নেটিসের নতুন ৫ টি মডেলের রাউটার বাজারে

নেটিস ব্রান্ডের নতুন চমকপ্রদ ৫ টি মডেলের রাউটার বাজারে নিয়ে এসেছে স্মার্ট টেকনোলজিস (বিডি) লি:। ২০ অক্টোবর ২০২১ তারিখে মৌলভীবাজারের দুসাই রিসোর্টে আয়োজিত ‘কানেক্টিং ফর সাকসেস’ শীর্ষক জমকালো লঞ্চিং অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পন্যগুলোকে উন্মুক্ত করা হয়। মডেলগুলো হচ্ছে এন৩, এমডাব্লিউ ৫৩৬০, এন৩ডি, এন৬ এবং মেস এম ৬।

এন৩: এই রাউটারটিতে রয়েছে ডুয়াল ব্যান্ড টেকনোলোজি এবং এর প্রত্যেকটি পোট গিগাবিট হওয়ায় আপনি পাবেন ১০০০ এম্বিপিএস ডেটা ট্রান্সফার স্পিড । এন৩ রাউটারটি দিয়ে বেটার পারফরমেন্স নিশ্চিত করতে এতে ব্যবহার করা হয়েছে ১ গিগাহার্জ এর চিপসেট । ফুল কভারেজ নিশ্চিত করতে রাউটারটিতে ব্যবহার করা হয়েছে সর্বমোট ৪ টি ফিক্সড ৫ ডিবিআই এক্সটারনাল হাই গেইন অ্যান্টনা ।
এমডাব্লিউ ৫৩৬০: যে সব এলাকায় ব্রডব্যান্ড কানেকশন নেই সেই এলাকায় ইন্টারনেট ব্যবহার উপোযোগী নেটিস ব্রান্ডের নতুন ৪জি এলটিই তথা ইউনিভার্সাল সিম সাপোর্টেট রাউটারটির মডেলটি হলো এমডাব্লিউ ৫৩৬০ । এতে ইনবিল্ট ৫ ডিবিআই হাই গেইন ২টি অ্যান্টেনা রয়েছে । সেই সাথে বক্সে রয়েছে আরো ২টি ডিটাচেবল ৪জি অ্যান্টেনা । সিম কার্ড কনফিগার করা ছাড়াই প্লাগ এন্ড প্লে মাধ্যমে আপনি এই রাউটারটি দিয়ে ইন্টরনেট ব্যবহার করতে পারবেন । শুধু কি তাই আপনি চাইলে ব্রডব্যান্ড লাইনও ব্যবহার করতে পারবেন অনায়াসে।

এন৩ডি: ডুয়াল ব্যান্ড টেকনোলোজি সেই সাথে এসি ১২০০ সিরিজের সেটিস ব্রান্ডের নতুন রাউটাটির মডেল এন৩ডি । বেটার পারফরমেন্স নিশ্চিত করতে এতে ব্যবহার করা হয়েছে বিল্ট ইন সিগন্যাল অ্যাম্পিলিফায়ার সেই সাথে ১ গিগাহার্জ এর চিপসেট । সর্বমোট ৪ টি ফিক্সড ৫ ডিবিআই এক্সটারনাল হাই গেইন অ্যান্টনা ব্যবহার করা হয়েছে ফুল কভারেজ নিশ্চিত করার জন্য। রাউটারটিতে সর্বমোট তিনটি ল্যান পোট রয়েছে , ফলে আপনি ডেস্কটপ পিসি , প্রিন্টার সহ নানাবিধ ডিভাইস কানেক্ট করতে পারবেন।

এন৬: নেটিস ব্রান্ডের নতুন এই রাউটারটি এএক্স সিরিজ হওয়ায় এতে ষষ্ঠ প্রজন্মের প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে । ডুয়াল ব্যান্ডের এই রাউটারটি আপনাকে দিবে ৫ গিগাহার্জ এর ক্ষেত্রে ১২০১ এম্বিপিএস এবং ২.৪ গিগাহার্জ এর ক্ষেত্রে ৫৭৪ এম্বিপিএস ব্যান্ডউউথ । ৮৮০ হার্জ এর ডুয়াল কোর চিপসেট, ২৫৬ মেগাবাইট ডিডিআর৩ র্যাম ব্যবহার করায় আপনি পাবেন দূর্দান্ত পারফরমেন্স । এই রাউটারটি মেস নেটওয়ার্ক টেকনোলোজি সমর্থন করে । যার ফলে আপনি খুব সহজেই উচ্চ গতির ওয়্যারলেস নেটওয়ার্ক তৈরি করতে পারেন।

মেস এম ৬: মেস নেটওয়ার্ক সম্বলিত নেটিস ব্রান্ডের নতুন রাউটার মেস এম ৬ । ১৮০০ এম্বিপিএস এর এই রাউটারটিতে রয়েছে গিগাবিট ইথারনেট পোট। এছারা ওয়েভ ২ – মু-মিমো / বিম ফোর্মিং সহ থাকছে নানাবিধ সুবিধা । ডুয়াল ব্রান্ডের এই রাউটারটি দিয়ে ৫ গিগাহার্জে ১২০১ এমবিপিএস এবং ২.৪ গিগাহার্জে পাবেন ৫৭৪ এমবিপিএস ব্যান্ডউউথ ।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্মার্ট টেকনোলজিস এর ডিসট্রিবিউশন বিজনেস ডিরেক্টর জাফর আহমেদ, চ্যানেল সেলস ডিরেক্টর মুজাহিদ আলবেরুনী সুজন, নেটিস প্রোডাক্ট ম্যানেজার মাসুদ রানা, ন্যাশনাল সেলস ম্যানেজার একেএম ফাহিম এবং হেড অব কমিউনিকেশনস মাহফুজুর রহমান মুকুল সহ সারাদেশ থেকে আগত পার্টনারবৃন্দ।

গ্রাহক না কমলেও কমেছে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট-ঘনত্ব

সে দেশে টেলিডেনসিটি সামান্য বাড়লেও দশমিক এক শতাংশ কমেছে ফ্রিক্সড ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের প্রসার। জুলাইয়ে দেশে ভয়েস ও ইন্টারনেট গ্রাহক মিলিয়ে টেলিঘনত্ব ছিলো ১০৩ দশমিক ৭৪ শতাংশ। মাস ব্যবাধানে এই হারটা বেড়েছে দশমিক ৫ শতাংশ।

বিটিআরসি’র তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ের টেলিঘনত্বের হার মোবাইল ইন্টারনেটে ৬৬ দশমিক ১৬ এবং ফ্রিক্সড ব্রডব্যান্ডে ছিলো ৫ দশমিক ৮৫ শতাংশ।

এক মাস আগে জুনে এই হার ছিলো ৬৪ দশমিক ৬৭ এবং ৫ দশমিক ৮৬ শতাংশ। ওই মাসে দেশে মোট ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিলো ১২ কোটি ৯ লাখ ৫ হাজার। এর মধ্যে মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ছিলো ১১ কোটি ৯ লাখ।

তবে জুলাইয়ে এসে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ৩৭ লাখে। এর মধ্যে মোবাইল ইন্টারনেট ছিলো ১১ কোটি ৩৬ লাখ।

তবে ব্রডব্যান্ড গ্রাহকের সংখ্যা যথারীতি আগের মাসের মতোই ১ কোটি ৫০ হাজারের অংকে আটকে থেকেছে। কিন্তু কমেছে ইন্টারনেটের টেলিঘনত্ব।

অবশ্য মোবাইল ফোন ব্যবহারকারি ৫ লাখের কিছু বেড়ে পৌঁছেছে ১৭ কোটি ৬৯ লাখ ৪০ হাজারে। এরমধ্যে রবি নতুন করে ৩০ হাজার গ্রাহক হারালেও বাংলালিংককে টপকে রাষ্ট্রায়ত্ব অপারেটর টেলিটকের গ্রাহক বেড়েছে এক লাখ ১০ হাজার। শীর্ষ অপারেটর গ্রামীণফোনের গ্রাহক বেড়েছে সাড়ে চার লাখ। বাংলালিংকের বেড়েছে ১০ হাজার।

‘মোবাইল-নেশা থেকে শিশু কিশোরদের বাঁচাতে হবে’

জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের মহাপরিচালক মোহাম্মাদ মুনীর চৌধুরী বলেছেন, “শিশু কিশোরদের জন্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষাকে এসব আনন্দদায়ক ও আকর্ষণীয় করতে হবে, যেন তারা মোবাইল ও ইন্টারনেটের ধ্বংসাত্মক নেশা থেকে বাঁচতে পারে। বিজ্ঞান শিক্ষা যেন মুখস্ত নির্ভর কিংবা পাঠ্য বইয়ের মধ্যে আবদ্ধ না থাকে। সরকার বিজ্ঞান শিক্ষার জন্য শত শত কোটি টাকা ব্যয় করলেও তার সুফল আমরা দিতে পারছি না।

তিনি আরো বলেন, শুধু সার্টিফিকেট অর্জন না করে জ্ঞান-বিজ্ঞানকে প্রযুক্তির উৎকর্ষতায় কাজে লাগাতে পারলে তা দিয়ে বাংলাদেশের বহু সমস্যার সমাধান সম্ভব। এক মহৎ উদ্দেশ্যে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর প্রতিনিয়ত বিজ্ঞান বক্তৃতা, কুইজ, বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবনসহ নানা কর্মসূচির মাধ্যমে শিশু কিশোরদের সুপ্ত প্রতিভাকে বিকশিত করার অবিরাম প্রচেষ্টায় নিয়োজিত। সারা দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর বিজ্ঞান কর্মসূচিতে সম্পৃক্ত করছে এবং আর্থিক ও বৈষয়িক সাহায্য প্রদান করছে। জীবনের মূল্যবান সময়কে কোনোভাবেই নষ্ট করা যাবেনা। প্রতিটি মুহূর্ত স্রষ্টার সৃষ্টিকে অনুধাবন ও অনুসন্ধান করে বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবনের মাধ্যমে পৃথিবীর মানুষের জীবনমান উন্নয়নে এবং সমস্যা সমাধানে কাজে লাগাতে হবে।”

গত ২১ অক্টোবর এবং ২৩ অক্টোবর চট্টগ্রাম সেন্ট প্ল্যাসিডস হাই স্কুল এন্ড কলেজ, শাহ ওয়ালীউল্লাহ ইনস্টিটিউট এবং রিসার্চ ল্যাব চট্টগ্রামের শিক্ষার্থী ও তরুণ বিজ্ঞানীদের সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। এসব অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বিজ্ঞান ক্লাবকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উন্নয়ন ট্রাস্ট থেকে বিজ্ঞান সামগ্রী ক্রয় করার জন্য মোট ৩ (তিন) লক্ষ টাকার চেক হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ও প্রধান শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন।

সুত্র- digibanglatech

উইন্ডোজ ১১ এ চলবে না ব্লুস্ট্যাক্স, কী করবেন ইমুলেটর গেমাররা?

উইন্ডোজ ১১ এর ঘোষণা ইতমধ্যেই দিয়ে দিয়েছে মাইক্রোসফট। আর নতুন উইন্ডোজ এ বেশ কিছু ফিচার যুক্ত করা হয়েছে এবং বেশ কিছু ফিচার বাদ দেওয়া হয়েছে। যার অনেকটাই অনেক ক্ষেত্রে ভাল প্রভাব ফেলবে। যেসকল ফিচার বাদ দেওয়া হয়েছে সেগুলোর মধ্যে একটি হলো, ইমুলেটর আর চালানো যাবে না উইন্ডোজ ১১ তে। তবে চলুন জেনে নেই এর কিছু ভাল দিক এবং খারাপ দিক।

সবার আগে চলুন জেনে নেই যে উইন্ডোজ ১১ তে ইমুলেটর ব্যবহার ব্যান করা হয়েছে কেন? এর পেছনে বেশ কিছু কারণ আছে। যেগুলো একে একে আপনাদের সামনে তুলে ধরছি। আমরা যারা ইমুলেটর ব্যবহার করে গেমিং করে থাকি, আমরা গেমিং এর সময় বেশ কিছু সুবিধা পেয়ে থাকি। যেমন আমরা অনেক সময়েই ম্যাক্রো ব্যবহার করে থাকি। আবার আমরা অনেক সময় এক্সটার্নাল ফাইল দিয়ে হ্যাক বা গ্লিচ ফাইল ব্যবহার করে থাকি। যার ফলে যখন আমরা চিট করছি বলে রিপোর্ট করা হয় তখন গেমের কর্পরেশান চেষ্টা করেও আমাদের এই ফাইলগুলো খুজে পায় না। কেননা যখন আমরা ইমুলেটর ব্যবহার করি তখন ইমুলেটর থেকে আমাদের মেইন সিস্টেমের ফাইল দেখা যায় না। যতই সেটা সেই ইমুলেটরের সিস্টেম ফাইল হোক না কেন। আর একারণেই আমাদের ইমুলেটর ব্যবহার করার সুজোগ উইন্ডোজ ১১ তে আর থাকছে না।

যদি আমরা ইমুলেটর ব্যবহার করতে না পারি তাহলে আমাদের সবথেকে বড় সমস্যা যেটা মনে হতে পারে সেটা হলো যে আমরা আর কখনো ফোনের গেম আমাদের কম্পিউটারে খেলতে পারব না। তবে যদি আমরা একটু উইন্ডোজ ১১ এর নতুন ফিচার দেখি তাহলে দেখতে পাব যে আমরা উইন্ডোজ ১১ তে যেকোন অ্যান্ড্রোইড অ্যাপ্লিকেশান ব্যবহার করতে পারব। এতে আমরা বেশ কিছু সুবিধা পাব।

প্রথমত আমাদের ইমুলেটর ব্যবহার করতে হবে না আর আমরা সরাসরি উইন্ডোজ এই গেমগুলো খেলতে পারব তাই এখানে কোন থার্ড পার্টি থাকছে না। তাই আমাদের গেমিং এক্সপেরিয়েন্স ইমুলেটরের চাইতে ভাল হবে কেননা ইমুলেটর অতিরিক্ত মেমরি ও সিপিউ এবং জিপিউ দখল করে থাকে। যখন আমরা ইমুলেটর ব্যবহার করব না তখন ইমুলেটরের দখল করা মেমরি ও কোর আমরা চাইলে আমাদের গেমে বা অন্য কোন অ্যাপ্লিকেশান এ ব্যবহার করতে পারব।

আর সবথেকে বড় যে সুবিধা আমরা পাব সেটা হলো আমরা হয়ত ই-স্পোর্টসে খেলার সুজোগ পেতে পারি। আপনি যদি এই লেখার প্রথম অংশ পড়ে থাকেন তাহলে আপনি জেনেই গেছেন যে আসলে এর কী কী সমস্যা আছে। আর এইসকল খারাপ দিকের কারণে মোবাইল ফোনের যেসকল গেমের ই-স্পোর্টস হয়ে থাকে সেসকল গেম গুলোর ই-স্পোর্টস পিসি প্লেয়ার তথা ইমুলেটর প্লেয়াররা খেলতে পারে না। যখন আমরা সরাসরি অ্যান্ড্রোইডের গেমগুলো আমাদের উইন্ডোজ সিস্টেমে খেলতে পারব তখন আমাদের চিট করার কোন উপায় থাকবে না। তখন হয়ত আমাদেরও ই-স্পোর্ট খেলার সুজোগ থাকবে।

তো এই ছিল ইমুলেটর ব্যান হওয়ার কারণ ও প্রভাব। আপনার যদি লেখাটি ভাল লেগে থাকে তাহলে নিজের ফেসবুক বা অন্য যেকোন সামাজিক প্ল্যাটফর্মে শেয়ার করুন। আর আমাদের সাথেই থাকুন।

গুগল মিটে ফ্রিতে ১ ঘণ্টা মিটিং করা যাবে

গুগল মিটে এখন থেকে বিনা মূল্যে ৬০ মিনিট বা ১ ঘণ্টা পর্যন্ত ভিডিও কলের সুবিধা পাওয়া যাবে।

গুগল বলছে, ভিডিও কলে ৫৫ মিনিট হয়ে যাওয়ার পর অংশগ্রহণকারীদের কাছে একটি নোটিফিকেশন যাবে। ভিডিও কলের সময়সীমা বাড়ানোর জন্য যিনি ভিডিও কলের হোস্ট তাকে জিমেইল অ্যাকাউন্টটি নতুন ভার্সনে আপডেট করতে হবে। তবে যেকোনো ফ্রি এবং পেইড জিমেইল ব্যবহারকারী ওয়ান-অন-ওয়ান ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত গুগল মিটে ভিডিও কলের সুবিধা পাবেন।

স্মার্টফোনের স্ক্রিন প্রটেক্টর: বাঁচায়তো না, উল্টো ক্ষতি করে!

বেশিরভাগ স্মার্টফোন ব্যবহারকারী নিজের ফোনকে সুরক্ষিত রাখতে ফোনের উপর স্ক্রিন গার্ড বা স্ক্রিন প্রটেক্টর লাগান। তবে অনেকেরই জানা নেই, থার্ড পার্টি স্ক্রিন গার্ড ব্যবহার করলে তা ফোনকে সুরক্ষিত রাখাতো দূর, তার ক্ষতিই বেশি করে!

সম্প্রতি প্রকাশিত এক রিপোর্টের বরাতে জেএসনিউজ টাইমস জানায়- স্মার্টফোনের স্ক্রিনের তলায় দুটি সেন্সর থাকে যেগুলোর নাম অ্যাম্বিয়েন্ট লাইট এবং প্রক্সিমিটি। বাইরে গেলে রোদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে স্ক্রিনের ব্রাইটনেস স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাড়ে বা কমে এই অ্যাম্বিয়েন্ট লাইট সেন্সরের সাহায্যে। বেশি রোদে বের হলে স্ক্রিন বেশি উজ্জল হয় যাতে সবকিছু ঠিকভাবে দেখা যায়। কম উজ্জ্বল স্থানে স্ক্রিনের ব্রাইটনেস স্বয়ংক্রিয়ভাবে কমিয়ে দেয় এই সেন্সর। অন্যদিকে, লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, কানে ফোন লাগিয়ে কথা বলার সময় স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্ক্রিনের লাইট নিভে যায়। কানের সঙ্গে দূরত্ব বুঝে এই লাইট জ্বলে বা নেভে। এই কাজটি করে প্রক্সিমিটি সেন্সর।

অ্যাম্বিয়েন্ট লাইট বা প্রক্সিমিটি ফোনের বাইরে থেকে দেখা যায় না।

তবে ফোনের কার্যক্রমে এদের অতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু, স্ক্রিন-গার্ড লাগালে এ দুটি সেন্সর গার্ড হয়ে যায়। যার কারণে অনেক সময় স্ক্রিনের ‘টাচ’ কাজ করে না। তাছাড়া থার্ড পার্টি স্ক্রিন গার্ড ব্যবহারের ফলে অনেক ক্ষেত্রেই ইন-ডিসপ্লে ফিংগারপ্রিন্ট সেন্সরও কাজ করা বন্ধ করে দেয়।

এ কারণে বিশেষজ্ঞদের মত, স্ক্রিন গার্ড যদি একান্তই লাগাতে হয় তাহলে কোনও ব্র্যান্ডেড স্ক্রিন প্রটেক্টর ব্যবহার করা উচিত। সবচেয়ে ভালো হয়, যে কোম্পানির ফোন, সেই কোম্পানির স্ক্রিন গার্ড ব্যবহার করতে পারলে। সেক্ষেত্রে স্ক্রিন গার্ড সেভাবেই তৈরি হয় যাতে সেন্সর কোনভাবে আটকে না যায়। তাতে ফোনেরও ক্ষতি হয় না।

ইভ্যালির সদস্যপদ স্থগিত করছে ই-ক্যাব

ই-ক্যাবের চিঠিতে ই-কমার্স ব্যবসার নামে গ্রাহকদের অর্থ আত্মসাত, মার্চেন্টদের কাছ থেকে পাওয়া বিভিন্ন অভিযোগ, বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন প্রতিবেদনে উল্লেখিত বিভিন্ন অনিয়ম তুলে ধরে ইভ্যালির বিরুদ্ধে সম্ভাবনাময় ই-কমার্সখাতে অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগ আনা হয়েছে।

গ্রাহক ও মার্চেন্টদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে ইভ্যালি ডট কমের সদস্যপদ স্থগিত করার উদ্যোগ নিয়েছে ই-কমার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব)। 

বাংলাদেশ ব্যাংকের ইন্সপেকশন রিপোর্টসহ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, বিভিন্ন ক্রেতা ও মার্চেন্টদের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়ার প্রেক্ষিতে ‘সদস্যপদ কেন স্থগিত করা হবে না’ তার জবাব চেয়ে বুধবার ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাসেলকে চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে জানিয়েছেন ই-ক্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ শাহাব উদ্দিন। 

তিনি বলেন, ‘বুধবার রেজিস্ট্রি ডাকযোগে পাঠানো চিঠি পাঠিয়েছি। চিঠি পাওয়ার সাত কর্মদিবসের মধ্যে ইভ্যালিকে জবাব দিতে বলা হয়েছে। মূলত ইভ্যালির সদস্যপদ স্থগিত করার জন্য ই-ক্যাবের গঠনতন্ত্রের ৯(ডি) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী শোকজ লেটার পাঠানো হয়েছে।’

চিঠিতে ই-কমার্স ব্যবসার নামে গ্রাহকদের অর্থ আত্মসাত, মার্চেন্টদের কাছ থেকে পাওয়া বিভিন্ন অভিযোগ, বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন প্রতিবেদনে উল্লেখিত বিভিন্ন অনিয়ম তুলে ধরে ইভ্যালির বিরুদ্ধে সম্ভাবনাময় ই-কমার্সখাতে অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগ আনা হয়েছে।

ইভ্যালি ছাড়াও গ্লিটার্স আরএসডি ওয়ার্ল্ড, গ্রীন বাংলা ই-কমার্স লিমিটেড, এ্যানেক্স ওয়ার্ল্ড ওয়াইড লিমিটেড, আমার বাজার লিমিটেড, এক্সিলেন্ট ওয়ার্ল্ড এ্যাগ্রো ফুড এন্ড কনজ্যুমারস লিমিটেডকে শোকজ লেটার পাঠিয়েছে ই-ক্যাব।

আরও বেশকিছু কোম্পানিকে শোকজ লেটার পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।

সংগঠনটির গঠনতন্ত্রে সদস্যপদ স্থগিত বা বাতিল করার আগে ব্যাখ্যা চাওয়ার বিধান থাকায় এ চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে জানান ই-ক্যাব কর্মকর্তারা।

সাহাব উদ্দিন জানান, ব্র্যাক ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংক যে ১০টি কোম্পানির সঙ্গে তাদের ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডের লেনদেন স্থগিত করেছে, ওই ১০ কোম্পানির মধ্যে যারা ইক্যাবের সদস্য রয়েছে, তাদের সবাইকে শোকজ লেটার পাঠানো হচ্ছে। মূলত ই-কমার্স সেক্টরের সম্ভাবনা কাজে লাগানো ও গ্রাহক আস্থা বাড়াতেই এমএলএম পদ্ধতিতে পরিচালিত কোম্পানিগুলোর সদস্যপদ স্থগিত করা হবে। 

ই-ক্যাবের ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ‘ইভ্যালিসহ বেশকিছু কোম্পানি যেভাবে নতুন গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে পুরনো গ্রাহকদের পণ্য বা রিফান্ড দিচ্ছে তা কোনমতেই ই-কমার্স বিজনেস নয়।’

তিনি বলেন, ‘ইভ্যালি গ্রাহকদের কাছ থেকে অগ্রিম ২১৫ কোটি টাকা নিয়ে পণ্য দেয়নি, আবার মার্চেন্টদের কাছ থেকে বাকিতে পণ্য এনেছে ১৯০ কোটি টাকার। গ্রাহকদের কাছ থেকে অগ্রিম মূল্য নেওয়ার পরও মার্চেন্টদের কাছে বকেয়া থাকার কথা নয়। এখন তারা গ্রাহক বা মার্চেন্ট কারও পাওনাই পরিশোধে করতে পারছে না। তাহলে এসব অর্থ গেল কোথায়?’

ইভ্যালিসহ বিভিন্ন কোম্পানির এ ধরণের কর্মকান্ডের কারণে সার্বিকভাবে ই-কমার্সখাতের উপর গ্রাহকদের আস্থা কমে গেছে। যারা নিয়ম মেনে ব্যবসা করছেন, তারাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। ই-ক্যাবের অনেক সদস্যও কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে সংগঠনের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের কাছে অভিযোগ জমা দিয়েছেন। তাই এখাতের ভাবমূর্তি রক্ষায় এমএলএম পদ্ধতিতে ব্যবসারত সদস্য কোম্পানিগুলোর সদস্যপদ স্থগিত ও পরে বাতিল করা হবে।

ই-ক্যাবের সদস্য সংখ্যা প্রায় ১১০০, যার মধ্যে ১৪টি বড় কোম্পানি ই-কমার্সের নামে এমএলএম ব্যবসা পরিচালনা করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এর মধ্যে ইভ্যালির ব্যাংক হিসাবের তথ্য রয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে। আরও ১১টি কোম্পানি- আলেশা মার্ট, ধামাকা শপ, সিরাজগঞ্জ শপ, আলাদিনের প্রদীপ, বুম বুম, আদিয়ান মার্ট, নিডস, কিউকম, দালাল প্লাস, ইঅরেঞ্জ এবং বাজাজ কালেকশন এর ব্যাংক হিসাব তলব করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।  

ইভ্যালির উপর বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন প্রতিবেদনের তথ্য নিয়ে গত ২২ জুন দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড সংবাদ প্রকাশের পর ব্র্যাক ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়াসহ বেসরকারিখাতের বিভিন্ন ব্যাংক ইভ্যালি, আলেশা মার্ট, ধামাকা শপ, সিরাজগঞ্জ শপ, আলাদিনের প্রদীপ, বুম বুম, আদিয়ান মার্ট, নিডস, কিউকম ও ইঅরেঞ্জ এর সঙ্গে ডেবিট, ক্রেডিট ও প্রিপেইড কার্ডে লেনদেন স্থগিত করেছে। 

অন্যদিকে, গিফট ভাউচারে পণ্য বিক্রির পর পাওনা টাকা না দেওয়ায় ইভ্যালির গিফট ভাউচার গ্রহণ করা স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে ট্রেন্ডজ, রঙ বাংলাদেশ, আর্টিসান আউটফিটার্স, ফিট এলিগ্যান্স এবং রিও ইন্টারন্যাশনাল সহ বিভিন্ন জনপ্রিয় ব্র্যান্ড। 

ইভ্যালির কার্যালয় বন্ধ, হটলাইনেও সাড়া মিলছে না

সুত্র- প্রথম আলো

ই–কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির সঙ্গে একে একে সম্পর্ক ছিন্ন করছে পণ্য সরবরাহকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান (মার্চেন্ট)। গত দুই দিনে এসব প্রতিষ্ঠান তাদের গ্রাহকদের খুদে বার্তার মাধ্যমে জানিয়ে দিচ্ছে, ইভ্যালির দেওয়া ভাউচারে তারা আর পণ্য সরবরাহ করবে না। কারণ, তারা ইভ্যালির কাছ থেকে পণ্যের দাম পাচ্ছে না।

রঙ বাংলাদেশের পর পোশাকের ব্র্যান্ড জেন্টল পার্ক, ট্রেন্ডস, আর্টিসানসহ আরও বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির ভাউচারে পণ্য সরবরাহ না করার কথা তাদের গ্রাহকদের জানিয়েছে। এদিকে পণ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের বকেয়া টাকার জন্য ইভ্যালির কার্যালয়ে ভিড় করছে। পাশাপাশি পণ্য ও অর্থ ফেরত না পাওয়া গ্রাহকেরাও রাজধানীর ধানমন্ডিতে ইভ্যালির কার্যালয়ে ভিড় শুরু করেছেন। তবে ইভ্যালির কার্যালয়টি বন্ধ রয়েছে। হটলাইন নম্বরেও ফোন করে কাউকে পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন গ্রাহকেরা।

এদিকে ইভ্যালিসহ ১৪টি ই–কমার্স প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। প্রতিষ্ঠানগুলোর বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করছে সিআইডি। এর মধ্যে ধামাকা নামের একটি ই–কমার্স প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে চিঠি দিয়েছে সংস্থাটি। পর্যায়ক্রমে অন্যগুলোর বিষয়েও একধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

রাজধানীর ধানমন্ডির সোবহানবাগ এলাকায় ইভ্যালির কার্যালয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে গিয়ে দেখা যায়, কার্যালয়টি বন্ধ। দুটি নোটিশ ঝুলছে। অবশ্য সেগুলোতে কারও স্বাক্ষর ও তারিখ নেই। নোটিশে বলা হয়েছে, ইভ্যালির সশরীর গ্রাহকসেবা প্রদান বন্ধ থাকবে। অনলাইন গ্রাহকসেবা ও পণ্য সরবরাহ চালু থাকবে। কার্যালয়ে দায়িত্ব পালনকারী একজন নিরাপত্তা প্রহরী প্রথম আলোকে বলেন, সরকার বিধিনিষেধ শিথিল করলেও ইভ্যালির কোনো কর্মকর্তা অফিসে আসেননি। সরেজমিনে দেখা গেছে, অনেক গ্রাহক টাকা ও পণ্য না পেয়ে প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয়ে এসে ভিড় করছেন। কিন্তু অনেকক্ষণ অপেক্ষা করে তাঁদের ফিরতে হচ্ছে নিরাশ হয়ে।

তাঁদেরই একজন মো. নাজমুল হুদা। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল মাসের বিভিন্ন সময়ে এসি, মোটরসাইকেল, বৈদ্যুতিক পাখাসহ প্রায় ৫ লাখ টাকার পণ্যের ক্রয়াদেশ দিয়েছিলেন। পণ্য সরবরাহের সময় পেরিয়ে গেছে, কিন্তু এখনো একটি পণ্যও পাননি। ৪৫ কার্যদিবস পার হওয়ার পর ইভ্যালির কার্যালয়ে ষষ্ঠবারের মতো এসেছেন নাজমুল হুদা। তাঁর অভিযোগ, এরই মধ্যে ইভ্যালির কাস্টমার কেয়ারে ফোন করে কয়েক হাজার টাকা খরচ করেছেন। কোনো সমাধান পাচ্ছেন না।

ইভ্যালি কার্যালয়ে আসা গ্রাহকদের অনেকেই অভিযোগ করেছেন, তাঁরা হটলাইনে ফোন করেও কোনো সাড়া পাচ্ছেন না। এমন অভিযোগের পর ইভ্যালির কাস্টমার কেয়ারে (০৯৬৩৮১১১৬৬৬) ফোন করেন এই প্রতিবেদক। ৬ মিনিট অপেক্ষার পরও কাস্টমার কেয়ারের কারও কাছে কলটি দেওয়া হয়নি।

জানতে চাইলে ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাসেল গত রাতে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের কার্যালয় বন্ধ নেই। কলসেন্টার খোলা সকাল ৮টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত। পণ্য সরবরাহব্যবস্থাও চালু আছে। তবে করোনার কারণে কর্মীদের একটা অংশ বাসা থেকে কাজ করছেন।’ কল সেন্টারে ফোন করে কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না বলে গ্রাহকদের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, কেউ হয়তো একটা নির্দিষ্ট সময়ে কাউকে পাননি। আর এটাকেই সাধারণ বলে চালিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এটা অনুচিত।

ব্যান হচ্ছেনা পাবজি ও ফ্রি ফায়ার গেম

জনপ্রিয় ব্যাটেল রয়েল গেম, পাবজি ও ফ্রি ফায়ার বাংলাদেশে ব্যান করা নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই গুঞ্জন শোন যাচ্ছে। কিশোর এবং তরুণ সমাজের মধ্যে এটির আসক্তির সৃষ্টি করেছে বলে উল্লেখ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একজোট হয়ে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন, বিটিআরসিকে এই দুটি গেম বন্ধ করতে সুপারিশ করে।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী, মোস্তফা জব্বার বলছেন অন্য কথা। তিনি জানান যে ব্যান সম্পর্কিত কোনো তথ্য তার নজরে আসেনি। তিনি আরো জানান, “যদিও আমাদের কাছে উল্লেখিত কাজটি করার জন্য টুলস রয়েছে, আমরা নিজেরাই এই সাইটগুলি বা গেমগুলি ব্লক করতে পারি না। আমাদের অন্যান্য সরকার ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলির সুপারিশ অনুসারে কাজ করা উচিত। আমরা এখনও পর্যন্ত এরকম কোনও সুপারিশ পাইনি।”

তিনি আরো বলেন, “আজকের যুগে কোনো প্ল্যাটফর্ম ব্যান করে তেমন একটা সুবিধা হয়না। ভিপিএন ব্যবহার করে ঠিকই ব্লক করা সার্ভিস ব্যবহার করা যায়।” পাবজি ও ফ্রি ফায়ার ব্যানকে কেন্দ্র করে বেশ উদ্বিগ্ন দেশের নেটিজেনরা। এর প্রতিফলন দেখা গিয়েছে ফেসবুক ও টুইটারে প্রতিবাদস্বরূপ।

সম্প্রতি একই ইস্যুতে নেপাল ও ভারতে পাবজি গেমটি ব্যান করা হয়। তবে বাংলাদেশে পাবজি ও ফ্রি ফায়ার গেম দুটি ব্যান হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী এই ব্যাপার নিশ্চিত করেছেন যে পাবজি বা ফ্রি ফায়ার ব্যান নিয়ে করোনাকালীন কোনো মিটিং সংঘটিত হয়নি। তাই বাংলাদেশে পাবজি বা ফ্রি ফায়ার ব্যান হওয়ার খবরটি অফিসিয়ালি নিশ্চিত নয় বলে আমরা বলতে পারি।

গুগল মিট কী এবং কীভাবে ব্যবহার করতে হয়

ভিডিও কনফারেন্সিং এর ব্যবহার দিনদিন বেড়েই চলেছে। গুগল এর গুগল মিট একটি আদর্শ ভিডিও কনফারেন্স টুল। সাধারণ সব ফিচার এর পাশাপাশি বাড়তি সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে গুগল মিট অন্যসব ভিডিও কনফারেন্সিং অ্যাপ থেকে নিজেকে আলাদা করতে সক্ষম হয়েছে।

চলুন জেনে নেয়া যাক, গুগল মিট কীভাবে ব্যবহার করবেন এবং এটি আপনার ব্যবহারের ভিত্তিতে কার্যকরী সমাধান কি না।

গুগল মিট কী?

গুগল মিট হলো গুগল এর ব্যবসা-ফোকাসড ভিডিও কনফারেন্সিং টুল। গুগল মিট এর পূর্ববর্তী নাম ছিলো গুগল হ্যাংআউটস মিট। গুগল মিট এ গুগল চ্যাট ও গুগল হ্যাংআউটস এর ভিডিও চ্যাট ফিচার এর পাশাপাশি রয়েছে অংসখ্য এন্টারপ্রাইজ লেভেলের ব্যবহারযোগ্য ফিচার।

এসব এন্টারপ্রাইজ ফোকাসড ফিচারগুলো ক্ষুদ্র কিংবা বৃহৎ ব্যবসাগুলোর জন্য আদর্শ সমাধান তবে বর্তমানে গুগল মিট ব্যবসার পাশাপাশি স্কুল এর জন্যও ব্যাপক পরিমাণে ব্যবহৃত হচ্ছে। এছাড়াও জুম অ্যাপকে অনেকেই ট্রাস্টেড মনে করেন না। তাদের জন্য গুগল মিট ভিডিও কনফারেন্সিং টুল হিসেবে প্রথম পছন্দ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গুগল মিট কি ফ্রি?

কিছু লিমিটেশনসহ গুগল মিট যে কেউ বিনামূল্যে ব্যবহার করতে পারে। ফ্রিতে ব্যবহারকারীগণ সর্বোচ্চ ১০০জনকে নিয়ে একটানা ১ঘন্টার মিটিং এ অংশ নিতে পারবেন।

অন্যদিকে গুগল জি-স্যুট ব্যবহারকারীরা এই ক্ষেত্রে পাবেন বিশাল সুবিধা। জি-স্যুট ব্যবহারকারীগণ একটানা ৩০০ঘন্টা ও সর্বোচ্চ ১৫০জনকে নিয়ে একটি মিটিং এ অংশগ্রহণ করতে পারেন। এছাড়াও ডোমেস্টিক ও ইন্টারন্যাশনাল কল-ইনস ও কাস্টমার সার্ভিস সুবিধাও পাবেন জি-স্যুট ব্যবহারকারীগণ।

জি-স্যুট এন্টারপ্রাইজ ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে এই সুবিধার মাত্রা আরো বেশি। জি-স্যুট এন্টারপ্রাইজ ব্যবহারকারীগণ গুগল মিট এ একটানা ৩০০ঘন্টা ও সর্বোচ্চ ২৫০জনকে নিয়ে ভিডিও কনফারেন্সে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। থাকছে অসংখ্য এক্সট্রা ফিচারস, যেমনঃ ইন্টেলিজেন্ট নয়েস ক্যান্সেলেশন, গুগল ড্রাইভে মিটিং এর রেকর্ডিং সংরক্ষণ, সিকিউরিটি ফিচারস, ইত্যাদি।

গুগল মিট ব্যবহারের নিয়ম

গুগল এর অন্য দশটি সার্ভিস এর মত গুগল মিট ব্যবহার করাও অন্তত সহজ। অল্প কিছু সময় ব্যয় করে যে কেউই গুগল মিট সম্পর্কে বেসিক ধারণা অর্জন করতে পারে। চলুন জেনে নেয়া যাক, গুগল মিট কীভাবে ব্যবহার করতে হয়।

গুগল মিট এ মিটিং তৈরী করার নিয়ম

গুগল মিট এ মিটিং তৈরী করা অত্যন্ত সহজ। এইজন্য আপনার দরকার পড়বে একটি গুগল একাউন্ট এবং ইন্টারনেট সংযোগের। 

ব্রাউজার থেকে গুগল মিট এ মিটিং তৈরী করতেঃ

  • https://meet.google.com এ প্রবেশ করুন
  • New Meeting এ ক্লিক করুন এবং প্রদর্শিত নির্দেশনা অনুসরণ করুন
  • এছাড়াও https://meet.new লিংকে প্রবেশ করার মাধ্যমে এক ক্লিকেই নতুন মিটিং তৈরী করা যায়

জিমেইল থেকে গুগল মিট এ মিটিং তৈরী করতেঃ

  • জিমেইলে প্রবেশ করুন
  • বামদিকে থাকা মেন্যু থেকে Start A Meeting অপশনে ক্লিক করলেই নতুন মিটিং চালু হয়ে যাবে

স্মার্টফোন থেকে গুগল মিট এ মিটিং তৈরী করতেঃ

  • প্লে-স্টোর কিংবা অ্যাপ স্টোর থেকে গুগল মিট অ্যাপ ইন্সটল করুন
  • ইন্সটল এর পর অ্যাপ ওপেন করে কাঙ্খিত জিমেইল একাউন্ট দ্বারা লগিন করুন
  • New Meeting এ ক্লিক করলেই নতুন মিটিং চালু হয়ে যাবে

একটি মিটিং তৈরীর পর অটোমেটিক একটি লিংক জেনারেট হয়, যা ব্যবহার করে অন্যান্য পার্টিসিপেন্টরা মিটিং এ জয়েন করতে পারে। গুগল ক্যালেন্ডার বা জিমেইলে শিডিউল থাকা মিটিং এ ইনভাইটেড থাকা ব্যক্তিদের কাছে লিংক স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলে যাবে।

গুগল মিট এ মিটিং জয়েন করার নিয়ম

গুগল মিট এ মিটিং এ জয়েন করা দুনিয়ার সবচেয়ে সহজ কাজগুলোর মধ্যে একটি। গুগল মিট এ মিটিং এ জয়েন করতেঃ

  • অ্যাপ বা ব্রাউজার থেকে গুগল মিট এ প্রবেশ করুন
  • Start A Meeting বা New Meeting এর পাশে থাকা Join Meeting এ ক্লিক করুন
  • মিটিং কোড টাইপ করে এন্টার চাপলেই মিটিং এ জয়েন হয়ে যাবে
  • এছাড়াও হোস্টের পাঠানো মিটিং লিংক ব্যবহার করে এক ক্লিকেই মিটিং এ জয়েন করা যায়

গুগল মিট এর সেটিংস সমূহ

মিটিং তৈরী ও মিটিং এ জয়েন করার পাশাপাশি গুগল মিট এর কিছু গুরুত্বপূর্ণ সেটিংস ও কাস্টমাইজেশন সম্পর্কে জানা সকল ব্যবহারকারীর জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিছু কিছু ফিচার শুধুমাত্র জি-স্যুট ব্যবহারকারীদের জন্য হলেও, অধিকাংশ ফিচারই বিনামুল্যে ব্যবহায়ার সম্ভব।

ভিডিও কনফারেন্স এর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কীভাবে পার্টিসিপ্যান্টদের প্রদর্শিত করা হয়। একটি মিটিং এ ডিফল্টভাবে এটি Auto তে সেট করা থাকে। অর্থাৎ কতজন মিটিং এ পার্টিসিপ্যান্ট বা অংশগ্রহণ করছেন ও কথা বলছেন, তার উপর ভিত্তি করে অটোমেটিক লেআউট তৈরী হয়ে যাবে।

এই ব্যাপারটির সরাসরি কাস্টমাইজেশন করতে চাইলে, তিন ধরনের বিকল্প ব্যবস্থা রয়েছেঃ

  • টাইলডঃ ছোট ছোট টাইলে ১৬জন পার্টিসিপ্যান্টকে দেখানো হয়। বাকিদের মধ্যে কেউ যদি প্রেজেন্ট করে থাকে,তবে সাইডবারে প্রদর্শিত হয়
  • স্পটলাইটঃ শুধুমাত্র প্রেজেন্টেশন বা এক্টিভ স্পিকারকেই স্ক্রিনের দেখানো হউ
  • সাইডবারঃ প্রেজেন্টেশন বা এক্টিভ স্পিকারকে মাঝখানে রেখে পাশে ছোট ছোট টাইলসে অন্যান্য পার্টিসিপ্যান্টদের প্রদর্শিত করা হয়

এছাড়াও পার্টিসিপ্যান্ট পিন করার সুবিধাও থাকছে, যার মাধ্যমে চাইলেই নির্দিষ্ট পার্টিসিপ্যান্টকে স্ক্রিনের মাঝখানে রাখা যায়। মিটিং এর অংশগ্রহণকারী নিজেদের মাইক চাইলে মিউট করতে পারে। এছাড়াও যিনি মিটিং তৈরী করেছেন, তিনিও চাইলে যে মিটিং এ অংশগ্রহণরত যে কাউকে মিউট করতে পারেন।

গুগল মিট এর একটি সবচেয়ে অসাধারণ ফিচার হচ্ছে লাইভ ক্যাপশন। স্ক্রিনের নিচেরদিকে থাকা Turn on captions বাটন চাপলেই স্পিকার এর কথার ক্যাপশন প্রদর্শিত হবে। তবে আপাতত এই ফিচারটি শুধুমাত্র ইংরেজি ভাষাতেই ব্যবহারযোগ্য। 

গুগল মিট এ প্রেজেন্ট করার নিয়ম

ভিডিও মিটিং যোগাযোগের অসাধারণ মাধ্যম, এতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে মিটিং এ মাঝেমধ্যে সব অংশগ্রহনকারীদের কোনোকিছু দেখানোর প্রয়োজন পড়তে পারে। অন্যসব ভিডিও কনফারেন্সিং অ্যাপ এর মত মিটিং চালাকালীন গুগল মিটেও প্রেজেন্টেশন দেখানো সম্ভব। 

আপনার স্ক্রিন শেয়ার করতে স্ক্রিনের নিচের দিকে থাকা Present Now এ ক্লি করুন। চাইলে আপনি আপনার সম্পূর্ণ স্ক্রিন, একটি নির্দিষ্ট উইন্ডো বা ক্রোম ট্যাব প্রেজেন্টেশন হিসাবে দেখাতে পারবেন। আপনি যদি ভিডিও বা এনিমেশন দেখাতে চান, সেক্ষেত্রে ক্রোম ট্যাব সিলেক্ট করার পরামর্শ দেয় গুগল।

পেজের নিচের দিকে থাকা Change Source অপশনটি ব্যবহার করে আপনি অন্য ক্রোম ট্যাব প্রেজেন্ট করতে পারবেন। Stop Presenting এ ক্লিক করলে প্রেজেন্টেশন অফ হয়ে যাবে।

গুগল মিট এ চ্যাট করার নিয়ম

আপনি যদি স্ক্রিন শেয়ারিং বা কথা বলার মাধ্যমে কনফারেন্সে কলে সমস্যার সঞ্চারন না চান, সেক্ষেত্রে আপনি চ্যাট ফিচারটিও ব্যবহার করতে পারেন। উপরে ডানদিকে থাকা ছোট চ্যাট আইকনে ক্লিক করার মাধ্যমে চ্যাট করার অপশন দেখতে পাবেন৷ কোনো রিসোর্স শেয়ারিং কিংবা প্রশ্নোত্তরের ক্ষেত্রে এই চ্যাট ফিচারটি দারুণ কার্যকর।

গুগল মিট টুলস

জি-স্যুট ব্যবহারকারীগণরা গুগল মিট এ অসংখ্য প্রয়োজনীয় ফিচার ব্যবহার করতে পারেন। তবে ফ্রিতে যারা গুগল মিট ব্যবহার করেন, তারা এসব ফিচার থেকে বঞ্চিত হন।

আপনি চাইলে বিভিন্ন ক্রোম এক্সটেনশন ব্যবহার করে গুগল মিট এ বিনামূল্যে অসাধারণ সব ফিচার এড করতে পারবেন। গুগল মিট এর দরকারী ৯টি ফ্রি টুল সম্পর্কে জানুন এই লিংক থেকে।

গুগল মিট সম্পর্কে সাধারণ প্রশ্নসমূহ ও উত্তর

গুগল মিট কি আইফোন ও আইপ্যাডে কাজ করে?

উত্তরঃ হ্যাঁ, গুগল মিট আইফোন ও আইপ্যাডে কাজ করে। অ্যাপ স্টোর থেকে গুগল মিট অ্যাপ ডাউনলোড করে যেকেউ আইফোন ও আইপ্যাডেও গুগল মিট ব্যবহার করতে পারবেন।

গুগল মিট ও গুগল হ্যাংআউটস কি একই? গুগল ডুয়ো এর সাথে সেবা দুটির কোনো সম্পর্ক আছে কি?

উত্তরঃ বর্তমানে গুগল এর তরফ থেকে আসা প্রধান ভিডিও কনফারেন্সিং অ্যাপ হলো গুগল মিট। গুগল হ্যাংআউটস কে ইতিমধ্যেই বাদ করে দিয়েছে গুগল। অন্যদিকে গুগল ডুয়ো হলো মেসেঞ্জার বা হোয়াটসঅ্যাপ এর মতো চ্যাটিং ও ভিডিও কলিং অ্যাপ।

গুগল মিট এর মিটিং কি রেকর্ড করা যায়?

উত্তরঃ শুধুমাত্র জি-স্যুট এন্টারপ্রাইজ ও এন্টারপ্রাইজ ফর এডুকেশন ব্যবহারকারীগণ গুগল মিট এ মিটিং রেকর্ড করতে পারবেন। রেকর্ডিংসমূহ স্বয়ংক্রিয়ভাবে গুগল ড্রাইভে সংরক্ষিত হয়।

গুগল মিট কি নিরাপদ ও সুরক্ষিত?

উত্তরঃ কম্পিউটার ও মোবাইল, উভয় প্ল্যাটফর্মেই গুগল মিট এর মিটিংসমূহ এনক্রিপটেড থাকে। সুতরাং, গুগল মিটকে নিরাপদ ও সুরক্ষিত বলা যায়। মিটিং বোম্বিং এর মত ঘটনা প্রতিরোধে গুগল মিট এর মিটিং এ পাসওয়ার্ড ও সেট করা যায়।


Post navigation