোশপ এবং ফটোশপ এর ইতিহাস সহ পেছনের কিছু গল্প

গ্রাফিক ডিজাইনারগন মুলত তিনটি প্রোগ্রামেই তাদের ডিজাইন কাজটি করে থাকেন। তার মধ্যে এডবি ফটোশপ হলো ইমেজ এডিটিং এর জন্য পৃথিবীর সেরা প্রোগ্রাম। অন্যদিকে এডবি ইলাষ্ট্রেটর ভেক্টর ভিত্তিক ডিজাইনের জন্য, এডবি ইনডিজাইন প্রিন্টিং ও প্রেসের প্রজেক্টগুলোর কাজে খুব বেশি পরিমানে ব্যবহৃত হয়।

ছবি – Shutter Stock

আজ শুধুই এডবি ফটোশপের আলোচনা। ফটোশপকে আমরা সবাই অনেক ভালোবাসি কারন পেশাদার ডিজাইনার থেকে শুরু করে ফটোগ্রাফার এমনকি শখের বসে যারা ফটো এডিটিং করেন তারাও ফটোশপ দিয়েই তাদের কাজ করেন। ফটোশপের ব্যবহার অনেক সহজ, টুলস গুলো সুন্দরভাবে সাজানো এমনকি একটি ডিজাইনকে চমকপ্রদ করে তুলতে যা যা করা লাগে প্রায় সবকিছুই ফটোশপে রয়েছে। তাই ফটোশপ ডিজাইনার, ফটোগ্রাফারদের কাছে এত জনপ্রিয়।

কিন্তু বলতে কিছুটা খারাপ লাগলেও এটাই সত্য যে আমরা অনেকেই ফটোশপের উৎপত্তি থেকে শুরু করে আজকের অবস্থানে আসার ইতিহাস, কোন কোন মহান ব্যক্তিদের পরিশ্রমের ফসল হিসেবে ফটোশপ পেয়েছি তা জানিনা। আর এই অজানা বিষয়কে জানার জন্য আজকের লেখা। আলোচনার বিষয়টিকে আমরা ঘুরিয়ে এভাবেও বলতে পারি

“যে সকল মহান ব্যক্তিদের কারনে ফটোশপ পেয়েছি আমরা তাদের সম্মন্ধে বিস্তারিত জানব আমরা আজই”

কারা সেই মহান ব্যক্তি আসুন জেনে নেইঃ

Thomas knoll পেশায় একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। জন্ম আমেরিকার Michigan, গ্রেজুয়েশান শেষ করেন University of Michigan  থেকে। তার ভাই Jhon knoll যিনি পেশায় Visual effects supervisor. তাদের বাবা Glen knoll ছিলেন University of Michigan  এর একজন প্রফেসর।

সময়টা ১৯৮৭ সাল। তখন Thomas knoll একজন Phd student.  তিনি Macintosh Plus  এর জন্য একটি গ্রাফিক এপ্লিকেশন ডেভলপ করেন। এই এপ্লিকেশনটি এক কালারের পর্দায় সাদা-কালো ছবি শো করতে ব্যবহার হত। Knoll  এটির নাম দিয়েছিলেন Display. মূলত এই display এপ্লিকেশনটিকে Father of photoshop বলা যায়্।

Thomas knoll এর ভাই Jhon knoll প্রোগ্রামটি দেখলেন। Jhon knoll ফটোর প্রতি অতিমাত্রায় আগ্রহী ছিলেন। Jhon  তার ভাই Tom কে একটি ফটো এডিটিং প্রোগ্রাম বানানোর জন্য রাজি করালেন। তখন Thomas knoll তার চলমান শিক্ষা জীবন থেকে ৬ মাসের বিরতি নিয়ে তৈরি করেন ফটো এডিটিং প্রোগ্রাম যেটির নাম দিতে চেয়েছিলেন Image pro. কিন্তু কপিরাইট সংক্রান্ত জটিলতার কারনে সে নামের বদলে আমরা পেয়ে যাই ফটোশপের প্রথম ভার্সন ফটোশপ ০.৭। দুই ভাইকে একটু দেখে নেই-

Thomas Knoll

Jhon Knoll

ফটোশপের শুরু দিকের ভার্সনগুলোঃ

ফটোশপ ১.০

সেপ্টেম্বর ১৯৮৯ এডবি কর্পরেশন ফটোশপ প্রোগ্রামটি কিনে নেওয়ার পর এর ফিচার এ ব্যাপক পরিবর্তন আসে। ১ ফেব্রুয়ারী ১৯৯০ ডিজিটাল কালার এডিটিং ও ইমেজ রিটাচিং সহ ফটোশপ ১.০ ভার্সন রিলিজ হয়। SciTex এর মত উচ্চমানের ফ্ল্যাটফরমে ব্যবহারের জন্য এটি চালু হয় এবং সাধারন মানের একটি Photo retouching এর জন্য ৩০০ ডলার ব্যয় করতে হত তখন।

ফটোশপ ২.০

জুন ১, ১৯৯০ আর নতুন ফিচার যুক্ত করে ফটোশপ ভার্সন ২.০ রিলিজ করে। এই ভার্সনে যুক্ত করা হয় adding Paths, CMYK color and the Pen tool এর মত গুরুত্বপূর্ন ফিচারগুলো।

১৯৯০ সালের নভেম্বর মাসে সর্বপ্রথম উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমে চালানোর উপযোগী করে ফটোশপ ২.৫ রিলিজ করা হয়। এই ভার্সনেই ফটোশপে প্যালেট যুক্ত করা হয়।

১৯৯৪ সালে ফটোশপ ৩.০ রিলিজ হয়। এই ভার্সনে ফটোশপের লেয়ার প্যানেল যুক্ত করা হয়। এই লেয়ার যুক্ত হওয়ার ফলে ডিজাইনারদের কাজ অনেক সহজ হয়ে যায়। অনেক জটিল বিষয় সহজ হয়ে যায়। আসলে সবই সম্ভব হয়েছে Thomas Knoll এর জন্য।

ফটোশপ ৪.০

প্রায় দুই বছর পর ফটোশপের পরবর্তী ভার্সন ফটোশপ ৪.০ রিলিজ হয়। এই ভার্সনে যুক্ত করা হয় Adjustment layer ও  macro ফিচারদুটি। এছাড়াও ফটোশপের user interface  যুক্ত করা হয় এই ভার্সনে। একটু ভেবে দেখুন ডেভেলপারদের অক্লান্ত পরিশ্রম না থাকলে এ্কটি ইমেজে ওয়াটারমার্ক দিতে আমাদেরকে কতইনা কষ্ট করতে হত আজও।

ফটোশপ ৫.০

১ মে ১৯৯৮ ফটোশপের ভার্সন ৫.০ রিলিজ করা হয়। Editing type, Undo command, History panel, Magnetic lasso tool প্রভৃতি ফিচার চালু করা হয় এই ভার্সনে। ইমেজ এডিটিং এ কিছু বিষয় কত সহজ হয়ে গিয়েছে এই ভার্সনটি রিলিজ হওয়ার পর। এরপর মাত্র ১ বছর পর ফটোশপ ৫.৫ রিলিজ করা হয়। এই ভার্সনে Save for web  ফিচারটি যুক্ত করা হয়। আর এর সাথে সাথে PNG ফরমেট এ ইমেজ এক্সপোর্ট করার ব্যবস্থাও পেয়ে যায়।

ফটোশপ ৬.০

বিংশ শতাব্দীর একেবারে শেষপ্রান্তে ফটোশপ ৬.০ রিলিজ হয়। ভেক্টর শেপ, টাইপ টুল, ব্লেনডিং অপশান প্রভৃতি ফিচার যুক্ত করা হয় এই ভার্সনে। এই ভার্সনে টাইপ টুল হয়েছে আরও সহজ। চোখ ধাধাঁনো এফেক্ট দেওয়ার জন্য ব্লেনডিং মোড এই ভার্সনেই পরিপূর্নতা পায়।

ফটোশপ ৭.০

ফটোশপ ৬.০ রিলিজ হওয়ার ঠিক ২ বছর পর এ যাবত কালের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও বহুল ব্যবহৃত ভার্সন ফটোশপ ৭.০ রিলিজ হয়। খুব সহজে ফাইল ও ফোল্ডার ব্রাউজ করার জন্য ফাইল ব্রাউজার, ব্রাশ ও প্যাচ টুল যুক্ত হয় এই ভার্সনেই। ফটোশপের পূর্ন রুপ বলতে আমরা এই ভার্সনকেই বুঝি। আজও অনেক বড় বড় বিখ্যাত ডিজাইনগন ফটোশপ ৭.০ তে কাজ করেন।

ফটোশপ ‍ক্রিয়েটিভ স্টুডিও (সিএস ৮.০)

যেহেতু ফটোশপের ডেভলপমেন্ট একটি চলমান প্রক্রিয়া হিসেবে চলছে। ডেভেলপারগন অক্লান্ত পরিশ্রম করছে নিত্যনতুন ফিচার যোগ করার কাজে। ২০০৩ সালে ডিজাইনারদের প্রয়োজনীয় সবকিছু, গ্রাফিক ডিজাইনে লে-আউট ফিচার, ফটোগ্রাফির সবকিছু যুক্ত করে ফটোশপ রিলিজ করে ফটোশপ ৮.০ (সিএস)। Script, language, grouping of layer  প্রভৃতি ফিচার যুক্ত করা হয় এতে। যা কিনা এই প্রোগ্রামটির অন্য এক উচ্চতায় নিয়ে যায়।

ফটোশপ সিএস ২

২০০৫ সালে ফটোশপ সিএস ২ ভার্সন রিলিজ হয়। Red-eye removal tool, Vanishing point tool, Smart object এর মত ফিচার নিয়ে আসে এই ভার্সনে যার সাহায্যে ফটোশপের এডিটিং হয়ে উঠে কোন ধরনের Quality লস করা ছাড়াই। সত্যিই ধন্যবাদ দিতে হয় ডেভেলপার টিমের প্রত্যেকটি সদস্যকে।

ফটোশপ সিএস ৩.০

২০০৭ সালে ফটোশপ সিএস ৩.০ রিলিজ হওয়ার পর এই সফটাও্য়্যারে আমরা বৈপ্লবিক পরিবর্ফতন দেখতে পাই। টূলস এ ব্যাপক পরিবর্তন আসে। এর নেভিগেশান প্রক্রিয়া ফটোশপে কাজ করাকে আর দ্রুততর করে তোলে। ক্যামেরা র ও কুইক সিলেকশান টুলের মত চমতকার বিষয়গুলো যুক্ত হয় এই ভার্সনে।

ফটোশপ সিএস ৪

২০০৮ সালে ফটোশপের নতুন ভার্সন সিএস ৪ আসে। Panning, Zooming, Masking, Adjustment panel ফিচারগুলোকে আধুনিক করে ডিজাইনার কাজকে আরও দ্রুতগতির ও আর চমকপ্রদ করার বিভিন্ন কমান্ড আসে এই ভার্সনে।

ফটোশপ সিএস ৫

২০১০ সালে ফটোশপ সিএস ৫ রিলিজ হয়। এই ভার্সনে যুক্ত হয় Puppet Warp Tool, Bristle tips, Mixer Brush and Automatic Lens correction প্রভৃতি ফিচারগুলো। Masking ফিচারটিকে আরও আধুনিক করা হয় এই ভার্সনে।

ফটোশপ সিএস ৬

মে ৭, ২০১২ বহুল প্রতিক্ষিত ফটোশপ সিএস ৬ রিলিজ হয়। এই ভার্সনে সম্পূর্ন নতুন একটি ইউজার ইন্টারফেস আমরা পেলাম। যাতে নিজেদের সুবিধা মত কালার এডজাস্ট করা সম্ভব। Auto saving, patch tool, move tool, blur gallery, vector shape with dash and dotted stroke প্রভৃতি নতুনভাবে সংযোজন করা হয়েছে। অর্থাৎ ফটোশপকে পরিপূর্ন করার যা প্রয়োজন সবই করা হয়েছে এই ভার্সনে। ভিডিও, এনিমেশন তৈরি করা অনেক সহজ হয়েছে এই ভার্সন আসার পর।

ফটোশপ Creative Cloud (সিসি)

ফটোশপ সিএস ৬ এর মজা পুরোপুরি নিতে পারলামনা। ঝড়ের বেগে রিলিজ হয়ে গেল ফটোশপের একেবারে লেটেস্ট ভার্সন Photoshop creative cloud (CC). এটি মূলত আসে সফটওয়্যার পাইরেসি কমানোর লক্ষ্যে যাতে করে এডবি কোম্পানি তাদের খরছটা কমাতে পারে। যে কারনে তারা ব্যবহারকারীদের জন্য কিছু অর্থ এর বিনিময়ে এটি এডবি থেকে ব্যবহার করার সুযোগ/সেবাটি রেখেছে।

Smart sharpen ও Camera sharp reduction এর মত অবিস্বাশ্য কিছু ফিচার যোগ করা হয়েছে এই ভার্সনে।

উপরের আলোচনা থেকে আমরা যদি একটু পিছন ফিরে তাকাই তাহলে দেখব Thomas Knoll ও Jhon Knoll ভাইদ্বয়ের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় Display দিয়ে যা শুরু হয়েছিল তার আধুনিক সংস্করন হলো বর্তমান ফটোশপ সিসি। বর্তমান ভার্সনটি দিয়েই গ্রাফিক ডিজাইন, ওয়েব ডিজাইনের প্রয়োজনীয় কাজ, ভিডিও এডিটিং, সীমিত এনিমেশন প্রভৃতি খুব সহজেই করা সম্ভব। এডবি কোম্পানির ডেভেলপার গন যে ভ্রত নিয়ে  সামনে এগিয়ে যাচ্ছে তাতে আমরা ভবিষ্যতে ফটোশপকে অন্য ভুমিকায় আর অত্যাধুনিক চেহারায় দেখলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবেনা। আমরা সবাই সে অপেক্ষায় থাকি এবং বর্তমান পর্যায়ে যতটুকু পেয়েছি তার সুধা পান করি।

“আমরা সবাই ফটোশপ ভালোবাসি”

আপনার জন্য অনলাইন ফটো এডিটর

আমার মনে হয় সেই দিন আর বেশি দুরে না যখন বেশিরভাগ মানুষই ওয়েব বেসড্ অ্যাপ্লিকেশনের (Web Based Application) ফ্যান হয়ে পরবে। ওয়েব বেসড্ অ্যাপ্লিকেশনের সবচেয়ে বড় সুবিধা হল আপনি যে কোন পিসি থেকে রান করতে পারবেন (সাধারনত ব্রাউজারে)। আর বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আপনি আপনার কাজ অনলাইনেও সেভ করতে পারবেন। এড়াতে পারবেন ডেস্কটপ বেসড্ অ্যাপ্লিকেশানের ইন্সটল করার মত ঝামেলাকে এড়াতে পারবেন এবং আবার ওয়েব সার্ভিসের সাথেও ইন্টারকানেক্টেড থাকতে পারবেন। নিচে আপনাদের কাছে কয়েকটি জনপ্রিয় ইমেজ এডিটর কে তুলে ধরালাম –

পিক্সএলআর

এটি খুবই জনপ্রিয় ফ্ল্যাশবেসড্ ইমেজ এডিটর যার জিআইইউ অনেকটা অ্যাডোবির ফটোশপের মতই। Pixlr API যার ডেভেলপিং এখনও চলছে, এর মাধ্যমে আপনার ব্লগের, ওয়েবসাইট অথবা ওয়েব অ্যাপ্লিকেশানের সাথে পিক্সএলআরের এর একটি ইন্টারকানেকশান তৈরী করতে পারবেন। এর স্মার্ট ওয়্যান্ড টুলের সাহায্যে আপনি সহজেই সদৃশ্যমান এবং বৈশাদৃশ্যমান পিক্সেলকে অটোম্যাটিকালি সিলেক্ট করতে পারবেন (ঠিক ফটোশপের ম্যাজিক ওয়্যান্ড টুলের মত)।

pixer.us

আপনি যদি সিম্পল কোন ওয়েব বেসড্ ইমেজ এডটিং টুলের সন্ধানে থেকে থাকেন তাহলে এই টুলটি আপনার জন্যে সুইটেবল হতে পারে। এর ইন্টারফসটি খুবই সিম্পল এবং এতে আছে ইউজফুল ফটো এডিটিং ফিচার যেমন – ক্রপিং, রিসাইজিং এবং রোটেটিং। এর আরো আছে কালার অ্যাডজাস্টমেন্ট অপশন  – স্যাচিউরেশন, ব্রাইটনেস এবং কন্ট্রাস্ট অ্যাডজাষ্টমেন্ট। আপনি চাইলে আপনার কাজ PNG, JPG, GIF, অথবা BMP ফরম্যাটে সেভ করতে পারবেন।

ফটোফ্লেক্সার

ফটোফ্লেক্সার এর ফিচারের ছড়াছড়ি থাকলেও এটা ব্যবহার করা কিন্তু খুবই সিম্পল। আপনি চাইলে ফটোফ্লেক্সার এর ডেমো পজেটি দেখতে পারেন। এতে আপনি ইন্সট্যান্টলি কিছুটা হলেও এই টুলের ব্যাপারে অনেকটা আইডিয়া পাবেন। এতেও আপনি পাচ্ছেন সকল কমন ফটো এডিটিং ফিচার। এটিও ফ্লিকার, পিকাসা, ফটোবাকেট, ফেসবুক, মাইস্পেস এর সাথেও ইন্টিগ্রটেড।

স্যুমো পেইন্ট

এটি আপনাকে ইমেজ ক্রিয়েট এবং এডিটিং এর এনভাইরোমেন্ট করে দিয়েছে। ইউনিক শেপ ড্র করার জন্যে আছে এর শেপ ড্রয়িং টুল। হাই কোয়ালিটির ব্রাশের সেট, স্কেল সেট করার জন্যে ট্রান্সফর্ম টুল এবং আরো কয়েকটি ফিচার।
আশা করি আপনাদের ভালো লাগবে।


Post navigation